হাইকোর্ট সংবাদ

প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ক্ষমতা কতটা তা জানতে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হাইকোর্ট

প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ক্ষমতা জানতে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হাইকোর্ট 

মোল্লা জসিমউদ্দিন
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল কে ঘিরে নানান বিতর্ক রয়েছে আইনমহলে।ইতিমধ্যেই ‘বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলে’র চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের প্রধানবিচারপতির কাছে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।এই চিঠি পাঠানো ঘিরে যদিও ‘বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলে’র আভ্যন্তরে তর্কবিতর্ক ছিল।তাছাড়া হাইকোর্টের কর্মরত দুই বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। নারদা মামলায় বিভিন্ন নির্দেশ ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট অবধি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ভূমিকা সওয়াল-জবাব চলে। তবে এবার খোদ কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করে প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি কতদূর হবে, তার দিশা নির্দেশ জানতে দারস্থ হলেন। বিচারপতিদের বিচার্য বিষয় নির্ধারণ হবে কিভাবে?  তাও জানতে চেয়েছেন দাখিল পিটিশনে।এখন দেখার দেশের সর্বোচ্চ আদালত  কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সাহেবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কি গাইডলাইন জারি করে?  এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল কে ঘিরে যে মামলা কেন্দ্রিক বিতর্ক রয়েছে , তাতে শুধু এই রাজ্যের নয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও আইনমহল তাকিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক অফিস দেখে থাকেন রেজিস্টার জেনারেল পদমর্যাদা পূর্ণ জুডিশিয়াল অফিসার। তাই কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সম্মতিতেই সুপ্রিম কোর্টে দাখিল  এই মামলা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। চলতি মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এর সিঙ্গেল বেঞ্চে এক মামলার শুনানি চলেছিল।সেখানে ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য বিরক্ত হয়েছিলেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি। তিনি সেদিন ওই মামলার শুনানি স্থগিত রেখে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সাহেবের মাধ্যমে প্রজেক্ট কো অডিনেটার কে লিংক ফেল সহ নেটের স্লো স্পিড নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন।এই অর্ডারের কপি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকেও ফরোয়ার্ড করেছিলেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য। তার পরেরদিনই সংশ্লিষ্ট বিচারপতির অজ্ঞাতসারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির এহেন পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আপিলেট সাইডের রুলস অনুযায়ী এটি হতে পারেনা বলেও জানিয়েদেন তিনি।সিঙ্গেল বেঞ্চের বিবেচনাধীন মামলা কিভাবে শুনানির আগেই ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানো হলো। সেই নিয়ে শুরু হয় আইনী বিতর্ক। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল জানান -” ভারপ্রাপ্ত  প্রধান বিচারপতি ‘মাস্টার অফ রোস্টার’ হলেও একবার কোনো সিঙ্গেল বেঞ্চের  বিচারপতির  ডিটারমিনেশন ঠিক করা হয়ে গেলে হঠাৎ সংশ্লিষ্ট সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি কে না জানিয়ে সেই মামলা ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হাইকোর্ট আপিলেট বিভাগের নিয়মাবলীর পরিপন্থী। এক্ষেত্রে মামলাটি অন্য ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানোর জন্য সঠিক নিয়মাবলির পালন হয়নি “। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করলেন সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ক্ষমতা কতদূর হবে, তার দিশা নির্দেশ সহ বিচারপতিদের বিচার্য বিষয় নির্ধারণ হবে কিভাবে?  তা জানতে চাওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে।চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *