রাজনীতি

পৌষমেলার মাঠে সেক্স চক্র নিয়ে নরেন জানালেন – মা বোনেদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা

খায়রুল আনাম

 মা-বোনেদের সম্ভ্রমে আঘাত করেছেন অগ্নিমিত্রা :  নরেন
         
শান্তিনিকেতনের  পূর্বপল্লির পৌষমেলার মাঠ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ইঁটের পাঁচিল দিয়ে ঘিরতে যাওয়ার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ১৭ আগস্ট কয়েক হাজার মানুষ ওই মাঠে গিয়ে তা যে শুধুমাত্র বন্ধ করে দিয়েছেন তাই নয়, ওই দিন পে-লোডার দিয়ে গুঁঁড়িয়ে দেওয়া হয় পৌষমেলা মাঠের একটি সুদৃশ্য ফটকও। ভেঙে দেওয়া হয় মাঠের মধ্যে তৈরী করা একটি অস্থায়ী মঞ্চ।  লুঠ হয়ে যায় পাঁচিল দেওয়ার জন্য মজুত করা কয়েকশো বস্তা সিমেন্ট।  তারপর থেকেই এ নিয়ে দেশে-বিদেশে  শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক।   পাঁচিল দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে তর্জাও। যাতে ইতিমধ্যেই চলে এসেছে রাজনৈতিক রঙ ও পতাকা।  ২৮ আগস্ট পৌষমেলার মাঠ পরিদর্শন করে, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পাঁচিল দিয়ে মাঠ ঘেরার কাজকে সমর্থন করে বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন যে, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সময় যে পরিবেশ ছিলো, এখন আর তা নেই। এই মাঠে এখন  গাঁজা আর সেক্স  রেকেট কাজ করছে। আর সে জন্য এই মাঠ কেন পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।      অগ্নিমিত্রা পালের ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। শনিবার ২৯ আগস্ট বোলপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে অগ্নিমিত্রা পালের ওই মন্তব্যকে দায়িত্ব জ্ঞানহীন, অবিবেচক বলে দাবি করে সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির  সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, তাঁর ওই মন্তব্য  মা-বোনেদের সম্ভ্রমে আঘাত করেছে। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের ভাবনা, জীবন দর্শন কোনও কিছুকেই সীমিতি গণ্ডির মধ্যে বাঁধা যায় না। পৌষমেলার মাঠ এমন এক উদার প্রাঙ্গন, যেখানে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত ভাবনা, চিন্তারই প্রতিফলন ঘটে। সেই মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘেরার অপচেষ্টা হলে তাঁরা তা প্রতিহত করবেন। উন্মুক্ত প্রকৃতির নীচে বসে  রবীন্দ্রনাথ যে শিক্ষাভাবনা থেকে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে রবীন্দ্র ভাবনাকেই আঘাত করা হচ্ছে। রবীন্দ্র ঐতিহ্য বহনকারী বিশ্বভারতীর পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।   বিশ্বভারতীর উপাচার্য রবীন্দ্রনাথকে  ‘বহিরাগত’  বলে  মন্তব্য করে সমস্ত রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষের ভাবাবেগকেও চরম অপমানিত করেছেন।  এজন্য  বিশ্বভারতীর উপাচার্যের প্রকাশ্যে সকলের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ।  রবীন্দ্র ঐতিহ্যের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণে রেখে মুক্ত মনে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সকল পক্ষকেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতেও তিনি এদিন আহ্বান জানান।। 
 ছবি : সাংবাদিক সম্মেলনে নরেন চট্টোপাধ্যায় ।।                 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *