প্রশাসন

করোনার থাবায় টলিউঠ অভিনেতা আজ মাছ ব্যবসায়ী

সেখ সামসুদ্দিন,

; পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অরবিন্দ প্রামাণিক, ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল অভিনয় করার। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখে এগারো ক্লাসে পড়াকালীন ঘটে গেল প্রখ‍্যাত নাট‍্যকার ও পরিচালক চন্দন সেনের সঙ্গে যোগসূত্র। তারই দলে যোগ দিয়ে অভিনয় প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন নাটক-থিয়েটারে অভিনয়ের সুযোগ। পরবর্তীতে টিভি সিরিয়াল সহ সিনেমার পর্দায় অভিনয় করেন। ২০১১ সালে সুবর্ণলতা সিরিয়ালে খোকার চরিত্রে অভিনয় দুই বাংলার দর্শকদের আকৃষ্ট করেন। তারপর ‘একের পর এক’ ‘রাশি’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’র মত জনপ্রিয় সিরিয়ালে অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দায়, ‘তোর নাম’, ‘হারকিউলিস’ সহ কয়েকটি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। বড় পর্দায় সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনন‍্যা চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসুর সঙ্গে ভাল অভিনয় করে খ‍্যাতির পারদ চড়তে থাকে। এমন সময় ভিলেন চরিত্রে সামনে এলো কোভিড ১৯ উপসর্গ। ফলে বন্ধ হয়ে গেল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শ‍্যুটিং। থেমে গেল তার স্বপ্ন, নেমে এলো পারিবারিক সংকটের মোকাবেলার দায়। বদলে গেল জীবন যাত্রার গতিপথ। বাবার সবজি ও ফলের ব‍্যবসাও সমস‍্যায়, জড়িয়ে পড়ে ঋণের ফাঁদে, পড়েন চরম আর্থিক অনটনের মুখে। এই রকম পারিবারিক পরিস্থিতিতে চুপ থাকতে পারে নি। নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ মনে করে মায়ের কাছে থাকা মাত্র হাজার দুয়েক টাকা নিয়ে নেমে পড়ল মাছ ব‍্যবসায়। স্বল্প সময়ের মধ‍্যেই মানুষের অগাধ ভালভাসাতে মাছ ব‍্যবসাতে নিজেকে প্রতিষ্ঠ করেছে শুধু নয়, মাছ চাষী থেকে মাছ ব‍্যবসায়ী সকলকেই তার প্রতিষ্ঠানমুখি করে তুলেছে। এখন ভোরের  আলো ফোটার আগেই প্রতিদিন মেমারি স্টেশন রোডের ধারে রুই, কাতলা, ইলিশ, চিংড়ি সহ নানান মাছের বেচাকেনার পেশাকে আঁকড়ে ধরেছেন। যদিও তিনি বলেন -“এই পেশা বজায় রেখে যদি অভিনয়ের সুযোগ থাকে নিশ্চয়ই করবেন। কিন্তু কোনোভাবেই এই নতুন পেশাকে ছেড়ে যাবেন না’। পাশাপাশি ভোরে পাইকারি মাছ ব‍্যবসা ও দিনে একটি নতুন ব‍্যবসা যা মেমারিতে কেউ করেনি, এরকম এক নতুন ব‍্যবসার ভাবনা মাথায় রয়েছে। যে কোনোভাবে কঠিন পরিশ্রম করে পরিবারের সংকট মোচন করে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে কাজ করতে প্রতিজ্ঞ। সমাজের চোখে এক নজির সৃষ্টি করছে তেত্রিশ বছরের যুবক অরিন্দম। সব হারিয়েও ঠান্ডা মাথায় জীবন সংগ্রামের পথে কঠিন পরিশ্রমে এগিয়ে চলা যায়। সাধারণ মানুষের কাছে এ ঘটনা হয়তো একটা সিনেমার স্ক্রিপট মনে হবে, কিন্তু বাস্তব ঘটনা। একজন অভিনেতার পক্ষে টালিগঞ্জের স্টুডিও ছেড়ে রাস্তায় হাতে রুই, কাতলা, ইলিশ তুলে ধরে দেড়শো, দুশো, পাঁচশো ধর হেঁকে মাছ বিক্রি করা সহজ নয়, কিন্তু কোভিড আর পারিবারিক পরিস্থিতিতে বাবা মা ও স্ত্রীকে নিয়ে টানাটানির সংসারে অভিনয়ের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া অরিন্দমের সামনে এই পথ বেছে নিতে দ্বিধা হয়নি। তবে কথা প্রসঙ্গে স্টেশন বাজারে অরিন্দমের মাছের দোকানের উল্টো দিকেই বাড়ি আর এক সফল অভিনেত্রী  অন্বেষা হাজরার কথা এসে যায়। ‘হীরা পান্না চুনী’ সিরিয়ালের নায়িকা চুনীর ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে সে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ সিরিয়ালে ঊর্মীর ভূমিকায় সফলতার সঙ্গে অভিনয় করছে। এ বিষয়ে অরিন্দম বলেন –  অণ্বেষা হাজরা একজন সফল নায়িকা। যে কোন সিরিয়াল নায়ক-নায়িকা ছাড়া চলবে না। সুতরাং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক নায়িকাদের নিতেই হবে। বর্তমানে স্বল্প সংখ্যক কলাকুশলীদের নিয়ে কাজ চলছে। তবে অরিন্দমের নায়কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্রে অভিনয় বেশি পছন্দ ছিল। তার মতে ভারত তথা আমাদের দেশে একশো তিরিশ কোটি মানুষের প্রত‍্যেকেরই একটা চরিত্র বিরাজ করছে এবং প্রত‍্যেকেই এক একরকম অভিনয়  করছে। আজ সে পর্দা ছেড়ে বাস্তব জীবনে অভিনয় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *