ক্রীড়া সংস্কৃতি

বর্ষায় অপরুপ অযোধ্যা পাহাড়

বর্ষা সিক্ত অযোধ্যা পাহাড়ের সৌন্দর্য দর্শন :,


অন্তরা সিংহরায়,

বাঁধাধরা জীবন থেকে একটু বিরতি পেতে চান তো বেরিয়ে পড়ুন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে ।ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত অযোধ্যা পাহাড় পুরুলিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র । অযোধ্যা পাহাড়ের গড় উচ্চতা প্রায় ২০০০ ফিট , উচ্চতম শৃঙ্গ গোর্গাবুরু। পাহাড়ের মাথাটি হিলটপ নামে খ্যাত। পাহাড়ের মাথাটি প্রায় সমতল ও জনবহুল। জনশ্রুতি আছে স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র এই পাহাড়ে এসেছিলেন। জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ে অসংখ্য অাদিবাসীদের গ্রাম দেখা যায় । কৃষিকাজ ও পশুপালন হলো আদিবাসীদের প্রধান জীবিকা তাছাড়া বন সম্পদ তো আছেই । বর্তমানে অযোধ্যা পাহাড়ের রাস্তাঘাট উন্নত । রাস্তাঘাট ভালো হওয়ার জন্য এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় যাওয়াটা খুব সোজা ।বসন্তে পলাশের শোভা পাহাড়গুলোর সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে তবে বর্ষাকালে অযোধ্যা পাহাড়ের সৌন্দর্য কম কিছু নয় । সবুজের চাদরে মুড়ে অপরূপ হয়ে উঠেছে পাহাড়গুলি ও বর্ষার জলে ঝরণাগুলিও তারুণ্যে ভরপুর। পিচ রাস্তা বাদেও পাহাড়িয়া আঁকা বাঁকা কাঁচা রাস্তা তার সাথে কচি ধানের বপন বর্ষার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে । ধান ছাড়াও পাহাড়ে ভুট্টা ও নানারকম সবজীর চাষ হয় । আমাদের গাড়ি সবুজের প্রান্ত ধরে ,ঝিরঝিরে বৃষ্টি মেখে হিলটপে গিয়ে পৌঁছালো । হিলটপে হোটেল আছে অনেকগুলো তবে আগে থেকে বুক করে রাখলে পর্যটকদের সুবিধা হয় । শান্ত ,সিগ্ধ এক অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ । হিলটপ ছাড়াও বাগমুন্ডিতে থাকার অনেক হোটেল আছে। তবে হিলটপে হোটেল ভাড়া বেশী হয় । হিলটপে তাবুতে থাকাও ব্যবস্হা আছে । অযোধ্যা ঘুরতে গেলে অবশ্যই দেখবেন সান রাইজের স্পট ,আপার ড্যাম ,লোয়ার ড্যাম , মার্বেল লেক , বামনী ফলস , হিলটপ ,ময়ূর পাহাড় ,পাখি পাহাড় ,চড়িদা গ্রাম বা মুখোশ গ্রাম । যেহেতু অযোধ্যা পাহাড়ী এলাকা ,তো প্রতিটি জায়গা অপরূপ। দেখার মতো আরো অনেক স্পট বা জায়গা আছে । সান রাইজ স্পটে সম্পূর্ণ পাহাড় এলাকাটা দেখতে পাবেন । বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ওখানে যাবেন দিনের শুরু অর্থাৎ ভোরে বা শেষ বিকেলে। আপার ড্যাম জল ও পাহাড়ের মিলনে খুবই সুন্দর । মার্বেল লেক আসলে পাথর খাদান ,তার দৃশ্য অতুলনীয় । মুখোশ তৈরির গ্রাম চড়িদা ,যেখানে ঘরে ঘরে মুখোশ তৈরী হয় ,সেটিও দেখার মতো ।এখানে রাতে ঘোরা বিপদজনক কারন বন্য পশু ও সাপের ভয় থাকে। সব মিলিয়ে স্বল্প দিনের ট্যুরে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পুরুলিয়ার অযোধ্যা বেস্ট ।পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সাথে দু’ দিন ব্যস্তময় জীবন থেকে প্রকৃতির কোলে একটু বিরতির স্বাদ । অযোধ্যায় গেলে যেটা ভুলবেন না খেতে বন মুরগির ঝোল ও ভাভরা ভাজা । আমরা আনন্দ করেছি খুব তার সাথে বন্ধু বান্ধবদের উপহার দেবো বলে কিনে এনেছি অযোধ্যার মুখোশ গ্রাম থেকে বেশ কিছু মুখোশ । শনি – রবিবারের ছুটিতে আপনারাও বেরিয়ে পড়ুন বর্ষায় সিক্ত সবজে-নীল পাহাড়ী অযোধ্যার সৌন্দর্য দর্শনে। স্মরণীয় একটি ট্যুর হয়ে থাকবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *