ক্রীড়া সংস্কৃতি

দুস্থদের সাথে জন্মদিন পালন বর্ধমানের মেয়ে

দুস্হদের সঙ্গে প্রাক জন্মদিন পালন করল বর্ধমানের মেয়ে

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,

        সাধারণ মধ্য বা নিম্নবিত্ত বাঙালির সাধ অনেক থাকলেও সাধ্য থাকেনা। চলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা। অনেক সময় সীমিত সাধ্যের মধ্যেও ইচ্ছে পূরণ করার  সুযোগ চলে আসে। যেমনভাবে ইচ্ছে পূরণ হলো রায়না ২ নং ব্লকের কাইতি অঞ্চলের শ্রীরামপুরের সুমতি ঘোষের।
        বাবা-মায়ের চারকন্যার মধ্যে বড় সুমতি। বাবা সুশান্ত ঘোষ সামান্য এক চাষী এবং মা পারুল গৃহবধূ। এই রকম এক পরিবারের সন্তান হয়েও সুমতির ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজের জন্মদিনে কিছু অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। বাচ্চাদের হাতে লজেন্স তুলে দিলেও নিজের বড় ইচ্ছেটা পূরণ না হওয়ায় সে বড় মানসিক কষ্টে ছিল। অবশেষে গত ২৫ শে জুলাই জন্ম দিনের আগেই তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে পূরণ হলো। যদিও তার জন্মদিন ২৭ শে জুলাই। অভিন্ন হৃদয় বান্ধবী পাড়ার মেয়ে বৈশাখীর (পূজা) মাধ্যমে যোগাযোগ ঘটে বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা 'বিশ্বজিৎ ফাউন্ডেশন' এর কর্ণধার অবীক চ্যাটার্জ্জীর সঙ্গে। বৈশাখী ঐ সংস্হার সদস্য। তারপর সংশ্লিষ্ট সংস্হার সহযোগিতায় বর্ধমান স্টেশন চত্বরের ৫৫ জন দুস্হের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিরিয়ানির প্যাকেট। প্যাকেট পেয়ে দুস্হরা খুব খুশি। প্রসঙ্গত স্টেশন চত্বরেই সুমতির মুখে কেক তুলে দিয়ে সংস্হার সদস্যরা তাকে জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা জানায়। 
        সুশান্ত বাবু বললেন - মেয়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছের কথা আমরা জানি। আমি সামান্য চাষীবাসী মানুষ। মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো, সংসার প্রতিপালন করে  মেয়েকে আর্থিক সাহায্য করার ক্ষমতা আমার ছিলনা। অবশেষে গৃহশিক্ষকতার অর্থ জমিয়ে মেয়ে তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে পূরণ করাতে আমি খুব খুশি। আশীর্বাদ করি ও আরও বড় হোক। কথা বলতে বলতে চোখের কোণ ভিজে যায় সুশান্ত বাবু ও তার স্ত্রীর।
     মনের মধ্যে লালিত  দীর্ঘদিনের সুপ্ত ইচ্ছে বাস্তবে পরিণত হওয়ায় সুমতির খুব আনন্দ। তার বক্তব্য - আমরা যদি নিজেদের সাধ্যমতো এগিয়ে আসি তাহলে এইসব অসহায় মানুষগুলো একদিনের জন্যে হলেও দুমুঠো খাবার পাবে। স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সে সংশ্লিষ্ট সংস্হার কর্ণধার ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়।
     বিশ্বজিৎ  ফাউন্ডেশনের কর্ণধার অবীক চ্যাটার্জ্জী বললেন - আমরা চাই সুমতির মত আরও অসংখ্য মানুষ এরকম মহতী উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসুক। বান্ধবীর গর্বে বুক ফুলে ওঠে বৈশাখীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *