ক্রীড়া সংস্কৃতি

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু স্মরণে আন্তরিক পত্রিকা

বিপ্লবী ক্ষুদিরামে ১১৩ তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা নিবদন করলো আন্তরিক পত্রিকা গোষ্ঠী ~


অন্তরা সিংহরায়,

এমন ছেলে কোথায় পাবে !
আছে বলো কোন দেশে!
হাসতে হাসতে পড়লে দড়ি
দেশমাতাকে ভালোবেসে ।

অগ্নিযুগের অমর বিপ্লবী
ধন্য তুমি ক্ষুদিরাম
শত বর্ষ মৃত্যুর পরেও
সকলে জানাই প্রণাম।

তোমার ত্যাগ যাইনি ভুলে
গাঁথা বলিদানের কথা
রক্ত কলমে লিখে গেছো বীর
পরাধীনের স্বাধীনতা ।

অগ্নিযুগের অমর বিপ্লবী অগ্নিদৃপ্ত কিশোর ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুর ১১৩ বছর পরেও দেশবাসী মনে তিনি জীবন্ত হয়ে আছেন তাঁর আত্মবলিদানে । আজও প্রতিটি দেশবাসীর কাছে তাঁর বলিদানের দিনটি জীবন্ত । আজও মানুষ হতবাক হয়ে শোনে তাঁর সাহসিকতার গল্প । একজন সদ্য আঠারোর বালক মশালের মতো সেদিন আগুন জ্বেলে ছিলো পরাধীন দেশের দিকে দিকে । ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট নির্ভীক বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়েছিলো। তবে সেদিন স্বাধীনতার স্বপ্ন মৃত্যুভয়কেও পরাস্ত করেছিলো । ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবার ফিরে আসার বার্তা দিয়ে যান ক্ষুদিরাম । স্বাধীনতার আকাঙ্খায় এমনই নির্ভীক ছিলেন মেদিনীপুরের এই বিস্ময় যুবক। রায় ঘোষণার পর জীবনের শেষ কয়েকটা দিনে কারাগারে বসে মাৎসিনি, গ্যারিবল্ডি ও রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়তে চেয়েছিলেন। ১০ আগস্ট আইনজীবী সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তীকে ক্ষুদিরাম বলেছিলেন, “ রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জওহরব্রত পালন করিত, আমিও তেমন নির্ভয়ে দেশের জন্য প্রাণ দিব। আগামীকাল আমি ফাঁসির আগে চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই।”
ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল ১৮ বছর, ৭ মাস এবং ১১ দিন তাই তিনি ভারতের কনিষ্ঠতম ভারতের বিপ্লবী । ফাঁসির আগেও ক্ষুদিরামের শেষ ইচ্ছা ছিল স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া । তিনি আদালতে বলেছিলেন, তিনি বোমা বানাতে পারেন সেই বিদ্যা ভারতের যুবকদের বলতে চান যদি তাকে অনুমতি দেওয়া হয় । ফাঁসির মঞ্চে এসেও যে প্রশান্তি ছিল তাঁর মনে, তা সবচেয়ে বিস্ময়কর। ১৯০৮ সালের ১১ অাগস্ট ক্ষুদিরামকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন ব্রিটিশ সরকারের চার পুলিশ। ক্ষুদিরাম ছিলেন তাঁদের সামনে। ফাঁসির আগে উপস্থিত আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেছিলেন তিনি। তারপর পিছমোড়া করে বাঁধা হয় দুইহাত। গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো মাত্র জল্লাদকে শহীদ ক্ষুদিরাম প্রশ্ন করেছিলেন “ ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন? ”এটাই ছিল বীর শহীদের জীবনের শেষ কথা। জল্লাদ বিস্ময়ে কিছু বলতে পারেননি। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ জেলার সহ উপস্থিত সকলে। ফাঁসির আগে কী করে কারোর মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে ? ক্ষুদিরামের মৃত্যুর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ক্ষুদিরাম নামটি এখনো বিপ্লবের প্রতীক হয়ে আছে। ক্ষুদিরাম যুগে যুগে দেশবাসীর অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন মুক্তির স্বপ্ন দেখতে, অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে। তাই মৃত্যুর ১১৩ বছর পরেও মানুষের মনে তিনি আজও অমর। বিপ্লবী ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আন্তরিক সাহিত্য পত্রিকা গোষ্ঠী একটি অনলাইন শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা করেন । অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন শিশু সাহিত্যিক ঝর্ণা মুখোপাধ্যায় , কবি কৌশিক চ্যাটার্জ্জী , সংগীত শিল্পী জয়া মোদক , কবি কৌশিক রায় ও সম্পাদিকা অন্তরা সিংহরায় । অনলাইন অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ক্ষুদিরামের উদ্দেশ্যে রচিত
“একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি।
হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে জগৎবাসী।” গানটি দিয়ে । কবিতা পাঠ , সংগীত ,আলোচনা , আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি চলে ।সকলে মিলে অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ১১৩ তম শহীদ দিবসে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *