পুলিশ

নলহাটির তিনজন মারা গেল দমবন্ধ হয়ে

খায়রুল আনাম, ৭ জুুুলাই,

দমবন্ধ হয়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকে পাথর গ্রাম
     
সামনেই ঈদুজ্জোহা। খরচ হয় একটু বেশিই। গ্রামে কর্মসংস্থানের তেমন একটা ব্যবস্থা নেই।  তাই আর্থিক অসচ্ছলতা কাটিয়ে, পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে  বীরভূমের নলহাটির নোয়াপাড়া গ্রামের চার নির্মাণ শ্রমিক পাড়ি  দিয়েছিলো  হাওড়ার জয়পুরে। নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত শাহনওয়াজই তাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো।  এদের মধ্য  তিন নির্মাণ শ্রমিক গ্রামে ফিরলো, তবে হাসিখুশি মুখ নিয়ে নয়, লাশ হয়ে। আর তাতেই শোকে পাথর হয়ে গেল ওই তিনটি পরিবার-সহ গ্রামের মানুষজন।  বুধবার ৭ জুলাই রাত্রে মৃতদেহ তিনটি গ্রামে পৌঁছতেই কান্নার রোল ওঠে গ্রামে।  কবরস্থ করা হয় তিন নির্মাণ শ্রমিক শেখ সাবির (৩৩), শেখ জাকির (৩২) ও শেখ আলমগীর (২৪)-এর মৃতদেহ।  এদের মধ্যে  শেখ  জাকির ও শেখ আলমগীর  দু’জন সম্পর্কে খুড়তুতো ভাই। অপর শ্রমিক  শেখ নাজিম গুরুতরভাবে জখম হয়ে  উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।         হাওড়ার জয়পুরের ঝামটিয়া এলাকায় একটি বহুতল নির্মাণ কাজের সাথে এরা যুক্ত ছিলো। সেখানে  মঙ্গলবার ৬ জুলাই দুপুরে  রিজার্ভারের  ভিতরে নেমে সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলতে নেমেই দমবন্ধ হয়ে মারা যায় ওই তিন নির্মাণ শ্রমিক। গুরুতরভাবে জখম হয় অপর শ্রমিক।  খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা এসে মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় মর্গে। নলহাটি থানার মাধ্যমেই নোয়াপাড়া গ্রামে তিনজনের মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হয় বলে মৃত শেখ সাবিরের বাবা শেখ আব্দুল শাহিদ জানিয়েছেন।  সংসারে অভাবের জন্য  ছেলে কাজ করতে গিয়ে যে এভাবে  সব শেষ হয়ে যাবে, তা তিনি ভাবতেও পারছেন না।  মৃত শেখ সাবিরের বাড়িতে দু’টি বিবাহ যোগ্য মেয়ে, একটি চার বছরের ছেলে, স্ত্রী ও মা রয়েছেন। মৃতের স্ত্রী ফিরোজা বিবি জানান, স্বামী  মজুরী পেলেই  প্রতি মাসে টাকা পাঠিয়ে  দিত। এখন ভেবে উঠতে পারছি না, মেয়েদের কী ভাবে বিয়ে দেব, ছোট ছেলেকে কী ভাবে মানুষ করবো ?   আমরাই বা খাব কী ?  শেখ জাকিরের  বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, বছর ছয়েকের এক মেয়ে ও  আড়াই  মাসের দুই যমজ ছেলে। তার স্ত্রী  দুলালী বিবি জানিয়েছেন,  আগের রাত্রেই স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিলো।  বাচ্চাদের জন্য প্যাকেট দুধ আনার কথা বলেছিলাম। ও বলেছিলো, কাজ শেষ হলেই মোটা অঙ্কের টাকা পাব। তখন সবই নিয়ে বাড়ি যাবো। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে যাওয়ায়, এখন তিনি বুঝে উঠতে পারছে না, কী করবেন। শেখ  আলমগীরের বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী এবং পাঁচ ও তিন  বছরের দুই মেয়ে।  তার স্ত্রী  জাবেকা বিবিও বলছেন, একদিন আগেই মোবাইলে শেষ বারের মতো কথা হয়েছিলো। তারপরেই সব শেষ। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে  অবশ্য বলা হয়েছে, ওই পরিবার তিনটি  যাতে সরকারী সাহায্য পায়, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে ।।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *