পুলিশ

নলহাটির রাধামাধব মন্দিরে চুরি

খায়রুল আনাম,

 রাধামাধব মন্দিরে চুরির ঘটনায়  উত্তেজনা নলহাটিতে
       
বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পরে আবারও মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটলো বীরভূমের পুর শহর নলহাটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধামাধব মন্দিরে। এর আগে জেলার প্রাচীন মন্দিরগুলি থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছিল মন্দিরের প্রাচীন বিগ্রহ-সহ অন্যান্য সামগ্রী।  যা নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তিও ছড়ায়। কয়েকটি ক্ষেত্রে পুলিশ সেইসব চুরির কিনারা করতে  পারলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুরির কিনারা করা যেমন সম্ভব হয়নি তেমনি, উদ্ধার করা যায়নি মন্দির থেকে চুরি যাওয়া বিগ্রহগুলি।      এবার চুরির ঘটনা ঘটলো নলহাটির  ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাচীন রাধামাধব মন্দিরে।  নলহাটি জেলার পঞ্চ পীঠের অন্যতম পীঠস্থান। এখানকার নলাটেশ্বরী মন্দিরের সাথে সাথে ভক্তপ্রাণ মানুষের কাছে  প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন  রাধামাধব  মন্দিরও বিশেষভাবে শ্রদ্ধার জায়গায় রয়েছে।  প্রাচীন এই মন্দিরের আশপাশের ধ্বংসস্তুপের অংশ বিশেষ চাক্ষুষ করলেই এখানকার প্রাচীন ইতিহাস এবং  ধর্মীয় বিশ্বাসের নিদর্শনগুলি স্পষ্ট হয়।        প্রতিদিনের মতো  মঙ্গলবার ২৯ জুন ভোরে গোষ্ঠগোপাল  বৈরাগ্য মন্দিরে গিয়ে দেখেন, রাধামাধব মন্দিরের পিছনের দরজার তালা ভাঙা।  রাধামাধব মন্দিরে চুরির ঘটনা জানাজানি হতেই বহু ধর্মপ্রাণ ও কৌতূহলী মানুষ এসে ভীড় জমান মন্দির চত্ত্বরে।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নলহাটি থানার পুলিশ।  গোষ্ঠগোপাল বৈরাগ্য জানান, প্রতিদিনের মতো  সোমবার ২৮ জুন সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতির পরে ঠাকুরকে শয়ন করিয়ে মন্দিরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।   মঙ্গলবার ভোরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরের দরজার তালা ভাঙা।  মন্দির থেকে চুরি হয়ে গিয়েছে ঘণ্টা,  শালগ্রাম শিলা,  সোনা–রূপোর গয়না, ঠাকুরের সিংহাসন, বাঁশি, সোনার টিপ,  রাধার মুকুট–সবই।   রাধামাধব মন্দিরে এই চুরির ঘটনা এবং মোবাইলে মন্দিরের দরজার  ভাঙা তালার ছবি ও  মন্দিরের ভিতরের লণ্ডভণ্ড দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনাও বাড়ে। মন্দির চত্ত্বরে চলে আসে বহু সংখ্যক মানুষও। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে  পৌঁছতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই মধ্যে পুলিশ তদন্তের কাজও শুরু করে। মন্দির থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রী দ্রুততার সাথে উদ্ধার করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এলাকার মানুষজন। 
 ছবি :  রাধামাধব মন্দিরে ঠাুকুরের আসন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *