প্রশাসন

হুল দিবসে বীরভূমের আদিবাসীদের করোনা ভ্যাক্সিন

খায়রুল আনাম,

 প্রচারে অলচিকি হরফের  ট্যাবলো
হুল দিবসে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে আদিবাসীদের
         
মারণরোগ করোনা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে এলেও, তার প্রভাব নিঃশেষিত নয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদের মধ্যে এখনও করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিহা বা অজ্ঞতা দুই-ই রয়ে গিয়েছে।  সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর আদিবাসী সমাজের অনেকের মধ্যেই  এখনও করোনা  প্রতিরোধক ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বীরভূম জেলা প্রশাসন আদিবাসীদের হুল  দিবসের অনুষ্ঠানকেই  কাজে লাগাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।    ব্রিটিশ ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী  ভারতের মানুষদের যে লড়াই তাতে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে   এসেছিলো আদিম জনগোষ্ঠীর আদিবাসী সমাজ। আর তার নেতৃত্বে ছিলেন সিধু, কানু,  বীরসা মুণ্ডা  প্রমুখ।  যাঁদের অনেককেই প্রাণদণ্ড দিয়েছিলো ব্রিটিশ শাসক। ঐতিহাসিক সেই ঘটনা হুল দিবস হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়েছে স্বাধীন ভারতে। এই বীরগাথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বীরভূম জেলার নাম। তাই বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যতার সাথে বীরভূম জেলায় পালিত হয়ে থাকে হুল দিবস। এ বছরও যার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এই হুল দিবস পালনের উদ্দেশ্যে সিউড়িতে  বীরভূম জেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেলাশাসক বিধানচন্দ্র  রায় জেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ,   বিভিন্ন পঞ্চায়েত  সমিতির  সদস্য ও বিভিন্ন ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন  আধিকারিকদেরনিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন।        এই  বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এবার করোনা বিধি মেনে  ৩০ জুন ও ১ জুলাই সিউড়ির  ভুরকুনা কবিগুরু উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’দিন ধরে  আদিবাসী শিল্পী-সহ তাঁদের বিভিন্ন সংঠনের ২৫ জন শিল্পীকে নিয়ে তৈরী দলগুলি অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। এছাড়াও জেলার ১৯টি ব্লক থেকে বাছাই করা ৫০ জন আদিবাসী শিল্পীকে নিয়েও অনুষ্ঠান করার ভাবনা রয়েছে।  জেলার ১৯টি ব্লকের ব্লক প্রশাসনকেও হুল দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, কোথাও যাতে করোনা বিধি লঙ্ঘিত না হয় তার প্রতিও দৃষ্টি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  দু’ দিনের হুল দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভুরকুনা কবিগুরু উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের স্টলও থাকবে। এরমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় স্টল রাখা হবে। সেখান থেকে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে যাঁরা করোনা ভ্যাকসিন নেননি তাঁদের বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার মানুষজনদের অনেকেই  নানান ভীতির কারণে করোনা ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না। সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, সেগুলি ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এখান থেকে যেমন বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার  দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে তেমনি,  তাঁদের সচেতন করার জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। এই হুল দিবসের প্রচারের জন্য সিউড়ির জেলা প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি প্রচার ট্যাবলোরও যাত্রার সূচনা করা হয়।  এই ট্যাবলোটি অলচিকি ভাষায় লেখা বিভিন্ন সচেতনতা মূলক বার্তা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে এই ট্যাবলোটি।। 
 ছবি : হুল দিবসের প্রতীক।          

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *