পুলিশ

মঙ্গলকোটে অসীম দাস খুনে ধৃত শেখ রাজু, কেন খুন?

মোল্লা জসিমউদ্দিন,
গত শুক্রবার দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করলো মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের মামলায় মাস্টারমাইন্ড শেখ রাজু কে। অজয় নদের বালিঘাট বিরোধের জেরেই একাধিক সুপারি কিলার নিয়োগ করে শেখ রাজু এই পরিকল্পিত খুন ঘটিয়েছে বলে সিআইডির দাবি। ধৃতের বাড়ি মঙ্গলকোট লাগোয়া বীরভূমের নানুরে হলেও শ্বশুরবাড়ি মল্লিকপুরে। তিন – চার বছর টানা শ্বশুরবাড়ি থেকে বালি তোলার মেশিন জেসিবি সাপ্লাই দিতো এই শেখ রাজু। শনিবার রাতের মধ্যে ধৃত কে মঙ্গলকোট থানায় আনতে চলেছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে  পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের গুসকারা  থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রফিক সেখ কে।ধৃত রফিকুল সেখ মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের মামলায় ম অভিযুক্ত বলে দাবি রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির।কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি ।মঙ্গলকোটে তৃণমূল নেতা খুনের মামলায় তদন্তভার পেয়েই মঙ্গলকোটের কাশেমনগর এলাকায় তদন্তের মূল ফোকাস ফেলেছে সিআইডি। যার ফলস্বরূপ গত সপ্তাহে কাশেমনগর কাগোয়া এলাকায় গ্রেপ্তার এই হাইপ্রোফাইল মামলার আরেক চক্রী রফিকুল সেখ।  মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া ১ নং অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ডালিম সেখ খুনের মামলার পর ফের মঙ্গলকোটে তদন্তে সিআইডি। গত ১৬ জুলাই লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ওইদিন তারা সরকারিভাবে এই খুনের মামলায় তদন্তকারী হিসাবে দায়িত্বভার পায়।যদিও খুনের পরের দিনই অর্থাৎ গত ১৩ জুলাই সিআইডি এসেছিল মঙ্গলকোটে।সেদিন তারা খুনের ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালায়।গত ১৬ জুলাই মঙ্গলকোট থানায় স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম অর্থাৎ সিটের কাছ থেকে এই মামলার সম্পর্কিত সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে থাকা ধৃত দুজন কে সিআইডি নিজেদের হেফাজতে নেয়।গত ১৫ জুলাই   মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের মামলায় ধৃত সাবুল সেখ এবং সামু সেখ কে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। পুলিশের তরফে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত পাওয়ার আবেদন জানানো হলেও এসিজেম এজলাসে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । খুনের দিন রাতেই পশ্চিম মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চলের কল্যানপুর এবং কোটালঘোষ গ্রামের এই দুই বাসিন্দা কে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে রাখে।টানা দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতেরা অপরাধ কবুল করে নিয়েছে বলে দাবি এই মামলার তদন্তকারীদের।যদিও ধৃতদের পরিবারের তরফে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কলকাতা থেকে ফরেন্সিক দল এসেছিল খুনের ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহ করতে। মঙ্গলকোটের অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাস খুনের ঘটনায় দুদিনের মধ্যেই পুলিশের তরফে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম’ অর্থাৎ সিট গঠন করা হয়েছিল।পূর্ব বর্ধমান জেলার এই বিশেষ তদন্তকারী দলে ছিলেন  অতিরিক্ত জেলা পুলিশসুপার ( গ্রামীণ)  ধ্রুব দাস,  মহকুমা পুলিশ অফিসার কৌশিক বসাক, আইসি পিন্টু মুখার্জি, মঙ্গলকোটের প্রাক্তন ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত,মিথুন ঘোষ ছিলেন । ইতিমধ্যেই এই খুনের তদন্তে সিআইডির সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা পূর্ণ অফিসারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে এসে নমুনা সংগ্রহ সহ এলাকাবাসীদের সাথে তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চালিয়েছে।তাছাড়া এই খুনের ঘটনায় চারজন এলাকাবাসীদের কে আটক  করেছিল জেলা পুলিশ। এই চারজন এর মধ্যে দুজন কে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান,  সুপারি কিলার নিয়োগ করে এই খুন সুপরিকল্পিতভাবে ঘটনা হয়েছে। যদিও এটি তৃণমূলের সাংগঠনিক পদ থেকে চিরতরে সরাতে খুন, নাকি বিজেপির রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে খুন তা স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।তবে নিহতের পরিবারের তরফে ‘ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই’ এই খুনে জড়িত বলে দাবি তোলা হয়েছে। এর আগে বেশ কয়েকবার এই অঞ্চল তৃণমূল সভাপতির উপর হামলা চলিয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে প্রকাশ। ২০১৭ সালে দু বার এই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। ইতিমধ্যেই লাখুড়িয়া অঞ্চলে সিউড়, কল্যাণপুর, সহ সদর লাখুড়িয়া গ্রামে বেশকিছু পরিবার ঘটনার পরেই বেপাত্তা।গত ১২ জুলাই সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ মঙ্গলকোটের কাশেমনগর থেকে সিউড় গ্রামে একাকী মোটরসাইকেল করে বাড়ি ফিরবার পথে গোতিস্টা সংলগ্ন এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় সমগ্র মঙ্গলকোট জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য পড়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে সিআইডি। তারা নমুনা সংগ্রহ করে থাকে। এরপর রাজ্য সড়কপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচি নিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা।এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম অর্থাৎ সিট গঠন করে থাকে ।সেখানে এএসপি, এসডিপিও, আইসি সহ পাঁচ জন পুলিশ অফিসার ছিলেন। পুলিশের তরফে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে।পাশাপাশি নিহতের ব্যবহৃত  মোবাইল ফোনের কললিস্ট, টাওয়ার লোকেশন দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি  মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়ার সিউড় গ্রামে নিহত অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অসীম দাসের বাড়িতে গিয়েছিলেন মঙ্গলকোট বিধানসভা দলীয়  পর্যবেক্ষক অনুব্রত  মন্ডল,সাথে ছিলেন এলাকার স্থানীয় বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী ।তিনি নিহতের পরিবার কে শান্তনা দেওয়ার পাশাপাশি খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আগামী তিনদিনের  মধ্যে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।পাশাপাশি এক খামে আর্থিক সাহায্য করা হয় নিহতের পরিবার কে। অনুব্রতের তিনদিনের সময়সীমার মধ্যেই দুজন কে গ্রেপ্তার করেছিল জেলা পুলিশ। তবে ধৃতেরা নিহতের ঘনিষ্ঠ শিবিরের লোক বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।পাশাপাশি ধৃতদের একজন অঞ্চল তৃণমূলের এক নেতা আবার! গত ১৬ জুলাই এই খুনের মামলায় তদন্তভার জেলা পুলিশের কাছ থেকে নিয়েছিল সিআইডি। পুলিশি হেফাজতে থাকা ধৃত দুজন কে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আইনী প্রক্রিয়া দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে দেয় সিআইডি।এরপর গত সপ্তাহে কাশেমনগর সংলগ্ন এলাকায় রফিকুল সেখ নামে এক এলাকাবাসী কে মূল অভিযুক্ত হিসাবে গ্রেপ্তার করে সিআইডি ।শুক্রবার দিল্লিতে মোবাইল ফোন লোকেশন ট্রাক করে এই খুনের মাস্টারমাইন্ড শেখ রাজু কে গ্রেপ্তার করলো সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *