হাইকোর্ট সংবাদ

দ্রুত মামলার নিস্পত্তি ঘটাতে ৪৯ জন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ হাইকোর্টের

দ্রুত মামলার নিস্পত্তি ঘটাতে ৪৯ জন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ হাইকোর্টের 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু
দ্রুত মামলার নিস্পত্তি ঘটাতে ৪৯ জন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করলো কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার সন্ধেবেলায় হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের পৌরহিত্যে এই মধ্যস্থতাকারীদের শংসাপত্র প্রদান পর্ব চলে। ছিলেন অন্যান্য বিচারপতিরাও।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলো।এই ৪৯ জন মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় অফিসাররা।এঁরা কলকাতা হাইকোর্টের পাশে হাউস স্ট্রিটের বাড়িতে কাজকর্ম চালাবেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারপতিদের নির্দেশে যুযুধান দুপক্ষের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করবেন এঁরা। ডিগ্রি কিংবা ডিভোর্সের ঘোষণা করতে পারবেন না।তবে খোরপোষের পরিমান, চেক বাউন্স সংক্রান্ত আইনী পরামর্শ দিতে পারবেন। মামলায় মধ্যস্থতাকারীরা বিফল হলে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে মামলা চলবে। দু বছর পূর্বে  কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি.বি  রাধাকৃষ্ণন বিচার-প্রক্রিয়ার গতিকে আরও বৃহত্তরে পৌছানার লক্ষে মিডিয়েশনের উপর ইউটিউব চ্যানেল সহ মিডিয়েশন কেন্দ্রিক ১১২ পাতার বিস্তারিত তথ্যপুস্তিকা প্রকাশ করছিলেন। ওইদিন কলকাতা হাইকোর্টের আনেক্স বিল্ডিংতে সম্মেলন কক্ষেরও উদঘাটন ঘটেছিল। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খোলা হয়েছিল বিচারপ্রক্রিয়ার গতি কে আরও বাড়াতে। বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাস করোনার প্রকোপে গোটা দেশজুড়ে দেড় বছরের বেশি সময়কাল   ধরে চলছে ধাপে ধাপে লকডাউন প্রক্রিয়া ।  এতে স্বাভাবিক জনজীবন গেছে থমকে। তবে বিচারদানের গতি একটুও কমেনি কলকাতা হাইকোর্টের। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে মিডিয়েশন এন্ড কনসিলিয়েশন কমিটির তরফে আনা হয়েছিল এক ইউটিউব চ্যানেল। যেখানে আইনী লড়াই ছাড়াই বাদী বিবাদী পক্ষদের আপস মিমাংসায় আনা হচ্ছে। “বিরোধ মেটানোর বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে সোশাল মিডিয়ায় এই ইউটিউব চ্যানেল তৈরি হয়েছে ‘ বলে জানান মিডিয়েশন এন্ড কনসিলিয়েশন কমিটির তৎকালীন অন্যতম সদস্য বিচারক অরিন্দম দাস মহাশয়৷ সর্বসাধারণের কাছে মিডিয়েশনের মাধ্যমে কিভাবে মামলার নিস্পত্তি ঘটছে তা বিস্তারিত ইউটিউব চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে। আইনজীবী থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিডিয়েটররা সচিত্র কর্মশালারর মত জনসচেতনতা বাড়াচ্ছেন এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে। কিভাবে দ্রুত বিচার মেলে কোন বিরোধ ছাড়াই, তা বোঝাচ্ছেন অভিজ্ঞরা।সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় মিডিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছিলেন। জেলা ও মহকুমা আদালতে কিরুপ কাজ চলছে তার খতিয়ানও সাংবাদিকদের সামনে  সেদিন তুলে ধরেছিলেন এই বিচারপতি। মিডিয়েশন কেন্দ্রিক এই ইউটিউব চ্যানেলের প্রসারে সাংবাদিক থেকে  আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিক তা চাইছে ওয়াকিবহাল মহল। ওইদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মিডিয়েশনের অনলাইন গতি কে আরও শক্তিশালী করতে ইউটিউব চ্যানেলের বিস্তারিত রিপোর্ট তুলে ধরেছিলেন। এছাড়া মিডিয়েশন কেন্দ্রিক ১১২ পাতার সচিত্র তথ্য পুস্তিকার শুভ উদঘাটন করেছিলেন৷ কোথায় কোথায় মিডিয়েশন সেন্টার রয়েছে। কারা রয়েছেন কমিটিতে। কিভাবে মিডিয়েশনের আবেদন জানানো যায়, এইবিধ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে এই তথ্য পুস্তিকায়। ইউটিউব চ্যানেলেও বিচারপতি সহ মিডিয়েশনের সাথে যুক্তদের ভিডিও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার সন্ধেবেলায় হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের পৌরহিত্যে ৪৯ জন মধ্যস্থতাকারীদের কে শংসাপত্র প্রদান পর্ব চললো।দ্রুত মামলার নিস্পত্তি ঘটাতে এঁরা কলকাতা হাইকোর্টের হাউস স্ট্রিটের বাড়িতে কাজকর্ম চালাবেন বলে জানা গেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল জানান – ‘ এটি একটি কার্যকরী পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *