দুঃস্হদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রানাঘাট লায়ন্স ক্লাব,

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

    সেবার জগতে সম্ভ্রম জাগানো নাম হলো লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল। এটি  একটি অরাজনৈতিক দাতব্য সেবামূলক সংগঠন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিশেষ করে চক্ষু পরীক্ষা শিবির , রক্তদান শিবির, বস্ত্রদান থেকে শুরু করে সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে থাকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অবাধ বিচরণ। সেটা আফ্রিকা বা সিরিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা হতেই পারে। ১৯১৬ সালে মেলভিন জন্স কর্তৃক শিকাগোতে প্রতিষ্ঠত হলেও মোটামুটি ২০১৭ সাল থেকেই এটি আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে সারাবিশ্বের দুই শতাধিক দেশে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কার্যালয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংস্হার কর্মকাণ্ড। 

     ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গড়ে উঠেছে এই সংস্হার কার্যালয়। এরকমই একটি কার্যালয় আছে নদীয়া জেলার রানাঘাটে। লায়ন্স ক্লাব অব রানাঘাট ওয়েস্ট শাখার উদ্যোগে এবং পশ্চিম মঙ্গলকোটের পালিমগ্রাম অঞ্চলে অবস্হিত একটি বেসরকারি ইঁট ভাঁটার সক্রিয় সহযোগিতায় ২৩ শে মার্চ ভাঁটা চত্বরে আয়োজিত এক 'সার্ভিস মেলা'-য় আট শতাধিক দুস্থ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় বস্ত্র। এদের মধ্যে চারশত জন ছিল পুরুষ ও সমসংখ্যক মহিলা এবং তারা মূলত পালিগ্রাম ও চাণক অঞ্চলের বাসিন্দা। পুরুষদের  দেওয়া হয় লুঙ্গি ও মশারি এবং মহিলাদের দেওয়া হয় শাড়ি ও গামছা। এছাড়াও বেশ কয়েকজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রাচ, ট্রাই-সাইকেল এবং গণপুরের একটি ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্ট্রেচার। একইসঙ্গে সংস্হার পক্ষ থেকে দুস্থ মানুষগুলির জন্য মধ্যাহ্নকালীন আহারের ব্যবস্হাও করা হয় । 

      অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেলা আহ্বায়ক মনোজ আগরওয়াল, প্রথম সহ সভাপতি অনুপ সাহা, অনিমেষ ঘোষ, অনন্ত বিশাল এবং মূলত যিনি এখানে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য অনুঘটকের কাজ করেন সেই ধীরা সাহা। অন্যদিকে ভাঁটার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভাঁটার কর্ণধার কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জ্জী (বাবু), তৃপ্তি চ্যাটার্জ্জী, দেবায়ন চ্যাটার্জ্জী সহ ভাঁটার প্রতিটি কর্মী এবং গণপুর ক্লাবের সভাপতি জনার্দন জ্যোতি, কাশীনাথ পাল, অনিমেষ মুখার্জ্জী সহ প্রায় সকল সদস্য। তারাই স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে উপভোক্তাদের হাতে জিনিসগুলো তুলে দেয়। এছাড়াও ছিলেন সমাজসেবক হিসাবে সুপরিচিত মল্লিকা চোংদার, রহিম সেখ (খোকন) সহ বেশ কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তি।

       ভাঁটার কর্ণধার কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জ্জীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুপ বাবু বলেন - মূলত উনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা এখানে এসেছি। এমনিতেই আমরা সারাবছর মানুষের পাশে থাকি। প্রথমবারের জন্য  এখানে এসে আমাদের খুব ভাল লাগছে। ভবিষ্যতেও তিনি এখানে অন্য ধরনের সেবামূলক কাজ নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সবার সাহায্য প্রার্থনা করেন।

          যার উদ্যোগে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন সেই কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জ্জী, এলাকার মানুষের কাছে তিনি বাবু চ্যাটার্জ্জী নামে বেশি পরিচিত, বললেন - বাবার কর্মসূত্রে আমার প্রথম জীবন রানাঘাটে কেটেছে। গণপুর আমার পিতৃভূমি। ব্যক্তিগত ভাবে যতটা সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তবে যেভাবে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে রানাঘাট লায়ন্স ক্লাব এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে ক্লাব সভাপতি সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশাকরি ভবিষ্যতেও তারা আমার ডাকে সাড়া দেবে। অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য এলাকাবাসীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গণপুর ক্লাবটির সদস্যদের প্রতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.