পুলিশ

পথদুর্ঘটনা আটকাতে দিনরাত এক করছে গুসকরা ট্রাফিক গার্ড

দুর্ঘটনা রোধে গুসকরায় সদা সতর্ক ট্রাফিক গার্ড,

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,

  জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে যানবাহন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গতির প্রতিযোগিতা। সেই তুলনায় রাস্তাঘাট বাড়েনি। সেটা বাস্তবে সম্ভবও নয়। ফলে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিষয়টি লক্ষ্য করে রাজ্যের সংবেদনশীল মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছর আগে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ’ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। মূল লক্ষ্য ছিল দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমানো। তাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত প্রকল্পকে সফল করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্যের সমস্ত থানার ট্রাফিক আধিকারিকরা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। একদিকে মানুষকে সচেতন করা ও অন্যদিকে ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ। মিলিত ফল দুর্ঘটনার হার বা সংখ্যা কমে আসা।
এবার সেই সংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য রাজ্যের অন্যান্য থানার সঙ্গে সতর্ক আছে আউসগ্রামের গুসকরা ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেমন নদীপটি, স্কুলমোড়, বলগোনা মোড়, রেল গেট প্রভৃতি জায়গায় চলছে গাড়ি বিশেষ করে মোটরবাইক পরীক্ষার কাজ। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেক মোটরবাইক আরোহী হেলমেট না পড়েই ছুটে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই চলছে এই ‘চেকিং’।
গুসকরার ট্রাফিক আধিকারিক অনন্তদেব সাহা বললেন – আমাদের মূল লক্ষ্য দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা, জনগণকে ‘হ্যারাস’ করা নয়। তাই আমরা কখনো গোলাপ দিয়ে, কখনো বা হাতজোড় করে অনুরোধ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের সাবধানে গাড়ি চালানর ও হেলমেট ব্যবহার করার এবং গাড়ি চালানর সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাদের বারবার বলি- জরিমানা হয়তো দেওয়া যাবে কিন্তু সামান্য একটা ভুলের জন্য জীবন চলে গেলে সেটা আর ফিরে পাওয়া যাবেনা। নিজ নিজ পরিবারের স্বার্থে তিনি সবাইকে সচেতন হতে বলেন। তিনি আরও বলেন শুধু পুলিশ নয় জনগণের সহযোগিতা এই প্রকল্পকে সাফল্যের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেবে। সবার মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনা কমলেও আমাদের লক্ষ্য সেটা শূন্যে নামিয়ে আনা। আশা করা যায় সবার সহযোগিতায় সেটা দ্রুত সম্ভব হবে।
‌ গুসকরা তৃণমূল শহর সভাপতি কুশল মুখার্জ্জী ট্রাফিক আধিকারিকদের ভূমিকায় খুব খুশি। তিনি বলেন – গুসকরার আশেপাশের গ্রামের বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে গুসকরায় আসে। হেলমেট বিহীন অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বহুবার দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ঘটেছে। তবে ট্রাফিক আধিকারিকদের ত‍ৎপরতায় সেই সংখ্যা অনেক কমেছে। আশা করা যায় নিজেদের স্বার্থে মোটরবাইক চালকরা আরও সতর্ক হবে এবং গুসকরা হয়ে উঠবে দুর্ঘটনাহীন শহর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *