ক্রীড়া সংস্কৃতি

সামাজিক কাজে সাশ্রয় খাবার বন্টনে গুসকরায় এই ক্লাব

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,

      গত ২৭ শে জুন গুসকরা শিরিষতলা বয়েজ ক্লাবের পক্ষ থেকে নির্মিত শহীদবেদীর বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে শহরবাসী ও নিকটবর্তী বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ করা হয় - বাড়ির যেকোনো সামাজিক কাজে উদ্বৃত্ত খাবার নষ্ট না করে ক্লাব সদস্যদের জানালে তারা সেই খাবার এলাকার দুস্থদের মধ্যে বিলি করবে। যোগাযোগের জন্য তারা কয়েকটি মোবাইল নম্বরও দেয়। আবেদনের কয়েক দিনের মধ্যেই তারা সাড়াও পায়।
  কয়েক দিন আগে গুসকরা পূর্বাশা পল্লীর (৮ নং ওয়ার্ড)  বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর (বুবাই) বাবা মারা যান। সামাজিক নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দিনে তাঁর পারলৌকিক অর্থাৎ শ্রাদ্ধের কাজও হয়। বাবার আত্মার শান্তির জন্য বিশ্বজিৎ বাবুর পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ বিশ্বজিৎ বাবুর মা, দিদি ও স্বয়ং বিশ্বজিৎ বাবুর ইচ্ছে ছিল কিছু দুস্থ মানুষকে খাওয়ানো। করোনা আবহে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে সেটা নিজের বাড়িতে সম্ভব ছিলনা। ফলে ওরা বয়েজ ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের ইচ্ছের কথা বলে। ক্লাবের সদস্যরা সেই খাবার নিয়ে এসে গরম করে  রাতে খাওয়ার যোগ্য করে তোলে এবং  রাতের বেলায় গুসকরা স্টেশনের দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে সেই খাবার বিতরণ করে।
      দ্বিতীয় ঘটনাটির ক্ষেত্রে বয়েজ ক্লাবের আবেদনে সাড়া দিয়ে 

৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুব্রত সাঁই বয়েজ ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও মৃত বাবার আত্মার শান্তির জন্য দুস্থদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ক্লাব সদস্যদের হাতে তুলে দেন। ক্লাবের ‘মানববন্ধন খাদ্যভ্যান’ সেই খাবার আদিবাসী পাড়ার কিছু দুঃস্থ মানুষদের হাতে তুলে দেয়।
গত ১০ ই জুলাই দুস্থ মানুষদের খাওয়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক দিন ছিল। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাড়ার এক দাদা। এছাড়া অমর জিত ঠাকুর কিছু চাল দিয়ে এবং পাড়ার এক বৌদি কিছু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
প্রসঙ্গত ক্লাবের সদস্য না হয়েও বিনা পারিশ্রমিকে রান্নার কাজে সহযোগিতা করেন পাড়ার গণেশ শর্মা। তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন রঞ্জু শর্মা, মৌসুমী শর্মা, শিউলি গড়াই প্রমুখ।
বিশ্বজিৎ বাবু বলেন – আমার প্রয়াত বাবা দুস্থদের খাওয়াতে খুব ভাল বাসতেন। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ক্লাব সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সুর শোনা যায় সুব্রত সাঁইয়ের কণ্ঠে। তিনি বলেন – আমার সাধ্যমতো ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে সাহায্য করব।
আবেদনে সাড়া দেওয়ার জন্য ক্লাব সভাপতি সওগত মল্লিক দু’জনকেই ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেন আগামী দিনে আরও অনেকেই তাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।
সংশ্লিষ্ট ক্লাবের ভূমিকার কথা জানতে পেরে স্হানীয় বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার খুব খুশি। তিনিও সাহায্যের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *