পুলিশ

চিত্তরঞ্জনে খুনের মামলায় ধৃত ৩

কাজল মিত্র

গত  শুক্রবার সন্ধেবেলায়  চিত্তরঞ্জন এলাকার তৃণমূল কর্মী বলরাম সিংহ (৩৮)গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ চিত্তরঞ্জন থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থাকে । পুলিশি সুত্রে জানা যায়, গত  শুক্রবার সন্ধ্যায় মালবহালের বাসিন্দা তৃণমূলের এক সক্রিয় কর্মী বলরাম সিং (৩৮) চিত্তরঞ্জন কারখানায় এক ঠিকাদার এর কাজ করতেন। সেখানে চিত্তরঞ্জন এর বিভিন্ন পুরোন যন্ত্রপাতি নিলাম প্রক্রিয়াই কেনাবেচা করতেন।গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৫ টার সময় জিএসডি গেটের থেকে তার হলুদ রঙের স্কুটিতে করে কারখানা থেকে যাবার সময়  জিএসডিপি গেট থেকে কিছুটা দূরেই তাকে গুলিকরা হয়। এর ফলে গুলিটি তার বুকে এবং কপালে লাগে।  বলরাম ঘটনাস্থলেই মারা যান।ঘটনার খবর পেয়ে  রেলওয়ে পুলিশ এবং চিত্তরঞ্জন থানা পুলিশ আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসপি (পশ্চিম) শতাব্দ্র চন্দ্র সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ।তবে পুলিশ যখন বলরাম সিংয়ের মৃতদেহ চিত্তরঞ্জন কস্তুরবাগান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের  বাম কানে এবং বুকের পাঁজরে গুলি করা হয়েছিল।স্থানীয়রা  পুলিশ জানিয়েছে –  যেহেতু প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না, তাই ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা বলা সম্ভব হয়নি।তবে  একটি স্কুটি উদ্ধার করা হয়েছে যেটি ফটিক চন্দ্র দত্তের নামে রয়েছে ।এই ঘটনার খবর পেয়ে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে পৌঁছায় তৃণমূলের যুবনেতা মুকুল উপাধ্যায় ও সালানপুর ব্লকের তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ভোলা সিং ও বহু তৃণমূলের কর্মীবৃন্দ।মুকুল উপাধ্যায়ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন,-“চিত্তরঞ্জনের মতো নিরাপদ শহরে চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসনের আরপিএফ  প্রহরী থাকা সত্ত্বেও সর্বদা কিছু না কিছু ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই রেল এর আরপিএফ রা শুধু  তিন নম্বর গেট এবং একনম্বর গেট থেকে লোকদের কাছ থেকে টাকা নিতেই ব্যাস্ত, তারা গরীব সবজিওয়ালা,দুধ ওয়ালা ও মাছ ওয়ালা সবার কাছ থেকেই গেটে প্রবেশ করতে গেলেই  ভয় দেখিয়ে জোর করে টাকা নেই।আর এদিকে চিত্তরঞ্জন শহরের সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা হীন বোধ করছে আর আতঙ্কের সাথে দিন কাটাচ্ছে”।তিনি বলেন -“যদি এই বলরামের হত্যাকারী ধরা না পড়ে তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব”।ঘটনার রাতেই বলরামের পরিবার চিত্তরঞ্জন থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করেন।  বলরামের বাবা-মা, দাদা-দাদি, স্ত্রী এবং একটি পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছেন ।সকলেই আছড়া পঞ্চায়েতের মালবহালে বসবাস করেন ।বলরামের বাবা ওমপ্রকাশ সিং চিত্তরঞ্জন কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন ।বলরামের বাভা জানায় – “আমার ছেলে একবছর আগেই আমাকে কিডনি দান করেছে ।আর তাকে যারা গুলি করেছে তাদের শাস্তির দাবী করছি” ।এসম্পর্কে আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশ কুমার জৈন জানিয়েছেন,’ ঘটনার বিস্তৃত তদন্ত চলছে’।তবে চিত্তরঞ্জন পুলিশ শুক্রবার রাতেও একটি অভিযান চালিয়ে রাহুল কুমার সিং, মুকেশ বাল্মিকি এবং অজয় ​​মণ্ডল ওরফে (গাঙ্গু) নামে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে অজয় মণ্ডল চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় ওয়াকসেন কাজ করেন এবং মুকেশ বাল্মীকি অজয় মণ্ডলের কর্মী কিন্তু রাহুল সিং নামক ব্যাক্তিটি চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় কর্মী।পুলিশের অনুমান ব্যাবসা ক্ষেত্রে বলরাম সিং কে হত্যা করা হয়েছে।তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর এই তিনজনকে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ আসানসোল জেলা আদালতে  পাঠায়।চিত্তরঞ্জন পুলিশের তরফে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *