হাইকোর্ট সংবাদ

আগামীকাল মিঠুনের এফআইআর খারিজের শুনানি

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে চলে মিঠুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য বিষয়ক মামলা। এদিন বিচারপতি মামলার শুনানি পর্বে প্রশ্ন তুলেন – ‘ সিনেমার সংলাপ আওড়ালেই কি হিংসা হয়ে যায়!’ এরপর সরকারি আইনজীবী শ্বাশ্বত মুখোপাধ্যায় কে বিচারপতি বলেন – ‘এটি কতটা যুক্তিসঙ্গত?  কেননা সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়েই ছবি মুক্তি পায়।এই ধরনের সংলাপ যদি উস্কানিমূলক হয়। সেক্ষেত্রে সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র মিললো কিভাবে?  সেসময় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনই বা নীরব ছিল কেন?’ বিচারপতির এহেন প্রশ্নবানে সরকারি আইনজীবী আগামী সোমবার পর্যন্ত আরও তথ্য সংগ্রহের সময় চান। বিচারপতি সে আবেদন মেনে আগামী বুধবার অর্থাৎ ২ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রাখেন। চলতি মাসে  নন্দীগ্রাম বিধানসভার নির্বাচনে পুন গননা সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি কৌশিক চন্দের বদলী চেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আইনজীবী সঞ্জয় বসু।এবার মিঠুন চক্রবর্তীর উস্কানিমূলক মন্তব্যর পরিপেক্ষিতে মামলায় এই বিচারপতির বদল চেয়েছিলেন মামলাকারীর আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় পাল।ইতিমধ্যেই এই মামলায় মানিকতলা থানার পুলিশ মিঠুন চক্রবর্তী কে টানা ৪৫ মিনিটের ভার্চুয়াল জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে।গত মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির কথা ছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। এজলাস বদল এর অভিযোগ পেয়ে অবশ্য খোদ বিচারপতিই শুনানি স্থগিত করে দিয়েছিলেন । চলতি মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে চলেছিল অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর দাখিল করা এফআইআর  খারিজ করার আবেদনে শুনানি। গত শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর দাখিল পিটিশন টি খারিজ করে দেন।অর্থাৎ লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী কলকাতা পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া চালু রাখবে।হাইকোর্টের তরফে আবেদনকারী মিঠুন চক্রবর্তীর আইনজীবী কে বলা হয়েছে – ‘ অভিনেতা কে কলকাতা পুলিশের তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে।তদন্তকারী পুলিশ অফিসার কে ভ্যালিড ইমেল আইডি দিতে হবে। যাতে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার অভিযুক্তর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।সশরীরের বদলে ভার্চুয়াল ভাবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে ‘। প্রাথমিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি একাধারে যেমন চেয়েছিলেন আইনী রক্ষাকবচ, আবার অপরদিকে চেয়েছিলেন এফআইআর টি খারিজ।কোনটাই কলকাতা হাইকোর্ট মান্যতা দেয়নি আগেকার শুনানিতে ।চলতি মাসে  এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দরবারে বিচারপ্রার্থী  হন মিঠুন চক্রবর্তী।অভিনেতার দুই আইনজীবী বিকাশ সিং এবং পার্থ ঘোষের মাধ্যমে এই পিটিশন টি দাখিল করেছেন । মিঠুন চক্রবর্তীর দুই আইনজীবী বিকাশ সিং এবং পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন – ‘ মিঠুন চক্রবর্তী একজন পাবলিক ফিগার। জনতার মনোরঞ্জনে সিনেমার ব্যবহৃত বিভিন্ন ডায়ালগ বলতে হয়।২০১৪ সালে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবেও বলেছিলেন ওই  ডায়ালগ গুলি।এতে কোন প্ররোচনা কিংবা উস্কানিমূলক মন্তব্য হিসাবে গণ্য হয়না’। সম্প্রতি  বিধানসভার নির্বাচনে আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে একদা তৃণমূল ছেড়ে আসেন বিজেপিতে। গত ২৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত গেরুয়া প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি।সেখানে কখনো ‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে ‘ কিংবা ‘ আমি জলঢোঁড়াও নই, বেলেবোড়াও নই।আমি জাত গোখরো, এক ছোবলেই ছবি’ ডায়ালগ গুলি বলেছিলেন। একুশে বিধানসভা ভোটে ফলাফল প্রকাশের পর গত  ৬ মে মানিকতলা থানায় এক তৃনমূল কর্মী ১৫৩ এ, ৫০৪ এবং ৫০৫ ধারায় মামলা দাখিল করেন। সম্প্রতি  কলকাতার শিয়ালদহ কোর্টের এসিজেম এজলাসে উঠে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর এক উস্কানির অভিযোগ বিষয়ক মামলাটি। ইতিমধ্যেই শিয়ালদহ কোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কলকাতা পুলিশের কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন।এই মামলার শিয়ালদহ কোর্টে শুনানি ছিল গত ১ জুন।মানিকতলা থানা এলাকায় একুশে বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে এসে বিজেপির পক্ষে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী সেই ‘এমএলএ ফাটাকেস্ট’ ছবির ডাইলগ ” মারবো এখানে লাশ পরবে শ্মশানে ‘ আবার কখনও জাত গোখরা সাপের ডাইলগ চলেছিল।এই বিষয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যর জন্য মানিকতলা থানায় মামলা দাখিল হয়।আর সেই মামলাতেই এই রিপোর্ট তলব করেছিল শিয়ালদহ কোর্ট। মালদার জেলাশাসকও নির্বাচনী প্রচারে কোভিড বিধি না মানার মামলা করেছিলেন। গত ৭ ই মার্চ থেকে ব্রিগেডের মোদীর জনসভায় মিঠুন চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান।এরপর  গোটা বাংলা জুড়ে বিজেপির পক্ষে মহাগুরু প্রচার কর্মসূচি পালনে ছিলেন। এমনকি একুশে বিধানসভা ভোটে ফলাফল প্রকাশের আগের দিন রাজভবনে রাজ্যপাল কে দেখা করতে যান তিনি।এই পরিস্থিতি হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। এফআইআর খারিজ সহ আইনী রক্ষাকবচ চাওয়ার আবেদন রয়েছে।শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে চলে মিঠুন মামলার শুনানি। সেখানে খোদ বিচারপতিই ‘সিনেমার সংলাপ আওড়ালেই কি হিংসা হয়ে যায়?’ তা নিয়ে সেন্সর বোর্ড সহ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা তুললেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ জুলাই রয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *