পুলিশ

সদাইপুরের সাহাপুরে উদ্ধার ৪৪ টি তাজা বোমা

উদ্ধার ৪৪ টি তাজা বোমা
গ্রামের ক্ষমতার রাশ ধরে রখতে গোষ্ঠী বিবাদে উত্তপ্ত সদাইপুর
        খায়রুল  আনাম
রাজনৈতিক সমীকরণে গ্রামের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, এই নিয়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরে বীরভূমের ঝাড়খণ্ড রাজ্য সীমানা লাগোয়া সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামে যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তাতে, সেই ক্ষমতা ধরে রাখার সমীকরণই কাজ করছে বলে মনে করছেন সাহাপুর-সহ আশপাশের গ্রামের মানুষজন। সাহাপুর গ্রামে বুধবার ১৪ জুলাই এতো পরিমাণে বোমাবাজি হয় যাতে, সাহাপুর-সহ গোটা এলাকার মানুষ  প্রায়  সারাদিন  বাড়ির বাইরে বের হতে পারেননি। এই ঘটনার মধ্যেই এদিন বিকালের পরে সাহাপুর থানারই  ভুরকুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের  তুরুকবড়িহাট গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী  শেখ ইসলামের  টিনের চালের ঘর বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে,  সাহাপুর গ্রামে বোমাবাজি ও  তুরুকবড়িহাট গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মধ্যে নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। সাহাপুর গ্রামে সংঘর্ষের জন্যই  তুরুকবড়িহাট গ্রামে বোমা বাঁধার কাজ চলছিলো। তাতে বিস্ফোরণ না ঘটলে এখানকার  গোষ্ঠী সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ  করতো বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সাহাপুর গ্রাম থেকে ৪৪ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে সেগুলি নষ্ট করে দেয়। এখানকার মানুষ মনে করছেন, এলাকায় আরও তাজা বোমা মজুত  থাকতে পারে।     সাহাপুর গ্রামে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের যে দু’টি গোষ্ঠী রয়েছে তার একটির   নেতৃত্বে রয়েছেন শেখ নবি ও অপর  গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি  শেখ এনামুল। প্রায় বছর দুই আগে  শেখ এনামুলের বিরুদ্ধে দুর্নীত ও অত্যাচারের অভিযোগ তুলে শেখ নবি গোষ্ঠীর লোকজন  শেখ এনামুলকে গ্রাম ছাড়া করে দেয়। হঠাতই  শনিবার  ১০ জুলাই  এক কিশোরীর নামে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্টকে ঘিরে সাহাপুর গ্রামেরই  শেখ লালন নামে এক বাসিন্দার ভাইকে শেখ  নবির লোকজন বেধড়ক মারধর করে ও  শেখ লালনের ঘর ভাঙচুর করে  এবং লুঠপাট চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই  শেখ লালন  সম্পর্কে শেখ এনামুলের আত্মীয়। শেখ লালন  শেখ নবি-সহ তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতেই শেখ এনামুল ও তাঁর সঙ্গীরা গা ঢাকা দেয়।      এই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার ভোর  থেকে সাহাপুর গ্রামে বোমাবাজি শুরু হয়।  বোমা মেরে শেখ নবির সীমানা পাঁচিল  গুঁঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং  গ্রাম থেকে ৪৪ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। গ্রামের মানুষ বলছেন, শেখ এনামুল ও শেখ নবি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে,  প্রায় বছর দুয়েক আগে শেখ এনামুলের বিরুদ্ধে  দুর্নীতি ও অত্যাচারের অভিযোগ তুলে শেখ নবি গোষ্ঠীর লোকজন তাঁকে গ্রাম ছাড়া করে দেয়। সেই শেখ এনামুলই এবার গ্রামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে ফেরার চেষ্টা করে এবং নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গ্রামে নিজের প্রতিপক্ষ শেখ নবির বাড়ির সীমানা পাঁচিল বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেয়। আবার এলাকার  তুরুকবড়িহাট গ্রামে  শেখ ইসলামের টিনের চালের বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বৃহস্পতিবার বিকালের পরে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটায় টিনের চালের বাড়িটি উড়ে গিয়েছে। সাহাপুর গ্রামে বোমাবাজি ও  ৪৪টি তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে তুরুকবড়িহাটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার কোনও যোগ আছে কী না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *