রাজনীতি

জামালপুরে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল

জামালপুরে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল,

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী

          দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর অভিষেক ব্যানার্জ্জীর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের সংগঠন বৃদ্ধি করা। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এটুকু বুঝতে পেরেছিলেন সংগঠন বাড়াতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে যেমন যেতে হবে তেমনি আপদে বিপদে সেই রাজ্যের স্হানীয় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়াতে হবে। নাহলে আগের মতই ব্যর্থতা সঙ্গী হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরায় যাতায়াত বাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের  নেতা-নেত্রীদের। কিন্তু তৃণমূলের এই চেষ্টায় প্রথম থেকেই বাধার সৃষ্টি করে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথম বিপদ ঘটে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরার মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে। তৃণমূলের অভিযোগ ত্রিপুরা পুলিশের সামনে তার গাড়িতে বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা হামলা চালিয়েছে। ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন তরুণ-তুর্কী ছাত্র-যুব নেতা সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে আলোড়ন সৃষ্টিকারী দেবাংশু ভট্টাচার্য্য যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত দলের পক্ষ থেকে ত্রিপুরায় সংগঠন গড়ে তোলার দায়িত্ব এই তিন জনকে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ শুধু দলীয় পতাকা টাঙানোতে বাধা দেওয়া নয় পুলিশের সামনেই তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইঁট ছোড়া হয় ও শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়। পুলিশ তাদের আটক ও গ্রেপ্তারও করে। ত্রিপুরায় অভিষেক সহ এই তিন যুব নেতা এবং স্হানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর পরিকল্পিত ভাবে বিজেপির  গুন্ডাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। পেছিয়ে ছিলনা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরও।
        গত ১০ ই আগষ্ট  ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস, তৃণমূল যুব কংগ্রেস সহ তৃণমূলের সমস্ত শাখা সংগঠনের পক্ষ থেকে জামালপুরে এক প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
         প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস এস.সি সেলের সহ-সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর ও জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অলোক কুমার মাজি,  ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন,  ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভূতনাথ মালিক, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি  তাবারক আলি মন্ডল, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তথা ব্লক জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি সাহাবুদ্দিন মন্ডল, বেরুগ্রাম অঞ্চলের তরুণ তুর্কী 

নেতা সাহাবুদ্দিন সেখ সহ ব্লক ও অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা।
বিধায়ক বলেন – নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত একটা সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা যখন আক্রান্ত হয় তখন সেখানকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ কেমন সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
অন্যদিকে ব্লক সভাপতি বলেন – চাপ দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের যে মাথানত করা যায় না তার প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পেয়েছে। অচিরেই ত্রিপুরাতেও পাবে। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য আগামী বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরাবাসী তৃণমূল কংগ্রেসকে বেছে নেবে এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *