প্রশাসন

ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুক সরকার, চাইছে তারাপীঠ

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা)

 

ফুল সংরক্ষণের সুবিধা চাইছে তারাপীঠ
         
করোনা আবহের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বত্রই এখন আর্থিক  সঙ্কট প্রকট হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই জীবিকায় টান পড়ছে সাধারণ মানুষের।  যা থেকে বাদ যাচ্ছেন না রাজ্যের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠের আশপাশের অঞ্চলের ফুল চাষিরা।  কেননা, তারাপীঠ মন্দির খোলা থাকলে এখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটতো।  মা তারার বিশেষ পুজো ও তিথিতে তারাপীঠে সমাগম  ঘটতো কয়েক লক্ষ মানুষের।       করোনার কারণে অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রের মতো তারাপীঠেও মা তারার মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে সাধারণের জন্য। মাঝে কয়েক দিন তারাপীঠের মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য খুলেও দেওয়া হয়। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে মন্দিরে প্রবেশে ছাড়পত্রও মেলে। কিন্তু তারফলে দেখা যায়, মন্দিরে ভক্তদের ভীড় এমনই মাত্রাছাড়া হয় যে, সেই ভীড় আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। এমন কী, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে বিভিন্ন জায়গা থেকেই ভক্তরা এখানে আসতে শুরু করেন। যারফলে সামাজিক দূরত্ববিধি প্রায় ভেঙে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে তারাপীঠ মন্দির কমিটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন মন্দিরের দরজা। মায়ের নিত্য পুজো অবশ্য যথারীতি হচ্ছে মন্দিরে।        কিন্তু মন্দির বন্ধ থাকার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন এখানকার সেবাইত, ছড়িদার, পূজারী আর ভিক্ষাজীবিরা। সাধুসন্ন্যাসীদের অনেকেই তারাপীঠ ছেড়ে চলে গিয়েছেন অন্যত্র।   আর এই পরিস্থিতিতে চরম সঙ্কটে পড়েছেন এখানকার ফুল চাষিরা। মা তারার চরণে পুজো দেওয়ার জন্য এখানে জবা, নীল অপরাজিতা, পদ্ম, করবী ফুলই নিবেদন করা হয়ে থাকে। তারাপীঠ সংলগ্ন  তারাপুর, ঘোষগ্রাম, উদয়পুর, বেজুরি, গোপালপুর, কড়কড়িয়া,  বরশাল, ফুলিডাঙা প্রভৃতি গ্রামে এইসব ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এক সময় হাওড়া থেকে তারাপীঠে পুজোর ফুল আসতো। কিন্তু তারাপীঠে ভক্ত সমাগম বাড়তে থাকায় এখানে ফুলের চাহিদাও উত্তরোত্তর বাড়তে থাকায় ওই সব গ্রামের বহু চাষি আর্থিক কারণে ফুল চাষ করতে শুরু করেন। সেই ফুলে বাড়ির মহিলারা মালা গাঁথার কাজও করেন। যাতে লাভের অঙ্কটা বাড়ে। কিন্তু মন্দির বন্ধ থাকায় ভক্তরা আর আসছেন না। এরফলে ফুল, মালার আর প্রয়োজনও পড়ছে না। কিন্তু জমিতে ফুল উৎপন্ন হচ্ছে যথারীতি। একদিন যে ফুল শোভা পেত মা তারার চরণে, এখন তা পচে নষ্ট হচ্ছে জমিতে ও পুকুরে। ওইসব ফুল চাষিরা বর্তমানে পড়েছেন চরম আর্থিক সঙ্কটে। এই পরিস্থিতি থেকে তাঁরা কবে মুক্তি পাবেন, তা আজও অজানা। তাই, এখানকার ফুল চাষিরা চাইছেন, তাঁদের জন্য তারাপীঠে একটি ফুল সংরক্ষণ কেন্দ্র অন্তত গড়ে উঠুক ।।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *