হাইকোর্ট সংবাদ

ঘরছাড়া বৃদ্ধা কে বাড়িতে পৌঁছে দিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ

ঘরছাড়া বৃদ্ধা কে বাড়িতে পৌঁছে দিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তৎপরতা দেখালো বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। রবিবার দুপুরে মামলাকারী বৃদ্ধা কে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। আজ অর্থাৎ সোমবার দুপুরে এই মামলার পুলিশের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে। এই মামলার আজ শুনানি রয়েছে। গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বাঁকুড়ার এক প্রবীণ দম্পতি কে পুলিশি পাহাড়ায় ঘরে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে অত্যাচারী পুত্র ও পুত্রবধূকে ঘরছাড়া করবার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন।সেই মামলায় আইনজীবী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের সৌগত মিত্র মহাশয়। অনুরূপভাবে গত শুক্রবার এই ধরনের আরেক মামলায় বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বাঁকুড়ার বিস্নুপুর থানার পুলিশ কে ঘরছাড়া বৃদ্ধার তদারকির জন্য এক সপ্তাহের পুলিশ পিকেট বসানোর নির্দেশিকা জারি করেছেন।শুধু তাই নয় ওই বৃদ্ধার ঘরে থাকা বেদখলকারী দুই পুত্র এবং পুত্রবধূদের তাড়িয়ে দেওয়ার আদেশ রয়েছে। তবে যদি অভিযুক্তরা থাকতে চায় তাহলে ওই আক্রান্ত বৃদ্ধার লিখিত অনুমতি নিতে হবে অভিযুক্ত পুত্রদের কে। রবিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাঁকুড়ার বিস্নুপুরের পুলিশ   আদেশনামা কার্যকর করে। নির্দেশিকা জারির দুদিনের সময়সীমায় অগ্রগতি রিপোর্ট চাওয়ায় পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। আদালত সুত্রে প্রকাশ,  বাঁকুড়া জেলার বিস্নুপুরে প্রগতিপল্লির ঝাপড় মোড়ের বাসিন্দা রাসমনি নাগ (৭০) ও তার বড় ছেলে তরুন নাগ সহ পুত্রবধূ দেবযানী নাগ কে গতবছর ২৪ আগস্ট বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় মেজছেলে তপন নাগ এবং ছোটছেলে প্রশান্ত নাগ।ওই বাড়িটি ১৯৯৫ সালে ওই বৃদ্ধা মালিকানাস্বত্ব পেয়েছিলেন।যা পরে বড় ছেলে কে দানস্বরুপ দিয়েদেন।এইজন্য অপর দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতো বলে অভিযোগ। অভুক্ত অবস্থায় রাখা হত এই বৃদ্ধা কে। বাঁকুড়ার বিস্নুপুর থানায় গত ২ /১১/২০ সালে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ৩২৩,৩৪১, ৫০৬ সহ ২০০৭ সালের ২৪ নং সিনিয়র সিটিজেন ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। যা নিম্ন আদালতে গত ৩১/১২/২০ সালে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। নিম্ন আদালত থেকে চার অভিযুক্ত অবশ্য শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সৌগত মিত্রের হাত ধরে উচ্চ আদালতে দারস্থ হন ওই বৃদ্ধা।গত ১৮/১১/২০ সালে পুলিশি নিরাপত্তায় নিজ বাড়িতে ঘরে ফিরবার মামলা দাখিল করেন এই বৃদ্ধা সহ বড়ছেলে।গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে এই মামলার নির্দেশিকা জারি করা হয়। যেখানে পুলিশ ওই বেদখল বাড়ির তালা ভেঙে বৃদ্ধা কে বাড়ি দখল করার পাশাপাশি বাড়ির সামনে এক সপ্তাহ পুলিশ পিকেট বসানোর নির্দেশিকা জারি রয়েছে। শান্তিতে যাতে বসবাস করতে পারেন ওই প্রবীণা তাও পুলিশ কে স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত বলে জানিয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী সৌগত মিত্র। রবিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাঁকুড়া জেলা পুলিশ মামলাকারী বৃদ্ধা কে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিল। কোনরকম পুত্রদের কিংবা পুত্রবধূদের হুমকি সহ বাড়িতে চড়াও হলে স্থানীয় থানার পুলিশ কে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। আজ অর্থাৎ সোমবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে এই মামলার শুনানি রয়েছে। যেখানে বাঁকুড়ার বিস্নুপুর থানার পুলিশ কে আদেশনামা কার্যকর করার রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। এই মামলার সরকারি আইনজীবী

রঞ্জিত রজক জানিয়েছেন – ‘ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করেছে পুলিশ ‘।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *