প্রশাসন

বিশ্বভারতী কে রাজ্যের সাথে সমন্বয় রেখে চলার নির্দেশ কেন্দ্রের

খায়রুল আনাম (সম্পাদক – আয়না টেলি নিউজ)

 বিশ্বভারতীকে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার নির্দেশ  কেন্দ্রের
           
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার মাঠকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বিতর্কে জড়িয়েছে তাতে, যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষমহল।  বিশ্বভারতীর রেক্টর তথা রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বোলপুর মহকুমা শাসকের দফতরের সভাকক্ষে ১৯ আগস্ট সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও আলোচনা করার জন্য যে সভার আয়োজন করেছিলেন,  তাতে যোগ দেয়নি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে  উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বভারতীতেই আলোচনায় বসার কথা জানানো হয়েছে। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু অবশ্য জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ওই সভা ডাকা হয়েছিল। আর সে জন্যই তা সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকের দফতরের সভাকক্ষে ডাকা হয়েছিল। ইতিপূর্বে তাঁরা বিশ্বভারতীর পৌষমেলা, বসন্তোৎসব নিয়ে ডাকা সভায় সেখানে গিয়েই বৈঠক করেছেন। কিন্তু এই বৈঠকটি রাজ্য সরকারের হওয়ায় তা সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকের দফতরেই করা হয়েছে।তবে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে  যে ভাবে হামলা, ভাঙচুর  ও সম্পত্তির নষ্ট করা হয়েছে তাতে,  যথেষ্ট  উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ মহল।    আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার  কথা বলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজ্যেরই বিষয়। তাই,  কেন্দ্রের এই নির্দেশ বলেই মনে করা হচ্ছে।  আবার পাঁচিল দেওয়া নিয়ে অশান্তির কথা বলা হলেও, পৌষমেলার মাঠ যে ইঁটের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হচ্ছিল না তাও এবার  প্রচারে নিয়ে আসছে বিশ্বভারতী। বলা হচ্ছে, নিরাপত্তার প্রয়োজনেই এই মাঠকে ফেন্সিং করে ঘেরা হচ্ছিল। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্বভারতী বন্ধ থাকছে বলেও জানিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞপ্তি  দিয়ে।          এই পরিস্থিতিতেই এবার বিশ্বভারতীর কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রীদের একাংশ শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ইমেল পাঠিয়ে বিশ্বভারতীর কাছ থেকে জানতে চেয়েছে,  সামগ্রীক পরিস্থিতি। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা যায়,  সাত  দিন বন্ধ থাকবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।  তারপর নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে  সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এদিকে বিশ্বভারতীর উপরে যে হামলা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিশ্বভারতীর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে ইডি। আজ শনিবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ইডি-কে তার জবাব দেবে বলে জানা গিয়েছে।          এদিকে বিশ্বভারতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন  লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা।  কবি শঙ্খ ঘোষ, মনোজ মিত্র,  কৌশিক সেন, রুদ্রপ্রসাদ  সেনগুপ্ত, তরুণ মজুমদার,  বিভাস চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, সব্যসাচী চক্রবর্তী, ওয়াসিম কাপুর প্রমুখ  এক খোলা আবেদনে সদর্থক, সংবেদনশীল ও অবিচল পক্ষপাতহীনতা থেকে বিশ্বভারতীতে এই বেদনাদায়ক পরিবেশের অবসান চেয়েছেন। তাঁরা  উপযুক্ত ঐকমত্য ও সহযোগিতার প্রস্তুতি ছাড়া  বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সীমানা প্রাচীর  তৈরীর  উদ্যোও ও তার জেরে অরাজক অচলাবস্থারও নিন্দা করেছেন। সেইসাথে তাঁরা উল্লেখও করেছেন যে,  বিশ্বকবির  আশ্রম  রাজনীতির কাদামাখা  কুস্তির আখড়ায়  পরিণত হয়েছে। বহুদিনের  ঐতিহ্যবাহিত স্মৃতি, শান্তিনিকেতনের  সুষমা ও বিশ্বভারতীর  শিক্ষা সমূলে নষ্ট হতে বসেছে। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি আমাদের উদ্বিগ্ন ও  বিচলিত করে তুলেছে ।।   
 ছবি : পঠনপাঠনের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে পড়ুয়ারা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *