শ্যামল রায়ের হাতেগরম বেশকিছু কবিতা

সাহিত্য বার্তা

আজকাল কে আপন কে পর,

শ্যামল রায় নবদ্বীপ,

আজকাল কে আপন কে পর
বুঝতে পারাটা বড় দায়
শর্ত থাকলে পর ও আপন
শর্ত না থাকলে আপন ও পর।
এ যেন এক অবাক সমাজ
সবাই সবাইকেই বুঝি
শুধুই আছে লাজ।
কে আপন কে পর
আজও বুঝতে পারিনি
অথচ সব কাজ চলছে
শর্ত জুড়ে হিসেব-নিকেশে
একটু বুঝতে গেলেই গোলমাল
দ্বন্দ্ব-বিভেদ বন্ধ মুখ দেখাদেখি।
এ যেন এক অবাক সমাজ
বলার নেই তো কিছু
সত্যের কাছে লোকের ভিড় নেই
মিথ্যে জুড়ে মাছির দল
দেখতে সুন্দরী হলে
অভাব নেই স্বামী ছাড়া বেঁচে থাকা।
এ এক অবাক সমাজ
শুধুই একাকিত্বের সুন্দরতা
সার্বজনীন জাহান্নামে যাক
আমি যেন রাজার রাজা
কে আপন কে পর বোঝা বড় দায়।
মা ছেলে খুনোখুনি
ভাই ভাই এ রক্তপাত
প্রেমিকার হাতে প্রেমিক খুন
পুলিশ শুধুই করছে মিথ্যা মামলা রুজু।
এ যেন এক অবাক সমাজ
কে আপন কে পর
শর্ত থাকলেই পর আপন
আপনজন হয়ে যায় পর।

দ্বিতীয় কবিতা –

সবটাই আমার দায়
স্বামী পরকীয়া প্রেমে হাবুডুবু
প্রতিবাদে স্ত্রী খান মারধর
নিজেও তখন হতাশ হয়ে
জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়।
জর্জরিত জটিলতায়
স্বামী কিংবা স্ত্রী
সকলেই এখন দোষে দোষী
লুটছে মজা সকলেই।
চোখ খুলে বুঝতে গেলে ই
জানতে গেলে চোখ হবে চড়কগাছ
এক স্বামীর একাধিক প্রেমিকা
একই স্ত্রীর রয়েছেন একাধিক প্রেমিক
বলবে কে কাকে
এ যেন এক অবাক সমাজ
উচ্চ আদালতের রায় খুশির হাওয়া
ছাড়পত্র পেয়ে
বাড়িতে এখন মিলছেনা পরিচারিকা
কষ্ট কেয়ার করে
একটুখানি রোমান্টিক হলেই
মাস মাইনে মেলে
সুন্দরী হলে বাড়ি গাড়ি
থাকবে নাকো অভাব জন্ত্রণা
এ এক অবাক সমাজে
চলছে ভালোই বেশ।
শিক্ষিত হয়ে চাকরি মেলে না
রাজনীতি করলে হয়
টাকা থাকলে কথাই নেই
নাটা হয় হ্যাঁ
এ এক অবাক সমাজ
অনেকে বলবেন আছি তো বেশ
অভাবটা আমাদের কিসের?
গ্যাসের দাম হাজার টাকা
ডিজেল পেট্রোল
আকাশ ছোঁয়া
তবুও আমরা বেশ আছি ভালো আছি——
নেই তো অভাব অনটন।
ফুটপাতের শিশুটিও
আনন্দে মাতো হারা
মাঝেমধ্যে কিছু পেলেই
সে হয়ে যাই আত্মহারা।
এ এক অবাক সমাজ
ঘূর্ণিপাকে বেশ
জোনাকিরা সব রাতের বেলায়
দিচ্ছে আলো বেশ
আমরা সব ভালই আছি
জোনাকির আলোয় বেশ।

তৃতীয় কবিতা-

তুমি কি ভাবলে না
তুমি কি ভাবলে না
অসুস্থ বাবার পাশে
দাঁড়িয়ে ছিল যে
রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালো
টাকা দিল ওষুধের
তুমি কি ভাবলে না
প্রতিদিনের বাজার খরচা
হাতে গুজে দিল যে
উৎসব-পার্বণে
নতুন কিছু কিনে দিল যে
সেই তো তোমার আপনজন
ভুলেই গেলে
ভাবলে না একটুও
নিজেই রাখলে জেদ।
একটুও ভাবনায় এলো না
যে তোমাকে রেখেছে অটুট বন্ধনে
যে তোমাকে দেখেছে ভালোয় ভালো করে
তাকে তুমি কতটুকু দিয়েছো
সত্যের কাছে সোহাগ
এটাই সত্য যারা করে
এটাই সত্য যারা পাশে দাঁড়ায়
তাদেরকেই তাড়াতাড়ি
ভুলে যায়
এখনকার মানুষ জন।

চতুর্থ কবিতা-

ঘুম আসছে না
আজকাল আর ঠিকমতো ঘুম আসে না
আজকাল আর ঠিকমতো থানায় ডাল কিংবা ভাত
পরছে না
আজকাল
নড়বড়ে শিকড় টাও
দুর্বল জেনেও
নিজেকে ভেবে নিয়েছে শক্তপোক্ত।
আজকাল রক্তপাতে ও
সজাগ হচ্ছি না আমরা
সবেতেই যেন গোলমাল
টাকা পয়সায় মিটমাট‌।
হ্যাঁ ঘাড়ে না
আর নার ঘাড়এ হ্যাঁ
প্রজাপতি দেখে হাসি খুশি
শুধুই মিথ্যা অভিনয়
এখন এসবেতেই মজার নাটক
শুধুই বাঁচতে হবে তাই।

(কবিতা গুলোর জন্ম 29 অক্টোবর 2018)

Leave a Reply

Your email address will not be published.