প্রশাসন

ভূমি মাফিয়াদের হাত থেকে অজয় নদ কে বাঁচানোর উদ্যোগ

খায়রুল আনাম, ৪ জুুুলাই

 ভূমি মাফিয়াদের  গ্রাস থেকে অজয় নদ বাঁচাতে অভিনব  উদ্যোগ
         
জেলা বীরভূম ও বর্ধমান জেলার সীমান্ত এলাকা বরাবর বয়ে গিয়েছে অজয় নদ। প্রতি বছর বর্ষার সময় অজয়ে জলস্ফীতি দেখা দিলে নদের বাঁধ ভেঙ্গে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলে ভেসে যায় জনপদ এবং কৃষিক্ষেত্র। বোলপুর-শান্তিনিকেতন এবং ইলামবাজারের দ্বারোন্দার  অজয় তীরবর্তী এলাকায়  সাম্প্রতিককালে গজিয়ে উঠছে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট।   আর তারই প্রয়োজনে অজয় তীরবর্তী এলাকার নদের বাঁধ কেটে এবং তার গতিপথের পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলা হচ্ছে নানাভাবে। যাতে পর্যটকরা এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং হোটেল, রিসোর্টে খদ্দেরদের ভীড় বাড়ার মধ্যে দিয়ে আর্থিক মওকা লোটা যায়, সেই লালসা থেকেই এসব করে চলেছে এক শ্রেণির ভূমি মাফিয়া। প্রশাসনের একাংশের মদতেই যে এই নদ- নদী এবং লুঠের কারবার চলছে, সেটাই মনে করা হয়।    এসব নিয়ে মাঝেমধ্যে  ক্ষণজীবি প্রতিবাদও হয়। কিন্তু প্রতিবাদী ভাষার চেয়ে ভূমি লুঠেরাদের হাত অনেক শক্ত ও প্রসারিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অবাধে এই লুঠ চলছে। তাই এবার এই নদ-নদী চুরির প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলেন নাট্য কর্মীরা। রবিবার ৪ জুলাই নাট্য ব্যক্তিত্ব  পার্থ গুপ্ত অজয় নদ তীরবর্তী দ্বারোন্দা এলাকায় কমে আসা জলের অজয়ের জল- কাদায় হাজির হয়েছিলেন আদিবাসী পুরুষ, রমণীদের সঙ্গে নিয়ে।  সেখানে  মাদলের বাজনার সাথে সাথে  নৃতরত আদিবাসী রমণীদের হাতে হাতে ছিলো পাখির বাসা। নদ-নদী ধ্বংস হওয়ায় কেবলমাত্র যে মানুষই বিপন্ন হচ্ছে তাই নয়, একের পর এক বৃক্ষ নিধনের ফলে নিরাশ্রয় হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে পাখিরাও। তাই সবার হাতে পাখির বাসা তুলে  দিয়ে পাখিদের নিরাশ্রয় না করার আবেদনও রাখা হয়। আর সেখানে সারা শরীরে বৃক্ষ জড়ানো এক ব্যক্তিকে ইটের গহ্বরে প্রতীকী ঢাকা দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় ভূমি মাফিয়াদের আগ্রাসী থাবাকেও। শুধু এখানেই নয়, তাঁরা এই বার্তা নিয়ে নদ-নদী এলাকায় যেখানেই প্রকৃতিকে গ্রাস করা হচ্ছে, সেখানেই যাবেন বলে জানিয়েছে এই প্রতিবাদী  মুখগুলি।।          

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *