হাইকোর্ট সংবাদ

পড়ুয়াকে দ্রুত ইন্টারশিপ সম্পন্ন করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

 পড়ুয়াকে দ্রুত ইন্টারশিপ সম্পন্ন করার নির্দেশ হাইকোর্টের 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু
এক অধ্যাপকের বদ্যানুতায় ইন্টারশিপ সম্পন্ন করতে পারছিলেন না আয়ুর্বেদিক কোর্সের এক পড়ুয়া। কার্যত তীরে এসে তরী ডুববার উপক্রম ছিল তার।তবে তা হয়নি কলকাতা হাইকোর্টের সৌজন্যে। চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে উঠেছিল নুরুল হাসান নামে এক আবেদনকারীর মামলা। কলকাতা হাইকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর আইনী সওয়াল-জবাবে বিচারপতি ছাত্র পড়ুয়াটির ভবিষ্যত যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।সেজন্য দ্রুত ইন্টারশিপ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেন।যা আগামী ৩ মাসের মধ্যে শেষ করাতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষ কে।উল্লেখ্য, নুরুল হাসান নামে এক পড়ুয়া ২০১৩ সালে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ভালো ফল করে হাওড়ার জে.বি রায় আয়ুর্বেদিক কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পায়।২০১৯ সালে বিএএমএস কোর্স শেষ করে ১ বছরের জন্য ইন্টারশিপে থাকে সে।প্রথম ৬ মাস নিজ কলেজে এবং পরবর্তী ৬ মাস জেলা হাসপাতালে তাকে এই ইন্টারশিপ করার কথা। ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে করোনা আবহে সে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি নেয়।আগস্ট মাসে সে পুনরায় যোগ দেয় ইন্টারশিপের প্রতিটি বিভাগে রিমার্ক্স হিসাবে ‘ভালো’, ‘খুব ভালো’ রেজাল্ট হয়।তবে সার্জারী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র দত্ত তাকে ‘শুন্য’ দেয়।সবদিকেই খুব ভালো রিমার্কস এখানে কেন শুন্য? জানা যায়,  কলেজের বাইরে ব্যক্তিগত কাজে চেয়েছিলেন এই অধ্যাপক। যদিও অঅভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁর বিরুদ্ধে উঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে থাকেন।বিষয়টা নিয়ে এই পড়ুয়া স্বাস্থ্য ভবনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিঠি দেন।স্বাস্থ্যভবন অবশ্য সবটাই কলেজ কর্তৃপক্ষের শেষ কথা হিসাবে মান্যতা দেয়। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্বাস্থ্য ভবনের কলেজের উপর সবটাই ছেড়ে দেওয়াটাতে ক্ষুব্ধ। চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানিতে স্বাস্থ্যভবনের এহেন  পড়ুয়ার ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি করা নিয়ে জোড় সওয়াল চালান আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী। যে পড়ুয়া ইন্টারশিপের প্রায় বিভাগে রিমার্ক্স হিসাবে খুব ভালো পায় সে কিভাবে শুধুমাত্র একটিতে শুন্য পায়?  এই সওয়ালে সন্তুষ্ট হয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই ডাক্তারি পড়ুয়ার ইন্টারশিপের শেষ একমাস যেন দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ কে। তাও অভিযুক্ত অধ্যাপক কে সরিয়ে অন্য কোন অধ্যাপকের অধীনে সর্বোচ্চ তিনমাসের মধ্যে ইন্টারশিপ শেষ করার নির্দেশ টি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *