হাইকোর্ট সংবাদ

স্বচ্ছতা রেখে ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ

স্বচ্ছতা রেখে ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিকে মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


শুক্রবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে তীব্র ভৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য সরকারের এসএসসি দপ্তর। ‘কারা এই কমিশন চালাচ্ছে? অপদার্থদের কমিশন এটি, এসএসসি কে খারিজ করা উচিত’। ঠিক এভাবেই মামলার পর্যবেক্ষণ পর্বে সরব হন বিচারপতি। এদিন এসএসসি তরফে কেউ হাজির না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি। মামলার দ্বিতীয় পর্বে এসএসসির চেয়ারম্যানের জরুরি তলব পড়ে আদালতের নির্দেশে। এদিন আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে – ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি কে। সেখানে অবশ্যই প্রাপ্ত নাম্বারের উল্লেখ থাকতে হবে’।২০১৯ সালের ১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কেন কার্যকর করেনি এসএসসি, তা নিয়েও উঠে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন। গত দশবছরে মামলার বেড়াজালে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সফল হতে পারেনি রাজ্য সরকার। অভিযোগ, অনিয়মের কারণেই এই আইনী জটিলতা। এবারেও ঘটলো তাই, গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে জারি করা হয়েছিল উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ। এরফলে আটকে যায় ১৪ হাজার ৩৩৯ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া। যা নিয়ে ওইদিনই বিকেলে এসএসসির তরফে বসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। চলতি উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাখিল হয়েছিল বেশ কয়েকটি মামলা।গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং পুজোর আগেই ১৪,৩৩৯ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।তবে ইন্টারভিউ তালিকায় নুন্যতম কত নাম্বার পেলে ডাক মিলছে তা ছিল অস্পষ্ট। তাই পরীক্ষার্থীদের একাংশ আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের হাত ধরে ইন্টারভিউ তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে মামলা দাখিল করেন। সেখানে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই বেশি নাম্বার পেয়েও ডাক পাইনি।সেই তথ্য তুলে ধরা হয় আদালতের কাছে। তখন আদালত উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৯ জুলাই। গত ২১ জুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছতা রেখে রাজ্যে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নির্দেশ দেন।সেইসাথে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুজোর আগেই শেষ করবার কথা ঘোষণা করে ছিলেন।সেইমতন গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। তবে এই ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশে কিসের ভিক্তিতে হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তাই নুন্যতম কত নাম্বার পেলে ইন্টারভিউ তালিকায় নাম উঠবে এবং বেশি নাম্বার পেয়েও কেন ডাক মিলেনি ইন্টারভিউতে তা জানতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দাখিল হয়। এই মামলায় গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।শুক্রবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্ট উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এসএসসির অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়।অপদার্থ এর সাথে তুলনা করেন খোদ বিচারপতি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়। প্রাপ্ত নাম্বার সহ এই মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মামলাকারীদের অন্যতম আইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *