প্রশাসন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের রক্ষা করতে শিশু চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

শিশুদের রক্ষা করতে শিশু চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

        খায়রুল  আনাম  
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।  তাই যে কোনও পরিস্থিতি এবং অসুখ-বিসুখের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে নানাবিধ স্বাস্থ্য পরিষেবা মূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়ে থাকে। শিশুদের পোলিও মুক্ত রাখতে যেমন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তেমনি শিশু মৃত্যুহারকে শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক শিশু জন্মকে প্রায় বাধ্যতামূলক করা গিয়েছে এবং সে জন্য গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতিকে সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া-আসার জন্য  বিনা ভাড়ায়  মাতৃযানের  ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে গর্ভবতীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি প্রকল্পের সরকারী পরিষেবা।      কিন্তু বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতি  আমাদের এমন এক সন্ধিক্ষণে এনে দাঁড়  করিয়ে দিয়েছে যেখানে শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন দেখা  দিতে শুরু করেছে। চিকিৎসকেরা মনে করছেন,  বিশ্বব্যাপী মারণ রোগ করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়ঙ্কর  হয়ে  ধেয়ে আসছে।    এবং  সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। আর তা থেকে শিশুরাও যে রেহাই পাবে না, চিকিৎসকেরা সে ব্যাপারে প্রায় সুনিশ্চিত  হয়ে গিয়েছেন। তাই শিশুরা যাতে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য সমস্ত রকমের  রোধ প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনামুক্ত হওয়ার পরে শিশুরা মাল্টিসিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম বা এমআইএস-এ আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের কী ভাবে  চিকিৎসা করতে হবে, সে ব্যাপারে জেলা বীরভূমের  সিউড়ির জেলা সদর হাসপাতাল ও বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে  শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক চিকিৎসকদের  প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হলো।  এই প্রশিক্ষণ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।   সেইসাথে জেলার সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল,  রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে  পিআইসিইউ, এসএনসিইউ ও পেডিয়াট্রিক এইচডিইউ  শয্যা বাড়ানোর  কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে।        জেলায় এই প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার আগে  গত মাসেই  শিক্ষক চিকিৎসকদের  দিয়ে জেলার বাছাই করা কিছু শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে  ভার্চুয়াল মোডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলো রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবন।  এবার বাইরে থেকে আগত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসকেরা জেলায় এসে এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।   স্বাস্থ্য দফতর মনে করছে,  তৃতীয় ঢেউয়ে করোনা সংক্রমণের  কারণে শিশুদের দেহে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে যার প্রভাব শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। ইতিমধ্যেই  করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্রিটেন,  আমেরিকা ও বাংলাদেশের  বহু শিশু  এমআইএসে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগটি যে হেতু করোনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তাই করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। এমআইএস-এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি হলো জ্বর,  ঘাড় ও পেটে ব্যথা, ডায়ারিয়া, বমি, শরীরে  রাশ, চোখ লাল হওয়া, বেশি ক্লান্তিভাব অনুভব  করা, লিভার ও কিডনি ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলি এক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। আবার সব শিশুর ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। তবে, এই রোগের ক্ষেত্রে  শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, বুকে চাপ ও ব্যথা অনুভব করা, জেগে থাকতে কষ্ট হওয়া, ঠোঁট এবং মুখ নীলাভ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেবে। তবে, যে কোনও পরিস্থিতি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে তাদের কোভিড আক্রান্তের কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিআইসিইউ, এসএনসিইউ, পেডিয়াট্রিক  এইচডিইউ ও সাধারণ কোভিড ওয়ার্ডে  ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা কেমন হবে তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।    ভেন্টিলেটর বিভাগে কী কী সতর্কতা নিতে হবে তাও এখানে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমগ্র প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দিল্লী,  মুম্বাই, হায়দরাবাদ, কলকাতা-সহ প্রভৃতি জায়গা থেকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা এসে করোনার ডেল্টা ও আলফা প্রজাতির সংক্রমণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণই দিচ্ছেন। এবং এরফলে শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে ।।        

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *