হাইকোর্ট সংবাদ

সুপ্রিম নির্দেশে আজ হাইকোর্ট বৃহত্তর বেঞ্চে ‘হলফনামা’ শুনানি

সুপ্রিম নির্দেশে আজ হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে ‘হলফনামা’ শুনানি

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে রয়েছে নারদা মামলায় শুনানি। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের দাখিল ‘হলফনামা’ সংক্রান্ত শুনানি চলবে।সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে হলফনামা জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট কে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে – ‘মূল মামলা ( স্থানান্তরিত) এর শুনানি পরে হবে, আগে হবে হলফনামা সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি ‘। গত ৯ জুন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে হলফনামা গ্রহণ না করা কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন নারদায় সিবিআইয়ের পক্ষভুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সহ আইনমন্ত্রী। গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত কলকাতা হাইকোর্ট কে নারদা মামলায় পক্ষভুক্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সহ রাজ্যের হলফনামা জমা নিতে নির্দেশ দেয়।আজ অর্থাৎ ২৯ জুন কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে অর্থাৎ ২৮ জুনের মধ্যে এই হলফনামা জমা দেওয়ার আবেদন জানাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতন সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে হলফনামা জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে নারদা মামলায় তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের পক্ষভুক্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ আইনমন্ত্রীর হলফনামা জমা নেইনি আদালত। যদিও আরেক পক্ষভুক্ত তৃনমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে তাঁর হলফনামা দাখিল করেছেন। গত ৯ জুন কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ হলফনামা জমা না নেওয়ার কারণ হিসাবে জানিয়েছিল – ‘ নারদা স্থানান্তরিত মামলায় এক পক্ষ সওয়াল-জবাব শেষ করেছে।তাই নুতন করে হলফনামা জমা নিলে ফের আলোচনা করতে হবে’। যদিও রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানিয়েছেন – ‘ আদালতের নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়া যায়’। কলকাতা হাইকোর্টের হলফনামা জমা না নেওয়া কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবেদনের আজ শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কে হলফনামা জমা নিতে বলেছিল ২৮ জুনের মধ্যে। কেননা এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ২৯ জুন।ওই শুনানির দিনে আগে হলফনামা বিষয়ক সওয়াল-জবাব চলবে বলে তার রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এই হেভিওয়েট মামলায় অব্যাহতি নিয়েছেন ।তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নুতন করে ডিভিশন বেঞ্চ করে দেন।বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসুর পরিবর্তে রয়েছেন বিচারপতি বিনীত সারন পাশাপাশি দীনেশ মাহেশ্বরী রয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চের অপর বিচারপতি হিসাবে। গত সপ্তাহে এই বেঞ্চে এই মামলাটি উঠলেও কোন নির্দেশিকা জারি করা হয় নি।তবে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্ট কে অনুরোধ করেছিল,যাতে বুধবার এই মামলার কোন শুনানি যেন তারা না করে থাকে। তাতে কলকাতা হাইকোর্ট সুপ্রিম অনুরোধ মেনে বুধবার কোন শুনানি চালায় নি। এর আগে অবশ্য শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী রাকেশ ত্রিবেদীর সাথে সিবিআইয়ের আইনজীবী সলিটর জেনারেল তুষার মেহতার তারিখ পাওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক লেগে গিয়েছিল ।সিবিআইয়ের আইনজীবীর যুক্তি ছিল – ‘কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় মধ্যভাগে রয়েছে। দুপক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ হয়েছে। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলা শুরুই করেনি’।তাই কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির পক্ষে মতব্যক্ত করেছিলেন সলিটর জেনারেল। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্ট কে সিবিআইয়ের তরফে পক্ষভুক্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ আইনমন্ত্রীর হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেয়। ২৮ জুনের মধ্যে এই হলফনামা জমা দেওয়ার আবেদন জানাতে হবে পক্ষভুক্তদের কে। ২৯ জুন এই হলফনামা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে রয়েছে শুনানি।সোমবারই হলফনামা দাখিল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের পক্ষে।আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে দাখিল হলফনামার শুনানি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *