প্রশাসন

মহম্মদবাজারে কজওয়ে ধ্বসে যাওয়ায় যোগাযোগহীন বিস্তৃত এলাকা

খায়রুল আনাম

 

কজওয়ে ধ্বসে যাওয়ায়  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা
       
সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়বদ্ধতা নেই কারও। আর এই তালিকায় রয়েছেন সরকারি আধিকারিক, আমলা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী সকলেই। আর সেইসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অতল গহ্বরে পড়ে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। বর্ষা এলেই এমন চিত্র কম-বেশি সব জায়গাতেই দেখা যায়। জেলা  বীরভূমের ক্ষেত্রেও যার ব্যতিক্রম ঘটছে না।          মহম্মদবাজারের কুলে নদীর উপরে  মহম্মদবাজার থেকে রূপগঞ্জ যাওয়ার রাস্তার উপরে রয়েছে একটি কজওয়ে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যার উপরে নির্ভর করে থাকেন  রূপগঞ্জ-সহ  বিষ্ণুপুর, কুলকুড়ি, কাপিস্টা, রামপুর, ভাগলপুর, ডানজনা-সহ অন্যান্য গোটা কুড়ি গ্রাম। এখানকার গ্রাম এলাকার কৃষিজীবি মানুষদের কৃষিজমিও রয়েছে নদীর এপাড়-ওপাড় জুড়ে। স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি দফতর, যেখানেই যাতায়াত করতে হোক না কেন, এই কজওয়ের উপর দিয়েই পারাপার করতে হয়। কিন্তু প্রতি বছরই বর্ষার সময়  কুলে নদীতে জল বাড়লেই কোনওভাবে না কোনওভাবে কজওয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পারাপারে সমস্যা দেখা দেয়।  তখন যাতায়াত করতে হয় কুড়ি কিলোমিটার ঘুরে। এই কজওয়ের উপর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি গিয়ে মিশেছে মহম্মদবাজারের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে গিয়ে বিষ্ণুপুর মোড়ে। যা সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়।            এবার  কুলে নদীতে জল বাড়ার ফলে জলের তোড়ে ধ্বসে গেল এই কজওয়ের অর্ধেক অংশ। যারফলে  পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম সমস্যা ও দর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন দু’ পাড়ের অসংখ্য মানুষ।  গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।   স্থানীয় বিডিও  আশিস মণ্ডল জানিয়েছেন,  গাড়ি বা মানুষ যাতে ভুলবশত কজওয়ের উপরে চলে না যায়, সেজন্য  কজওয়ের দু’পাশে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে, সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নদীর জল কমলে কজওয়ে সংস্কার করার ব্যবস্থা করা হবে।  স্থানীয়  গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান  উমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,  বিষয়টি বিডিও-কে জানানো হয়েছে। নদীর জল কমলে, কজওয়ে সংস্কার করার চেষ্টা  করা হবে। কিন্তু সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান কবে হবে বা আদৌ হবে কী না, সেই প্রশ্নই রয়েছে এলাকার মানুষদের ।।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *