পুলিশ

বীরভূমের অস্ত্র কারবারের সাথে কলকাতা যোগ

খায়রুল আনাম,

 আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার তিন
বীরভূমের সঙ্গে অস্ত্র কারবারে কলকাতার যোগ

       
এবার ধারাবাহিকভাবে বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে জনমানসে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পরিত্যক্ত জায়গা থেকে বোমা ও বোমা তৈরীর মশলা উদ্ধারের ঘটনা ঘটছিলো। কিন্তু এবার পর পর একাধিক জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সমাজ বিরোধীদের নতুন মনোবৃত্তির সন্ধান করতে শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। একাধিক জায়গায় মজুত বোমা বা বোমা বাঁধার সময় তাতে বিস্ফোরণ ঘটায় প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুষ্কৃতকারীরা এবার নতুন পথে  হাঁটতে শুরু করলো কী না, সেই প্রশ্নও আসছে।    কলকাতার নিউটাউনের  আবাসনে আত্মগোপন করে থাকা পাঞ্জাবের  যে দুই গ্যাংস্টার  ৯ জুন স্পেশাল  টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে   মারা যায় সেই জয়পাল সিংহ ভল্লার ওরফে  মনজিৎ সিংহ এবং  যশপ্রীত ওরফে এবং জাসসি বীরভূম ঘুরে গিয়েছিলো বলেও মনে করা হয়। ঝাড়খণ্ড রাজ্য সীমানা লাগোয়া এখানকার  মহম্মদবাজারের  শেওড়াকুড়ি হয়ে সিউড়ির আব্দারপুরের রেলগেটে একটি লরি আটক করেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যে  দু’ জনকে গ্রেফতার করেছিলো তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই নিউ টাউনের ওই গ্যাংস্টারদের ডেরার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো বলে মনে করা হয়। ওইদিন আটক লরি থেকে ৫ টি সেভেন এমএম পিস্তল, ১০ টি ম্যাগাজিন, ৩০ রাউণ্ড গুলি ও ২০ কেজি কালো এবং লাল রঙের  বিস্ফোরক উদ্ধার  করা হয়েছিলো।  এরপরই ১৬ জুন  রাত্রে এই  শেওড়াকুড়ি এলাকার মালডাঙা থেকে  উজ্জ্বল বাগ্দীকে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করার সময় গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়  ১ টি নাইন এমএম ও ১ টি সেভেন এমএম পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউণ্ড কার্তুজ।  এরপরই  শনিবার ২৬ জুন লাভপুরের বিষয়পুরের বাইরে শ্মশানের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি নাইলনের থলি। তা থেকে উদ্ধার করা হয়  একটি বন্দুকের  অংশ, ১টি রাইফেল, ১ টি পিস্তল ও ৫ রাউণ্ড গুলি।  এই ঘটনার সূত্র ধরেই  এদিনই পুলিশ সাঁইথিয়ার  গলাইচণ্ডি গ্রাম থেকে শেখ লালন নামে  এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।    এর একদিন পরেই  রবিবার ২৭ জুন  পুলিশ খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর থানার  বারাবনি জঙ্গল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করলো শেখ সামসের, শেখ আজিজুর ও শেখ রিটন নামে তিন দুষ্কৃতিকে। তাঁদের কাছ থেকে  ৯ রাউণ্ড করে গুলি ভর্তি ২ টি পিস্তল উদ্ধার করে। একটি পিস্তল সেভেন এমএম এবং অপরটি নাইন এমএম। পুলিশ ধৃতদের দুবরাজপুর আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের  ৩ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।     এদিকে  শনিবার ২৫ জুন কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকা থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স  মকবুল হোসেন নামে এক যুবককে মোটরবাইক-সহ গ্রেফতার করে তাঁর কাছ থেকে ডবল ম্যাগাজিনের ৪টি সেভেন এমএম  পিস্তল উদ্ধার করেছে। মোটরবাইকের সীটের নীচে এগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো।  এই মকবুল হোসেনের আসল নাম রাজেন্দ্র প্রসাদ। সে একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। বিহার থেকে পালিয়ে এসে এক সময়  আসানসোলের কয়লা খনি অঞ্চলে অস্ত্র ব্যবসা করতো।  তার আদি বাড়ী বিহারের  ভাগলপুরে বলে জানা গিয়েছে। বিহারের মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে সে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো। পরে বীরভূমে এসে মুসলিম পরিচয় দিয়ে এক মুসলিম মেয়েকে বিয়েও করে বলে জানা গিয়েছে।  কলকাতার এক খদ্দেরকে সে অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছে বলে পুলিশ জানতে পারার পরই, তাঁর মোটরবাইকের নম্বর ধরে  তাঁকে আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বীরভূম জেলায় অস্ত্র  আমদানির জাল যে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেটাই মনে করা হচ্ছে।।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *