হাইকোর্ট সংবাদ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর রিপোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে দ্বিতীয় বীরভূম

 রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট পেশ
ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে বীরভূম 


        খায়রুল  আনাম 
একটুর জন্য পিছিয়ে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান পেল বীরভূম জেলা। প্রথম স্থানটি দখল করে নিলো কোচবিহার জেলা।  রাজ্য বিধানসভা ভোট ও ভোট পরবর্তী সময়ে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন কী, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসার চিত্র চাক্ষুষ করে এসে, একে ‘হাড় হিম করা সন্ত্রাস’   বলে উল্লেখ করার পরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা আরও উচ্চতর মাত্রা পায়। প্রথম পর্যায়ের সফরের পরে রাজ্যপালের দ্বিতীয় পর্যায়ের সফর সূচিও ছিলো। কিন্তু ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এবং রাজ্যপালের দ্বিতীয় পর্যায়ের সফর সম্পন্ন হলে, হিংসার  আরও কত চিত্র উঠে আসতো,  সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তদন্তে এগিয়ে আসে।   আর সেই তদন্তভার দেওয়া হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে।     রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ হয় ২ মে। আর সেই ফলাফলে রাজ্যে তৃতীয়  বারের জন্য ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।   রাজ্যে ক্ষমতা দখলের মধ্যে দিয়ে বিজেপি পালাবদলের কথা বললেও, তারা ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও রাজ্যে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসে। বাম এবং কংগ্রেস একেবারে শূন্যে পৌঁছে যায়। আর তারপর থেকেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী  হিংসা  ও সন্ত্রাসের যে অভিযোগ ওঠে তাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় বিজেপি।  বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর লুঠপাট, অগ্নি সংযোগ এবং একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটে।  বহু বিজেপি কর্মী, সমর্থক এলাকা ছাড়া হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা রাজ্যের অন্যান্য জায়গার সাথে বীরভূম জেলাতে দু’দফায় সরেজমিনে তদন্ত এসে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে কথা বলা ছাড়াও ঘরছাড়া বহু পরিবারের সাথেও কথা বলেন।  ৮ মে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল আকাশ পথে হেলিকপ্টারে বোলপুরের পারুলডাঙা মাঠে নেমেও কয়েকটি জায়গায় পরিদর্শনে যায়। মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল দু’দফায় জেলায় এসে ঘরছাড়া সব মানুষজনদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও আলোকপাত  করে যায়। এমন কী, আদালত ঘরছাড়া সমস্ত মানুষকে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললেও, তা কার্যকরী  হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠার পরে  ১৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  প্রিয়াঙ্কা  টিবরিয়াল জেলায় এসে কয়েকটি থানায় গিয়ে জানিয়ে আসেন যে, আদালতের নির্দেশে ঘরছাড়াদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়াটা পুলিশের  কর্তব্য।  পুলিশ সেই কর্তব্য পালন করতেও বাধ্য। কিন্তু তা হচ্ছে না।     এই প্রেক্ষাপটেই মানবাধিকার কমিশন ১৬ জুলাই  রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার  তদন্ত  রিপোর্ট  কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করার পর থেকেই তা নিয়ে রাজ্য- রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ডাক পেয়ে ১৭ জুলাই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর দিল্লী গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। আর তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা শুরু  হয়ে গিয়েছে।  এমন কী, হঠাতই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখাও করে এসেছেন। মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে  ৩২২ টি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে কোচবিহার জেলাকে এক নম্বর স্থানে পৌঁছে দিয়েছে  । আর  ৩১৪ টি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বীরভূম জেলাকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয়  স্থান।  এই অভিযোগে নাম রয়েছে  বীরভূম জেলা পরিষের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান, শান্তিনিকেতন থানার কঙ্কালীতলা গ্রাম পাঞ্চায়েতের উপ-প্রধান  শেখ মামন ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পঞ্চনা  খানের। এতে রাজ্যস্তরের  তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার  জয়দীপ ঘোষ, বিধায়ক উদয়ন গুহ,  চিৎপুরের তৃণমূল  কংগ্রেস নেত্রী ঊমা দাস ও তার স্বামী  লালু দাস এবং নন্দীগ্রামে মমতা    বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান,  বিধায়ক খোকন দাস ও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রীয় মল্লিকের নামও রয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করার কথাও বলেছে মানবাধিকার কমিশন। সেই তিনজন কে কে, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়নি ।।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *