পুলিশ

অনুব্রত গড়ে পরপর দলীয় নেতা খুন, তটস্থ এলাকা

অনুব্রত গড়ে পরপর দলীয় নেতা খুন, তটস্থ এলাকা

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


একুশে বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশ পরবর্তী মঙ্গলকোট ও আউশগ্রামে দলীয় নেতা খুন নিয়ে তটস্থ এলাকা। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ও আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকার দীর্ঘদিনের তৃণমূল পর্যবেক্ষক হিসাবে রয়েছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। তাই এহেন হেভিওয়েট শাসক দলের নেতার গড় হিসাবে পরিচিত মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস এবং আউশগ্রামের দেবশালা অঞ্চলের যুব নেতা চঞ্চল বক্সী খুনে এই দুই থানা এলাকায় রয়েছে চাপা আতঙ্ক।আতঙ্ক এমনই যে, বুথ কমিটি থেকে ব্লক কমিটির বেশকিছু নেতা সর্বদা পুলিশি নিরাপত্তার বেড়াজালে রয়েছেন । দুটি খুনেরই ট্রেন্ড থেকে তদন্তপ্রকৃতি একই।তাই এই দুটি খুনের পেছনে বড়সড় মাথা কাজ করছে বলে অনেকেরই অনুমান। এই দুটি খুনের অন্যতম কারণ হিসাবে একাধারে উঠে এসেছে কোথায় বালিঘাটের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ,  আবার কোথাও পঞ্চায়েতের টেন্ডার নিয়ে দলীয় আভ্যন্তরীণ গন্ডগোল। এছাড়া দলীয় পদ ( অঞ্চলস্তরের) নিয়ে  শাসকদলের ভেতরে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার বিভিন্ন সূত্রও পাওয়া গেছে। একুশে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে মোটামুটি পরিস্কার পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ও আউশগ্রামের বিরোধী দল বলতে তেমন কিছুই নেই।পাশাপাশি এই দুটি এলাকার যারা দলের বিরুদ্ধ লবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন একসময়, তারাও ছত্রভঙ্গ হয়েছেন সেই এলাকা থেকে। যদি মঙ্গলকোটের রাজনৈতিক রসায়ন দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী একদা মঙ্গলকোট বিধায়ক হিসাবে থাকার সময় তীব্র মতবিরোধে থাকতেন অনুব্রত মন্ডল ঘনিষ্ঠ ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব চৌধুরীর সাথে।এমনকি শিমুলিয়া ১ নং অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ডালিম সেখ খুনে নাম জড়ায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ভাই রহমতুল্লাহ চৌধুরীর।এই মামলা এখনও বিবেচনাধীন কাটোয়া মহকুমা আদালতে। যতই দলীয় কোন্দল থাকুক একসময়, তবে বর্তমানে ব্লক সভাপতি অপূর্ব চৌধুরী তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক হওয়ায় সেই কোন্দলের আঁচ সেভাবে নেই।কিছু ক্ষেত্রে অঞ্চলস্তরে রয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছিল লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের সময়।গত জুলাই মাসে মোটরসাইকেল করে একাকী ফিরবার পথে নিরিবিলি সন্ধেয় সুপারি কিলার দ্বারা নিহত হয়েছিলেন তিনি।প্রথমে স্থানীয় থানার পুলিশ, তারপর জেলা পুলিশের সিট পরবর্তীতে সিআইডি এই মামলার তদন্তভার নেয়।পাঁচের বেশি অভিযুক্ত কে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। জানা যায়,  অজয় নদের বেআইনী বালিঘাটের নিরঙ্কুশ দখল রাখতে আততায়ীরা খুন করে থাকে। একই কায়দায় খুন হন আউশগ্রামের দেবশালা অঞ্চলের যুব নেতা চঞ্চল বক্সী। নিহতের বাবা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের প্রধান। নিহত নেতা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি পদের দৌড়ে ছিলেন। তাই ক্ষমতার দৌড় থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া এবং পঞ্চায়েতের টেন্ডার নিয়ে চাপা ক্ষোভের বদলা নিতে এই খুন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই খুনেও প্রথমে স্থানীয় থানার পুলিশ, পরে দুই জেলা পুলিশের সিট পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তে আসে।আউশগ্রামের রাজনীতিতে একসময় চঞ্চল গড়াই, নিত্যানন্দ চট্টপাধ্যায় তৃনমূলের বিরুদ্ধ লবির নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তবে এরা বিজেপিতে যোগদান করে থাকেন।তাই আউশগ্রামের বিরোধী দল কিংবা শাসক দলের বিরুদ্ধ লবি নেই বললেই চলে। এইরকম ‘বিরোধী শুন্য’ মঙ্গলকোট ও আউশগ্রামের অঞ্চল তৃণমূল পদাধিকারীদের সুপারি কিলার দিয়ে গুলি করে খুন আতঙ্কে রেখেছে শাসক দলের অনেক নেতাদেরকেই! কে কখন কার সাথে গোপন বোঝাপড়া করে এই ধরনের ‘ব্লু প্রিন্ট’ বানাচ্ছে তা নিয়ে চাপানউতোর রয়েছে দলের একাংশের মধ্যে। যদিও এই দুটি এলাকার তৃণমূলের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মন্ডল দুটি নিহত পরিবারের বাড়ি গেছেন। তদন্তকারীদের কোথাও তিনদিন আবার কোথাও পনেরো দিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দোষীদের গ্রেপ্তারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *