প্রশাসন

করোনা পজিটিভদের আশ্রয় দিতে হোটেল – লজের সাহায্যপ্রার্থী বীরভূম জেলা প্রশাসন

খায়রুল আনাম


পর্যটক নির্ভর বীরভূম জেলার হোটেল, লজ ব্যবসা এমনিতেই লাটে উঠেছে করোনা আবহের কারণে। ভবিষ্যতে এই দুর্যোগ কেটে গেলে আবার তাঁদের ব্যবসার সুদিন ফিরে আসবে, এই আশা করতে করতে দীর্ঘ  মাস পাঁচেক কেটে গিয়েছে। কিন্তু দুর্যোগ কাটার পরিবর্তে করোনা আবহ যে ভাবে তার প্রভাব বিস্তার করছে তাতে, আদৌ হোটেল, লজ ব্যবসা আর টিকিয়ে রাখা যাবে কী না, তা নিয়েই এখন সংশয়ে ভুগতে শুরু করেছেন অধিকাংশ হোটেল, লজ মালিকই। পঞ্চপীঠের জেলা বীরভূমে যে সব হোটেল, লজগুলি রয়েছ তার অধিকাংশই নির্ভর করে থাকে তীর্থস্থানে আসা ভক্তপ্রাণ মানুষজনদের উপরে। শান্তিনিকেতনের দৌলতে বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় যে সব হোটেল, লজরয়েছে সেগুলি এখানে যে সব পর্যটকরা আসতেন, তাদের উপরে  নির্ভর করেই চলতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জেলা এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ায় হোটেল, লজ ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই হোটেল, লজ মালিকরা বর্তমানে তাদের কর্মী সংখ্যা একেবারেই কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।  বিগত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, একেবারে শহরের ভিতরে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের  যে তারতম্য ঘটেছে তাতে, বহু জায়গাতেই শহরের উপকণ্ঠে হোটেল, লজ তৈরী হয়েছে বহু জায়গায়। এবং এরফলে পুরসভা এলাকার বাইরে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও এইসব হোটেল, লজ গড়ে উঠেছে। এগুলি ভালো ব্যবসাও করছিল। কিন্ত অতিমারি করোনা আবহে সে সবই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার অর্থনীতিতে তার একটা প্রভাবও পড়েছে।  পর্যটকদের উপরে নির্ভর করে অন্যান্য যে সব ব্যবসা চলতো তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।          এদিকে  জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলার ফলে, জেলায় সরকারি যে সব কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি তৈরী হয়েছে তাতে আর আক্রান্তদের স্থান হবে  না বলেই মনে করছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।  এই পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দিয়ে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। আর সেই কাজে হাত দিয়ে প্রথম পর্যায়েই সমস্যার মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসন।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে,  কলকাতার ধাঁচে  শহর থেকে দূরে থাকা হোটেল, লজ মালিকদের সাথে বৈঠক করে সেখানে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য জেলার বোলপুর, রামপুরহাট ও সিউড়ি মহকুমার মহকুমা শাসকদের এই ধরনের হোটেল, লজ মালিকদের সাথে আলোচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু এনিয়ে হোটেল, লজ মালিকদের সাথে প্রাথমিক আলোচনায় কোনও সাফল্য আসেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এমন অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন  যাঁঁদের বাড়িতে পৃথক থাকার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। আবার অনেকেই সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারেও থাকতে চান না। তাই তাঁরা হোটেল, লজে সেফ হোমে থাকলে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা  দেওয়া হবে সরকারিভাবে, আর   হোটেল, লজের ভাড়া যাঁরা  থাকবেন তাঁরা নিজেরাই বহন করবেন। স্থানীয় পুরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাথে আলোচনা করে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু হোটেল, লজ মালিকরা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা এভাবে তাঁদের হোটেল, লজ দিতে রাজি নন। কেননা, করোনা আতঙ্ক এমনই পর্যায়ে পৌঁছিয়েছে যে, তাঁদের হোটেল, লজের করোনা আক্রান্তদের রাখার ব্যবস্থা হলে তাঁদের হোটেল, লজের যে সব কর্মীরা আছেন তাঁরা কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যাবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদের হোটেল, লজে কেউ এসে থাকতেও চাইবেন না। তখন তাঁরা চরম সমস্যায় পড়বেন। হোটেল, লজ মালিকদের এই মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন ।।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *