প্রশাসন

কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক, পর্যটকশূন্য শান্তিনিকেতন

খায়রুল আনাম,

 কোভিড  টেস্ট বাধ্যতামূলক
শান্তিনিকেতন-সহ জেলায় কমে যাচ্ছে পর্যটকের সংখ্যা
   
ভাগ্যের ভাঁড়ার ভরে উঠতে শুরু করার সাথে সাথেই, তাতে দেখা দিতে শুরু করেছে ভাটার টান। করোনা বিধির কারণে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং জেলার তীর্থক্ষেত্রগুলির দরজাও বন্ধ রাখা হয়েছিলো।  বন্ধ রয়েছে শান্তিনিকেতনের দ্রষ্টব্য স্থানগুলিও।  আর তাতেই পঞ্চপীঠের জেলা বীরভূম প্রায় পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে। এই জেলার অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটনের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।  করোনা বিধি  শিথিল হওয়ার সাথে সাথে   সড়ক ও রেল পরিষেবা আংশিকভাবে চালু হওয়ার সাথে সাথে শান্তিনিকেতন-সহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে একটু একটু ভীড়ও বাড়তে শুরু করে। যা নিয়ে আশার আলো দেখতে থাকেন অনেকেই। সাফসুতরো  করে হোটেল, লজগুলির দরজাও খুলছিলো।       কিন্তু এরই মধ্যে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র শান্তিনিকেতন ও তারাপীঠে  আসা পর্যটকদের  জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে বেশকিছু  বিধিনিষেধ আরোপ হতেই,  জেলায় পর্যটকদের যে ঢল নামছিল, তাতে ভাটার টান দেখে দিতে শুরু করেছে।  আর তাতেই নতুন করে হতাশা দেখা  দিতে শুরু করেছে জেলার হোটেল, লজ থেকে শুরু করে অন্যান্য  পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে। জেলায় পর্যটকদের আনাগোনা  থাকায়, এ জেলা একটা সময় করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপরের দিকে থেকেছে। আর তাই এবার করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার শান্তিনিকেতন, কঙ্কালীতলা, তারাপীঠের মতো পর্যটন কেন্দ্রে আসা পর্যটকদের জন্য কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পরিপ্রেক্ষিতে  হঠাতই পর্যটকদের আনাগোনায় ভাটার টান দেখা দিতে শুরু করেছে। হোটেল ও লজে থাকতে গেলে কোভিড টেস্টের শংসাপত্র থাকাটা বাধ্যতামূলক করার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ এসে আর হোটল, লজেই থাকছেন না। সারাদিন ভ্রমণ করেই পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন। যে সব পর্যটকরা জেলায় আসছেন তাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় বাধ্যতামূলকভাবে করোনা  টেস্ট করাতে হচ্ছে।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  শান্তিনিকেতন ও তারাপীঠে প্রবেশের আগে করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   জেলা প্রশাসনের পক্ষ  থেকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে  যে, জেলায় যে সব পর্যটকরা আসছেন তাদের   বোলপুরের কাশীপুর বাইপাস এবং জামবুনি টোল প্লাজা ও কঙ্কালীতলায় প্রবেশের আগেই   রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানোর জন্য কিয়স্ক বসানো হয়েছে। একদিনে এখানে ১৬০ জনের  রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করাও হয়েছে।  তারাপীঠে আটলা মোড়, বেলিয়া মোড় ও  ফুলিরডাঙা বাস টার্মিনাসে করোনার কিয়স্ক বসানো হয়েছে। তবে, এখানে  কোনও পজেটিভ রোগীর খোঁজ মেলেনি। গাড়ির চালকদেরও  করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখতে চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে বলা হচ্ছে যে, কেউ করোনা পজিটিভ হলে তাকে নিভৃতবাসে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। আবার যদি কেউ ফিরে গিয়ে নিভৃতবাসে থাকার কথা জানান তাহলে, তাকে যেতে দেওয়া হবে। হোটেল, লজে কেউ থাকতে চাইলে তাকে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এজন্য হোটেল, লজগুলিতে নজরদারি চালাবার কথাও বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যারা হোটেল, লজে থাকবেন তাদের রুমে গিয়েও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখা হতে পারে। আর এইসব ঝক্কি পোহাবার ভয়ে যারা আসছেন তারা আর হোটেল, লজমুখী হচ্ছেন না। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের আনাগোনায় কিছুটা জোয়ার দেখা দেওয়ার পরে, আবারও ভাটার টান দেখা দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন হোটেল, লজ থেকে শুরু করে পর্যটকদের আনাগোনার উপরে নির্ভর করে যাদের   রুজিরোজগার চলে সেইসব মানুষজনেরা ।।    
 ছবি  : পর্যটক শূন্য শান্তিনিকেতন।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *