হাইকোর্ট সংবাদ

উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আরও এক মামলা, শুনানি মঙ্গলবার

উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আরও এক মামলা দাখিল, শুনানি মঙ্গলবার 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধাতালিকা প্রকাশের সাতদিন সময়সীমা নির্দেশদানের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই দায়ের হলো আরও এক মামলা। যার শুনানি আগামী মঙ্গলবার দুপুরে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। শনিবার উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পদপ্রার্থী সৌমিতা সরকার, হবিবুল্লা সেখদের তরফে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী এই মামলাটি দাখিল করেন। যেখানে ১৩৬ জন পদপ্রার্থীদের মেধাতালিকা থেকে নাম বাতিলের অভিযোগ আনা হয়েছে।যারা ২০১৯ সালে হাইকোর্টের  নির্দেশে স্বচ্ছতা অনুযায়ী মেধাতালিকায় নাম উঠেছিল। তাদের গত ২১ জুন এসএসসি প্রকাশিত মেধাতালিকায় নাম নেই কেন? এইরকম ১৩৬ জন বঞ্চিত হয়েছেন।কোন নিরিখে চলতি মেধা তালিকা টি, তার বৈধতা কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই মামলা বলে জানিয়েছেন আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী। ২০১৯ সালে ১১ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের এজলাসে এইবিধ মামলায় অত্যন্ত কড়াভাবে স্বচ্ছতা রেখে মেধাতালিকা প্রকাশ থেকে শুন্যপদ পূরণের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।যা আদতে মানেনি এসএসসি কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এসএসসি বিভাগ কে অপদার্থ বলেও মামলার পর্যবেক্ষণে জানানো হয়। গত শুক্রবার চলতি উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগের মামলায়  কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে তীব্র ভৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য সরকারের এসএসসি দপ্তর। ‘কারা এই কমিশন চালাচ্ছে? অপদার্থদের কমিশন এটি, এসএসসি কে খারিজ করা উচিত’। ঠিক এভাবেই মামলার পর্যবেক্ষণ পর্বে সরব হয়েছিলেন  বিচারপতি। ওইদিন এসএসসি তরফে কেউ হাজির না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বিচারপতি। মামলার দ্বিতীয় পর্বে এসএসসির চেয়ারম্যানের জরুরি তলব পড়েছিল আদালতের নির্দেশে। ওইদিন আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দাখিল হওয়া অন্য মামলায়  – ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি কে। সেখানে অবশ্যই প্রাপ্ত নাম্বারের উল্লেখ থাকতে হবে’।২০১৯ সালের ১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কেন কার্যকর করেনি এসএসসি, তা নিয়েও উঠে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন। গত দশবছরে মামলার বেড়াজালে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সফল হতে পারেনি রাজ্য সরকার। অভিযোগ, অনিয়মের কারণেই এই আইনী জটিলতা। এবারেও ঘটলো তাই, গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে জারি করা হয়েছিল উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ। এরফলে আটকে যায় ১৪ হাজার ৩৩৯ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া। যা নিয়ে ওইদিনই বিকেলে এসএসসির তরফে বসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। চলতি উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাখিল হয়েছিল বেশ কয়েকটি মামলা।গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং পুজোর আগেই ১৪,৩৩৯ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।তবে ইন্টারভিউ তালিকায় নুন্যতম কত নাম্বার পেলে ডাক মিলছে তা ছিল অস্পষ্ট। তাই পরীক্ষার্থীদের একাংশ আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের হাত ধরে ইন্টারভিউ তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে মামলা দাখিল করেন। সেখানে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই বেশি নাম্বার পেয়েও ডাক পাইনি।সেই তথ্য তুলে ধরা হয় আদালতের কাছে। তখন আদালত উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৯ জুলাই। গত ২১ জুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছতা রেখে রাজ্যে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে নির্দেশ দেন।সেইসাথে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুজোর আগেই শেষ করবার কথা ঘোষণা করে ছিলেন।সেইমতন গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। তবে এই ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশে কিসের ভিক্তিতে হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তাই নুন্যতম কত নাম্বার পেলে ইন্টারভিউ তালিকায় নাম উঠবে এবং বেশি নাম্বার পেয়েও কেন ডাক মিলেনি ইন্টারভিউতে তা জানতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দাখিল হয়। এই মামলায় গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এসএসসির অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়।অপদার্থ এর সাথে তুলনা করেন খোদ বিচারপতি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়। প্রাপ্ত নাম্বার সহ এই মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মামলাকারীদের অন্যতম আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।  এরেই মধ্যে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে দাখিল হলো উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে গত ২০১৯ সালের মেধাতালিকা থেকে ১৩৬ জন কে বাদ দেওয়া নিয়ে মামলা। এই মামলার শুনানি রয়েছে আগামী মঙ্গলবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *