পূর্বস্থলীর চুনো কালিপুজো

ক্রীড়া সংস্কৃতি

শ্যামল রায়,

জলাশয় সংরক্ষণ আর চুনো মাছের বংশবিস্তার রক্ষা করার তাগিদ নিয়ে রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ১৮ বছর ধরে চুনো বা বিলে কালীর পুজো করে আসছেন।মঙ্গলবার সকাল থেকে ঠায় পুজো মন্ডবে তদারকির দায়িত্বে ছিলেন স্বপন দেবনাথ নিজেই। সেই সাথে তার কর্মীসমর্থকরা সকলেই উপস্থিত ছিলেন পূজাপ্রাঙ্গনে। পুজো ঘিরে এলাকা বাসীর যোগদান ভীষণভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে চুনো বা বিলে কালীর পুজো হয়ে থাকে।কালির নাম চুনো বা বিলে কালী কেন?এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন যে এই এলাকায় দুটো বড় ধরনের বিল রয়েছে। বিল দুটি সংস্কার না হবার কারণে চুনো মাছ বংশবিস্তার করতে পারছিল না। এছাড়াও বর্তমানে চুনো মাছের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। রয়েছে এলাকায় কয়েক শ মৎস্যজীবী। তাই তিনি 18 বছর আগে একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কর্ম চাঞ্চল্য ব্যক্তিত্ব স্বপন দেবনাথ নিজের উদ্যোগে দুটি বিল সংস্কার এবং চুনো মাছ সংরক্ষণের কথা ভেবে শুরু করেন বা বিলে কালীর পুজো। সেই সময় আজকের পুজো মন্ডব যেভাবে তৈরি হয়েছে ১৮ বছর আগে এখানে ছিল গভীরতম খাল ।প্রচুর মাটি ফেলে আজ জায়গা অনেকটা বাড়ানো হয়েছে পাশাপাশি খাল দুটি সংস্কার করে চুনো মাছের চাষ চলছে অবাধে। স্থানীয় বহু মৎস্য চাষিরা মাছ চাষ করে তাদের সংসারে হাসি ফুটিয়েছেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ আরো জানিয়েছে যে খাল-বিল ও চুনো মাছ বাছা ও উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এখানে। 
কালীপুজোর শেষেই শুরু হয়ে যাবে ডিসেম্বরে খাল-বিল বাঁচাও চুনো মাছ উৎসব।এই চাঁদের বিল ঘিরে এই ধরনের চুনো বা বিলিয়ে খালি পুজো ঘিরে এলাকার বহু মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং নিজেরা প্রসাদ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার গরিব অসহায় লোকজনদের মধ্যে নতুন বস্ত্র বিতরণ করেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এবং বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।রাতে এবং সকালে পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে হাজার হাজার লোকের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।তাই জগদানন্দপুর এর লোহার ব্রিজে চূর্ণ বা বিলে কালী পুজো ঘিরে প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য নিয়ো। মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে চুনো কালী মাকে অঞ্জলি দেন এবং সমস্ত রকম তদারকি মধ্যে দিয়ে নিষ্ঠা সহকারে কালী মা কে শ্রদ্ধা সহ ভক্তি সহকারে পূজো দেন। তাই চুনো বা বিলিয়ে কালী ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে একটা  নিষ্ঠা ভক্তি দেখা যায়। কালী মায়ের পূজো করার উদ্দেশ্য একটাই জলাশয় রক্ষা করা এবং চুনো মাছের বংশবিস্তার করার স্বপ্ন নিয়েই মায়ের প্রতি আশা রেখে এই পুজো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.