প্রশাসন

গনতান্ত্রিক ভণ্ডামি – স্নেহাশিস চক্রবর্তী

গনতান্ত্রিক ভান্ডামী

স্নেহাশিস চক্রবর্তী

এক ব্রাম্মনের ছেলে বিড়াল মেরে ফেলেছিল । মনুতর শাস্ত্র বিধানকারীদের মতে বিড়াল মেরে ফেলা অশাস্ত্রীয় ও প্রায়শ্চিত্যযোগ্য অপরাধ, তাই বিধান হল, বিড়ালের সমওজনের স্বর্ণ রৌপ্য দিয়ে, ব্রাম্মনের চাহিদামত তাকে দান-প্রনামী দিয়ে খুশি করলেই সব পাপ মুক্ত । গ্রামের সকল লোক জানালো যে, ঐ বিড়াল মেরেছে শাস্ত্র বিধানকারী ব্রাম্মন পণ্ডিতের ছোট ছেলে । মনুতর শাস্ত্র বিধানকারী পন্ডিত সকল নতুন বিধান দিলেন, ব্রাম্মনের ছেলে জন্মসূত্রে সিদ্ধ ব্রাম্মন, তাই এ ক্ষেত্রে কোনো প্রায়শ্চিত্য লাগবে না ।

বন্ধুসকল, গল্পটি পড়ে কি মনে হচ্ছে, আজকে কি আমরা সেই সমাজেই বাস করছি না ? রাষ্ট্রীয় ও রাজ্যের শাসক দলের ছত্রছায়ায় প্রাইভেট হসপিটালের নামে গজিয়ে উঠেছে এমনই ব্রাম্মন নামধারী মৃত্যুদূত । যারা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে টাকা দিয়ে কিনে রেখেছে রীতিমতো – দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার মূল নায়ক নাকি এই অশাস্ত্রীয় ডাক্তারকুল – যারা ভন্ডামী করে শপথ নেয় মানবসেবার ব্রতে । যারা হাসপাতাল তৈরি করে, যেখানে ২% লাইসেন্সড নার্স আছে কি না সন্দেহ । অথচ কি কেন্দ্রীয় কি রাজ্য এই দুই সরকারের ক্ষমতা নেই যে, এদের ঘরে ঢুকে কিছু তদন্ত করে, এরাই চ্যানেলে চ্যানেলে বসে ক্ষমতার দম্ভ দেখাচ্ছেন, বিড়ালতপস্বীর মতো স্তোকবাক্য শোনাচ্ছেন, আসলে এরা যে সরকারে আসীন দলগুলোকে নির্বাচনী খরচ যোগান, তাই এরা জন্মসূত্রেই ডাক্তার বা নার্স – তাদের লাইসেন্স থাক বা না থাক ।

গতকালকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিতে না পাড়ায়, এম্বুল্যান্সেই মারা গেলেন রুগী । সাধারণ জনগণ বিচার কোথায় চাইবেন ? দেশটাই যে এনারা কিনে ফেলেছেন । তাই এই ভণ্ড ডাক্তার নার্সরাই ( কিছু ব্যতিক্রমী অবশ্যই আছেন ) সেবার নামে দেশের মানুষকে খুন করছেন, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’ – চরম সত্য ।

চরম অমানবিক ধূর্ত মানুষের নাম মমতা হতেই পারে না – ভারতের মধ্যে নরেন্দ্র নামটির মধ্যে যে ভন্ডামী আমরা দেখতে পারছি তা অভূতপূর্ব । গনতন্ত্র, মানুষ, বিচার ব্যবস্থা এদের ক্ষমা করলেও – ‘কাল’ কিন্তু এদের নামের পাশে কলঙ্কই রেখে যাচ্ছে, সে কথা জীবিত অবস্থায় ওনারা বুঝতে সক্ষম নন ।

সাহেবের ‘গু-চাঁটা’ দক্ষিণপন্থী দলগুলি আজ আমেরিকায় মানুষ মরছে দেখে ভারতবর্ষকে ছয়মাস ধরে স্তব্ধ করে রেখেছেন – দরদ একেবারে উঠলে উঠছে । অথচ রাশিরাস্ত্র ঘাটলে দেখা যাচ্ছে সাধারণ বিভিন্ন ফ্লু, যক্ষ্মা, বা আর কিছু রোগে এর চেয়ে ঢের ঢের বেশি মানুষ প্রতি বছর মারা যান – কই সরকার তো এমন করে ছয়মাস ধরে ‘সরকারী বনধ’ ( কি কেন্দ্র কি রাজ্য ) করেন না ।

মানবতার যে দৃষ্টান্ত ২০২০ সালে সরকারগুলি আমাদের সামনে রেখে গেলেন – আগামী প্রজন্ম এই মানসিকতায় বেড়ে উঠলে – ভারতবর্ষ অবশ্যই অস্তিত্বের সংকটে পড়তে যাচ্ছে ।

এখনো সময় আছে, সহজ সরল গ্রামভিত্তিক মানুষগুলোকে আর ভন্ডামীর চিত্র দেখাবেন না – দেশের আগামীর চিন্তা করে । সমাজের সকল স্তরের মানুষের এখন একত্রিত হওয়ার সময় এসেছে, দয়া করে রুখে দাঁড়ান সকল ভ্রস্টামোর বিরুদ্ধে আগামীর প্রয়োজনে ।

‘ভারত মাতা’ কিন্তু ভারতীয় সরকার ও রাজ্যসরকারগুলোর চরম ভন্ডামো দেখে বড়ই কাঁদছেন – শুনতে পাচ্ছেন আপনারা ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *