মামলা চলাকালীন বৃদ্ধের মৃত্যু, বড় ছেলের আবেদনে গ্রেপ্তারের মুখে সস্ত্রীক ছোট ছেলে 

মুকুল বিশ্বাস,

চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর এজলাসে এক প্রবীণ ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরবর্তীতে অভিযুক্ত ছেলে ও তার স্ত্রী কে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলো আদালত। বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর পর বড় ছেলের দাখিল  মামলায় ছোট ছেলে ও বৌমার জামিন খারিজ করলো  কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত ছেলে ও বৌমাকে নিম্নআদালতে দ্রুত আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী। এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশকে।  চলতি সপ্তাহে এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট ।আদালত সূত্রে প্রকাশ , বারাসাত সরোজ পার্কে নিজের বাড়িতে একা থাকতেন বছর সাতাত্তরের মণীন্দ্রনাথ সান্যাল। স্ত্রীর মৃ্ত্যু হয়েছে ১৪ বছর আগে। পেশায় বিজ্ঞানী বড় ছেলে মৃণ্ময় সান্যাল আমেরিকা থাকেন। বৃদ্ধের ছোট ছেলে ও বৌমা থাকেন বারুইপুরে। বছরখানেক আগে বৃদ্ধ অভিযোগ করেছিলেন, -‘ ছোট ছেলে ও বৌমা সম্পত্তির জন্য তার উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। বারুইপুর থেকে তারা এসে তার ঘর থেকে জিনিস পত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তার সই জাল করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে’ । এ নিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বারাসাত থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বৃদ্ধ। তার পরিপ্রেক্ষিতে ছোট ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে চুরি, হুমকি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।  ওই মাসেই বারাসাত আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। জামিন পাওয়ার পর থেকে বৃদ্ধের উপর তার ছেলে বৌমা অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন  বৃদ্ধ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বারাসাত থানায় ফের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। মারধর সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ওই মাসেই বারাসাত আদালত থেকে দ্বিতীয় দফায় জামিন পায় অভিযুক্তরা। এরপর ছেলে বৌমার অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন  বৃদ্ধ। অভিযুক্ত ছেলে বৌমাকে বৃদ্ধের বাড়িতে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে  থাকে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশও অমান্য করে বৃদ্ধের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাওয়া হতে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি পুলিশ অফিসারদেরও হেনস্থার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ছেলে বৌমার বিরুদ্ধে। এরপর তাদের জামিন নাকচের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন  বৃদ্ধ। মামলা চলাকালীনই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমেরিকা থেকে ফিরে আসেন তার বড় ছেলে মৃণ্ময় সান্যাল। ছোট ভাই ও বৌমা তাকেও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাইকোর্টে বাবার মামলার রাশ ধরেন তিনি। বাবার উপর অত্যাচারের সুবিচারের জন্য হাইকোর্টে তিনি মামলা চালাতে থাকেন। শুনানীতে মামলার কেস ডায়রি সহ তদন্তকারী অফিসারকে আদালতে তলব করেছিলেন বিচারপতি বিবেক চৌধূরী। বিচারপতি জানিয়ে দেন, -‘ জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের আচরণ  সন্তোষজনক নয়’। তাদের জামিন বাতিলের নির্দেশ দেন তিনি। এই রায় প্রসঙ্গে মামলাকারীর আইনজীবী রুদ্রপ্রসাদ সিনহা ও শাইলা আফরিন বলেন, -‘ মূল মামলাকারীর মৃত্যু হলেও তাঁর ছেলের লড়াইতে তিনি সুবিচার পেলেন। এই নির্দেশ বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে তুলবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.