প্রশাসন

সালানপুরে পড়ুয়াদের মার্কশীট না পাওয়ায় বিক্ষোভ

প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নিজেদের মার্কশিট পাওয়ার দাবীতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশন এর ছাত্রছাত্রীরা

কাজল মিত্র,

-সালানপুর ব্লকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশনের উচ্চমাধ্যমিকের ১৩৮ জন
ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষা সংক্রান্ত ফর্ম বা আবেদনপত্র ঠিক সময়মত সংসদে জমা না পড়ায় তাদের মার্কশিট এসে পৌঁছয়নি। আর সেই কথা জানতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্কুল পড়ুয়ারা।বৃহস্পতিবার সারাদিন উত্তপ্ত থাকার পর আবার শুক্রবার সকাল থেকেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের মার্কশিট পাওয়ার দাবিতে উপস্থিত হয় ছাত্রছাত্রীরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।ছাত্রছাত্রীরা তাদের মার্কশিট নিতে প্রধান শিক্ষক কে সামনে আসতে বলেন কিন্ত আছড়া স্কুলের প্রধান গেট বন্ধ থাকায় তারা প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করতে চাই।কিন্তু স্কুলএর প্রধান শিক্ষকের অফিসের সামনেই প্রচুর পুলিশ বাহিনী থাকায় কাউকেই অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি যারফলে একপ্রকার সকলে জোরপূর্বক প্রবেশ করতে গেলে ছাত্র ছাত্রীদের তরফে জানানো হয় টানাটানি করে ফলে একজন এর হাতেও চোট লাগে।যার ফলে আরো উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আছড়া যজ্ঞেশ্বর ইনস্টিটিউশন।এর ফলে সকলে মিলে রূপনারায়ানপুর থেকে সামডি যাওয়ার প্রধান রাস্তা ও রূপনারায়ানপুর ডাবরমোড় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।
রাস্তা অবরোধ করার ফলে সৃষ্টি হয় যানজটের।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ে আসেন জেলা পরিষদ কর্মদক্ষ মোঃ আরমান, সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র,তারা এসে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো প্রকার সুরাহা পাওয়া যায়নি।অবশেষে প্রধান শিক্ষক লিখিত রূপে আশ্বাসদেন আগামী দশ দিনের মধ্যে তাদের রেজাল্ট দেওয়া হবে এই আশ্বাস পেয়ে শান্ত হয় ছাত্রছাত্রীরা।
এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল দত্ত স্বীকার করেন তাদের ২৫৬ জনের আবেদনপত্র স্কুলে ফিলাপ করা হলেও ১৩৮ জনের আবেদন পত্র সংসদে গিয়ে পৌঁছয়নি।তারই জন্য এত ঝামেলা,তিনি জানান এই বিষয়ে গতকাল স্কুলের কমিটি ও ব্লক প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে উচ্চ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে তারা বলেছেন পূনরায় তাদের আবেদন পত্রগুলি পাঠানো হোক।তারা আশ্বাস দিয়েছেন খুব দ্রুত তাদের সবার রেজাল্ট সমস্যাটি দূর হবে।
এই প্রসঙ্গে এ.আই সঙ্গীতা দাস জানান এই পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে সমস্যাটি উচ্চ আধিকারিক দের জানানো হয়েছে,তারা এই বিষয়টি গম্ভীর ভাবে দেখছেন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এই ১০দিনের মধ্যে তাদের রেজাল্ট দেওয়া যায়।তাছাড়া কাদের গাফিলতির কারণে এত বড় একটা কান্ড হলো তারও একটা রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বোর্ডে,এবং যারা দোষী তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে কারণ এত গুলো ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের ব্যাপার।
এই প্রসঙ্গে এক ছাত্রী জানান যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পরে তাদের মার্কশিট এখনো আসেনি বিদ্যালয়ের গাফিলতির কারণে ১৩৮টি ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে ছে।আমাদের একটাই দাবী অবিলম্বে তাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হোক। প্রধান শিক্ষক আমাদের লিখিত দিয়েছে ১০দিনের মধ্যে যাদের রেজাল্ট আসেনি তাদের সবার রেজাল্ট দেওয়া হবে।আর তা যদি না হয় তবে আরো বড় আন্দোলন গড়ে তুলবো আমরা।
তবে প্রশ্ন কার ভুলের জন্য এত বড় সমস্যা তৈরি হলো।১৩৮জন ছাত্রছাত্রীর আবেদন পত্রগুলি কোথায় গেলো?কে আসল দোষী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *