পুলিশ

সিউড়িতে পরকীয়ায় স্বামীর লাশ উদ্ধার পুকুর থেকে,ধৃত স্ত্রী

খায়রুল আনাম, ৭ জুুলাই

তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির  সম্ভাবনা
পুকুরের তলা থেকে স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী
         
পুকুরের জলের তলা থেকে বিবাহিত এক যুবকের মৃতদেহ  উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের সিউড়ির ছোটো আলুন্দা গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের দিদি এই ঘটনার জন্য তার ভাইয়ের স্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মৃতের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।সেই সঙ্গে তার শিশু কন্যাকেও নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।      সিউড়ির ছোটো আলুন্দা গ্রামের শেখ পাড়ার জরিনা বিবি জানান,   তার বিবাহিত ভাই শেখ আলাউদ্দিন  ও তাঁরা একই পাড়ায় পৃথক বাড়িতে বসবাস করেন। পাড়ায় তাঁদের অন্যান্য আত্মীয়রাও রয়েছেন। বুধবার  ৭ জুলাই রাত্রি ১২ টা ৪০ মিনিটের সময় তাঁর ভাই শেখ আলাউদ্দিনের স্ত্রী  আরজিনা বিবি নিজের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে। তিনি ও তাঁর স্বামী উঠে এলে ভাইয়ের স্ত্রী আরজিনা বিবি জানায় যে, তাঁর ভাই শেখ আলাউদ্দিন কখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে,  সে জানে না। তার কোনও সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।  তিনি পাড়ার অন্যান্য আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের উঠিয়ে বিষয়টি জানান। চতুর্দিকে শেখ আলাউদ্দিনকে খোঁজাখুঁঁজি শুরু হলেও, তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই সময়ই শেখ আলাউদ্দিনের স্ত্রী আরজিনা বিবি জানায় যে, তাঁর স্বামী পুকুরপাড় দিয়ে গিয়েছেন বলে তাঁর  সন্দেহ হচ্ছে। তার পরিধেয় লুঙ্গিটি পাওয়া যায় পুকুরের পাড়ে। তখনই গ্রামের অনেকেই পুকুরের জলে নেমে সন্ধান শুরু করেন। সেই সময়ই জলের তলায় পায়ে কিছু ঠেকলে, সকলে সেটি তুলে দেখেন, সেটি শেখ আলাউদ্দিনের মৃতদেহ।  তাঁর পরনে  ছিলো জাঙ্গিয়া। এরপরই দেখা দেয় চাঞ্চল্য  এবং উত্তেজনা। রাত্রেই বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানানো হয় সিউড়ি থানায়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পুলিশ  ঘটনাস্থলে না আসায় বুধবার সকালে গ্রামের মানুষ  সিউড়ি–সাঁঁইথিয়া রোড অবরোধ  করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এরপরই সিউড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতেই এলাকার মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মারমুখী হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষজন। তাঁরা মৃতের স্ত্রীর দিকে পরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগে সোচ্চার হন। পুলিশ কোনক্রমে মৃতদেহ উদ্ধার করে সিউড়ির জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে ময়নাতদন্তের জন্য। মৃতের দিদি জরিনা বিবি অভিযোগ করেন যে,  তাঁর ভাই শেখ আলাউদ্দিন আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পাড়ার অনেকের সঙ্গেই বসে গল্প করেছিলো। তারপরে কী এমন ঘটলো যে, তাঁর ভাই বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল ?    ভাইয়ের স্ত্রী  আরজিনা বিবি রাত্রে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের জানায় যে, তাঁর ভাই হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে। আবার সেই বলে যে,  তাঁর স্বামী পুকুরপাড় দিয়ে গিয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ হচ্ছে।  এবং এরপরই পাড়ার লোকজন রাত্রেই পুকুরের জলে নেমে তার তলা থেকে শেখ আলাউদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। তাই তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী সমস্ত বিষয়টিই জানেন বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ মৃতের স্ত্রী  আরজিনা বিবিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাঁর ছোট শিশু কন্যাটিও তাঁর সাথে রয়েছে।   অন্য এক   কন্যা রয়েছে আত্মীয়দের কাছে।  তবে, এটি যদি কোনও পরিকল্পিত খুনের ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে তা মৃতের স্ত্রী আরজিনা বিবির একার পক্ষে করা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।  তাহলে এখানে অন্য কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি থাকলে, সেই তৃতীয় ব্যক্তিটি কে ?  মৃতের স্ত্রী আরজিনা বিবি তাহলে কী বিবাহবহির্ভূত  কোনও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ?  আর শেখ আলাউদ্দিনের এই রহস্য মৃত্যুর  পিছনে কী সেই হাতই প্রসারিত হয়েছে ?   এমন সন্দেহই এখন দানা বেঁধেছে এই রহস্য-মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ।।                

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *