হাইকোর্ট সংবাদ

বিন্ডাল অপসারণে ‘বার কাউন্সিল’ দুভাগ, স্বতঃস্ফূর্ত মামলা চান বিকাশ

বিন্ডাল অপসারণে ‘বার কাউন্সিল’ দুভাগ, স্বতঃস্ফূর্ত মামলা চান বিকাশ,

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


দুবছর আগে হাওড়া জেলা আদালতে আইনজীবীদের উপর পুলিশি হামলার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের লাগাদার কর্মবিরতি চলেছিল একসময়। সেসময় বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের ভূমিকা নিয়ে আভ্যন্তরীণ বিবাদ দেখা গিয়েছিল। কখনো সারদা মামলায় প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের জামিনের শুনানি নিয়ে।আবার কখনো বা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বীরভূমের এক হেভিওয়েট নেতার মামলায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে।সেইসব এখন অতীত,তবে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের অপসারণ নিয়ে বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এলো।যা নিয়ে আইনজীবীদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল জানান – ” বিচারপতি সরানোর চিঠি নিয়ে বার কাউন্সিলের দুপক্ষের যে চিঠি পাল্টা চিঠি পর্ব চলছে।তাতে আইনজীবীদের স্বার্থ অপেক্ষা রাজনৈতিক স্বার্থ বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে।অথচ বার কাউন্সিল হলো সাংবিধানিক আইনী প্রতিষ্ঠান “। জানা গেছে,  কলকাতা হাইকোর্টের সিংহভাগ আইনজীবী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের এজলাসে মামলা নিয়ে সেভাবে কোন অভিযোগ নেই।ঘটনার সুত্রপাত গত রবিবার সন্ধেবেলায় বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের চেয়ারম্যান অশোক দেব সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামান্না কে ৬ পাতার চিঠি লিখে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের অপসারণ দাবি করেছেন।তাঁর যুক্তি – ‘নারদা মামলায় নিম্ন আদালতের জামিনের স্থগিতাদেশ জারি করা থেকে নন্দীগ্রাম পুন গননা মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ভূমিকা সন্দেহজনক। নিরপেক্ষতা এবং সুবিচারের ক্ষেত্রে দ্রুত অপসারণ চায় এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির’। ১৮ সদস্য বিশিষ্ট বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের চেয়ারম্যান হিসাবে যে চিঠি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছেন অশোক দেব।তার পাল্টা চিঠি হিসাবে বার কাউন্সিলের চার সদস্য সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্না কে চিঠি পাঠালেন।তাতে কোন বৈঠক না ডেকে একতরফাভাবে চিঠি লেখা, সাংবিধানিক আইনী প্রতিষ্ঠানের প্যাডের রাজনৈতিক ব্যবহার করা সহ অশোকস্তম্ভ লোগোর অপব্যবহার করা নিয়ে রীতিমতো চিঠি লিখে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে অভিযোগ জানিয়েছেন কৈলাশ তামোলি, সমীর পাল, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং মিহির দাসের মত বার কাউন্সিল এর সদস্যরা।আবার গত রবিবার রাতেই কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বার কাউন্সিল এর চেয়ারম্যানের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বিকাশ বাবু অশোক দেবের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত মামলা দাখিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন। যা নিয়ে আইনজীবীমহলে হইচই পড়ে যায়। তবে বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির পদাধিকারী আনসার মন্ডল জানিয়েছেন – ” নারদা মামলায় সিবিআই যেভাবে পক্ষভুক্ত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মলয় ঘটক কে, তা আইননুসারে বৈধ নয়।কেননা এই তিনজন আইনজীবী হিসাবে বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের নথিভুক্ত রয়েছেন। তাই বার কাউন্সিল কে লিখিতভাবে না জানিয়ে সরাসরি পক্ষভুক্ত করাটা অবৈধ”। তবে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের অপসারণ ঘিরে যে বার কাউন্সিলের অভ্যন্তরে বিবাদ প্রকাশ্যে এলো, তা ফের মনে করাচ্ছে গত দু বছর আগে হাওড়া জেলা আদালতে আইনজীবীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে লাগাদার কর্মবিরতির সময়ের ঘটনাপ্রবাহ কে……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *