রাজনীতি

আইটি সেলের কর্মীদের সংবর্ধনা দিলেন আউশগ্রাম বিধায়ক

আইটি সেলের কর্মীদের সম্বর্ধনা দিলেন আউসগ্রামের বিধায়ক

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,

      ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১৮ টি আসন পাওয়ার পর তৃণমূলের শীর্ষ  নেতৃত্ব কার্যত দিশেহারা। ২০২৪ শের বিধানসভা ভোটে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং রাজ্য জুড়ে বিজেপির দাপটে  তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরা ম্রিয়মান। ভোট যত এগিয়ে এসেছে তৃণমূলের একগুচ্ছ প্রথম সারির নেতা দলত্যাগ করে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির আইটি সেলের 'ফেক' নিউজ তৃণমূল দল সম্পর্কে জনমানসে একটা নেতিবাচক ধারণা গড়ে তুলেছে। তৃণমূল নেত্রী বা অভিষেক ব্যানার্জ্জী প্রতিটি জনসভায় নিয়ম করে দু'শো আসনের কথা বলে গেলেও জয় নিয়ে কেউই নিশ্চিত ছিলনা। গত ২ রা মে ভোটের ফল বের হওয়ার পর সবার সব ভাবনা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে দেখা গেল তৃণমূল দুই শতাধিকের বেশি আসনে জয়লাভ করেছে।
       দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী, অভিষেক, দেবাংশু, দেব, অনুব্রত মণ্ডল সহ বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব এবং সর্বোপরি ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছাড়াও তৃণমূলের এই বিপুল সাফল্যের পেছনে বিশাল ভূমিকা আছে তৃণমূলের আই.টি সেলের কর্মীদের। দলনেত্রী স্বয়ং এবং অভিষেক ব্যানার্জ্জীও তাদের অবদানের কথা স্বীকার করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 
     অর্থের প্রাচুর্য বা বৈভব না থাকলেও সারা রাজ্য জুড়ে তারা নীরবে বিজেপির আই.টি সেলের কর্মীদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে গেছে। সমাজ মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আই.টি সেলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় দলীয় প্রার্থী সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের জনসভায় হাজির থেকে তার বিষয় বস্তু নিয়মিত বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে 'পোস্ট' করে গেছে। পাড়ার অলিগলিতে দেওয়াল লিখন, পদযাত্রা, ঘরে ঘরে প্রচার সব কিছুই এলাকার মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। এমনকি দলের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যের তালিকাও নিয়মিত জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। এরফলে মানুষের মনে দল সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা ফুটে উঠেছে। ব্যতিক্রম ছিলনা আউসগ্রাম বিধানসভার তৃণমূলের আই.টি সেলের কর্মীরাও। তাদের কর্মদক্ষতা প্রতিপক্ষকে অতিক্রম করে দলীয় প্রার্থীর জয়ের পথ অনেকটা প্রশস্ত করেছে।
        জানা যাচ্ছে আউসগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূলের আই.টি সেলের তিনটি টিম সক্রিয় ছিল। গুসকরা পৌরসভায় রবিনাথ আঁকুড়ে, কপিল মুখার্জ্জী, সুদীপ মণ্ডল, প্রিয়াঙ্কা দাস প্রমুখ, আউসগ্রাম ১ নং ব্লকে তপন চন্দ্র, রফিকুল সেখ, অর্জুন বাউরি প্রমুখ এবং আউসগ্রাম ২ নং ব্লকে রিয়া মণ্ডল, তুহিন লাহা, উৎসব চ্যাটার্জ্জী প্রমুখ দিনের পর দিন দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর লক্ষ্যে নিজেদের কর্তব্য পালন করে গেছে।
     ২৯ শে জুন নিজ বিধানসভার সেই আই.টি সেলের কর্মীদের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে গলায় উত্তরীয় পড়িয়ে তাদের সম্বর্ধনা দিলেন বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার। গুসকরায় নিজ কার্যালয়ে তাদের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া, ঘড়ি, মিষ্টির প্যাকেট ও একটি করে মানপত্র। আইটি সেলের পক্ষ থেকেও বিধায়ককে উত্তরীয় পড়িয়ে সম্মান জানানো হয়। এছাড়াও তার হাতে ফুলের তোড়া ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। বিধায়কের কাছে নিজেদের কাজের স্বীকৃতি পেয়ে আইটি সেলের কর্মীরা খুব খুশি।
       আই.টি সেলের অন্যতম সক্রিয় কর্মী রবিনাথ আঁকুড়ে বললেন - আমাদের উপর দল যে দায়িত্ব দিয়েছিল সেটা সফল ভাবে রূপায়ণ করার চেষ্টা করে গেছি। আসন্ন পৌরভোটে  দল দায়িত্ব দিলে  সেটাও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাব। একই সুর শোনা গেল আই.টি সেলের দুই মহিলা কর্মী প্রিয়াঙ্কা দাস ও রিয়া মণ্ডলের কণ্ঠে। রিয়া বললেন - আমরা শুধু দলীয় প্রার্থী বা নেতাদের জনসভার প্রচার করিনি সমানে বিজেপির আই.টি সেলের কুৎসার নিয়মিত জবাব দিয়ে গেছি।
       আইটি সেলের কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বিধায়ক বললেন - আমরা এদের জন্য গর্বিত। মূলত আই.টি সেলের কর্মীদের জন্যই বিজেপি 'ফেক নিউজ' ছড়াতে পারেনি। একইসঙ্গে তিনি অন্যান্য কর্মীদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *