প্রশাসন

কাঞ্চননগরের শ্যামলী মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য এনেছে

সুরজ প্রসাদ

মাটির দাওয়া,আজবেস্টারের চাল আর টিনের ঘেরাটোপে মধ্যে দুটো কুঠুরি। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার মধ্যে সফল বাড়ির মেনে শ্যামলী মণ্ডল। মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নাম্বার ৬১১। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনার ইচ্ছা থাকলেও প্রধান বাধা আর্থিক অনটন। তাই আশা ছেড়ে ভূগোলের মাষ্টার নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেছে সে।
বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর খর্গেশ্বরপল্লীর দামোদরের বাঁধের ধারে বাস শ্যামলীর।বাব বিষ্ণুপদ মণ্ডল দিনমজুর। মা শেফালি মণ্ডল গৃহবধূ। বাড়ি জুড়ে দারীদ্রতার চাপ স্পষ্ট। মাটির উঠান, বাঁশের বেড়া দেওয়া বারান্দা, টিন দিয়ে ঘেরা দুটি ঘর আর মাথায় আজবেস্টার। বাড়িতে আসবাব বলতে বিশেষ কিছুই নেই। লকডাউনের তিনমাস সেভাবে কাজ হয়নি বিষ্ণুবাবুর। বাড়িতে চরম টানাটানি। তার মধ্যেই এগিয়ে গেছে শ্যামলী। কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। বুধবার সকালে চমকে দেওয়ার মত ফল শ্যামলীর। সাতশোর মধ্যে তার প্রাপ্ত নাম্বার ৬১১। অঙ্কে ৯৮, ভূগোলে ৯৭। ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়েই আটের ঘরে নাম্বার। কিভাবে এলো এই সাফল্য। মাটির ঘরের দাওয়ায় বসে শ্যামলী জানায়, বাড়িতে মায়ের সঙ্গে হাতেহাতে কাজে সাহায্য ছাড়া বাকি সময়ে পড়াশুনা নিয়েই থাকতাম। স্কুলের টিচার সহ বাবা মা সকলেই পড়াশুনার জন্য উৎসাহ দিতেন। তাঁদের সকলের উৎসাহতেই এই সাফল্য। শ্যামলীর মা শেফালী জানায়, স্কুলের শিক্ষকরা শুধু পড়াশুনা নয়, আর্থিকভাবেও পাশে দাঁড়িয়েছিল।
শ্যামলী জানায়, তার দুটি প্রাইভেট টিউশন ছিল। বাকি সাহায্য পেয়েছি স্কুলের শিক্ষকদের কাছে।স্কুলেই গান শিখেছি। আগামীদিনে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা ছিল। প্রাণীবিদ্যা বিষয় তার খুব ভালো লাগে। কিন্তু বাড়ির যে আর্থিক পরিস্থিতি তাতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়া যাবেনা। তাই আশা ছেড়ে ভূগোল নিয়ে পড়াশুনা করার কথা চিন্তা করে ওই বিষয়ের মাষ্টার নিয়েছি। শ্যামলীর বাবা জানায়, তিনমাস কাজ নেই। বাকি সময়েও কাজ নিয়ে নিশ্চয়তা থাকে না। তাই মেয়েকে বলে দিয়েছি বিজ্ঞান নিয়ে পড়াতে পারব না। কেউ যদি সাহায্য করেন ভালো নাহলে কপালে যা আছে তাই হবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জানান, শ্যামলী শুধু পড়াশুনা নয়। ভালো গান করে, ক্যুইজ করে। গান ও ক্যুইজে বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরষ্কার পেয়েছে। স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্য হিসাবেও অনেক কাজ করেছে সে। ওর আরও ভালো ফলাফল আশা করেছিলাম। আগামীদিনে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে ওর যেন কোন সমস্যা না হয়য়, সেই বিষয়টি আমরা দেখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *