হাইকোর্ট সংবাদ

রাখাল বেরা মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের জামিন বহাল ডিভিশন বেঞ্চে

রাখাল বেরা মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের জামিন বহাল ডিভিশন বেঞ্চে 

মোল্লা জসিমউদ্দিন,  
টানা তিনদিনে টানটান উত্তেজনা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা সংক্রান্ত মামলা ঘিরে।তবে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্বস্তি দিল রাখাল বেরা কে। গত সোমবারের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশিকা কে একপ্রকার মান্যতা দিল ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন ডিভিশন বেঞ্চের তরফে কড়াভাবে সমালোচনা করা হয় রাজ্যের উপর। রাজ্য অবশ্য নিজেদের দায় এড়াতে ‘ভুলবোঝাবুঝি’র প্রসঙ্গ টেনেছে। রাজ্য জানিয়েছে – ‘ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানা যে মামলায় গ্রেপ্তার করেছে।তা গ্রেপ্তার অযোগ্য অপরাধ। আদালতের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় থানার বিষয় ছিল।এখানে বড় কোন অফিসার কিংবা রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল না’। এদিন কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত রাখাল বেরা কে গ্রেপ্তার করা যাবেনা বলে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ওইদিনের মধ্যে রাজ্যের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ২৬ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।  গত মঙ্গলবার ‘হাইকোর্ট এর নির্দেশের পরেও কিভাবে রাখাল বেরা কে গ্রেপ্তার করা হলো? ‘ রাখাল গ্রেপ্তারে এত দ্রুততা কিসের?  এই বিধ নানান প্রশ্নবাণে রাজ্য কে বিঁধেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। কোন অফিসার গ্রেপ্তার করেছে তার নামও জানতে চেয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবারের মধ্যেই রাখাল বেরা গ্রেপ্তারের সমস্ত তথ্য প্রমাণ রাজ্য কে জানাতে হবে আদালত কে বলে নির্দেশ জারি করা হয় ।গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট রাখাল বেরা কে জামিন মঞ্জুর করে থাকে। পাশাপাশি এও জানায় কোন এফআইআর রুজু করতে গেলে আদালতের নির্দেশ নিতে হবে পুলিশ কে।তাহলে সেই নির্দেশ কেন পালন করেনি রাজ্য? এই প্রশ্ন তুলেছেন ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি। যদিও রাজ্যের তরফে সোমবারই নিম্ন আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। তখন ডিভিশন বেঞ্চ বলে – ‘তাহলে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ কে কেন নিম্ন আদালতের নির্দেশের কথা জানানো হয়নি’? শুধু তাই নয় ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে – ‘ আমরা যখন সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশিকার উপর আপিল পিটিশন গ্রহণ করেছি।তাহলে এত দ্রুততা কিসের রাখাল বেরা কে গ্রেপ্তারে?’ উল্লেখ্য,  গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট এর সিঙ্গেল বেঞ্চে রাখাল বেরার জামিন মঞ্জুর হয়। পাশাপাশি কোন মামলা রুজু করতে গেলে আদালতের অনুমতি আবশ্যিক বলে জানানো হয়। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ হয় রাজ্য। ডিভিশন বেঞ্চের শুনানির আগেই গত ১৫ জুন তমলুকের এক মামলার গ্রেপ্তার করা হয় রাখাল বেরা কে। ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন সিঙ্গেল বেঞ্চে জামিনের শুনানির সময় রাজ্য কেন নিম্ন আদালতের গ্রেপ্তারির নির্দেশ গোপন করলো? আর যখন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারধীন এই মামলাটি সেখানে কেন পুলিশ অতি সক্রিয়তা হয়ে গ্রেপ্তার করলো।গ্রেপ্তার করা পুলিশ অফিসারের নাম সহ গ্রেপ্তারির সমস্ত তথ্য রাজ্য  কে জানাতে বলেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাখাল বেরা কে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। পাশাপাশি রাজ্য কে অত্যন্ত কড়াভাবে সমালোচনা করে থাকে ডিভিশন বেঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *