প্রশাসন

গড়িয়ায় তৃতীয় লিঙ্গের রক্তদান শিবির

গড়িয়ায় তৃতীয় লিঙ্গের বিশেষ রক্তদান শিবির 
 

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,
          কেউ বলে হিজড়া, কেউ বলে বৃহন্নলা। এখন ভদ্রভাবে বলা হচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গের। জন্মগত ত্রুটির দায় ওদের না হলেও মানসিক যন্ত্রণাটা ওদের সহ্য করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত । মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ওদের দূরে সরে থাকতে হচ্ছে। ইচ্ছে থাকলেও মা-বাবার বুকে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারছেনা। পারেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর পাঁচজনের মত স্বাভাবিক ভাবে পড়াশোনা করতে। এমনকি চিকিৎসা করতে গিয়েও অবহেলার শিকার হতে হয়। রক্তদান করতে গিয়েও ওরা রক্ত দিতে পারেনা। কারণ ওদের রক্ত নাকি দূষিত। বহু লড়াইয়ের পর আইনি স্বীকৃতি পেলেও সামাজিক স্বীকৃতি ওরা পায়নি। সমাজ ওদের অস্বীকার করলেও সমাজের প্রতি ওদের দায়িত্বকে ওরা অস্বীকার করেনা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মুমূর্ষু মানুষের স্বার্থে ‘বি-পজিটিভ’ ও তৃতীয় লিঙ্গের সংগঠন ‘তৃতীয় মঞ্জিল’ এর যৌথ উদ্যোগে ২৬ শে জুন গড়িয়ার পাঁচপোতা শিবতলায় অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব রক্তদান শিবিরের।বৃষ্টি বিঘ্নিত এই শিবিরে প্রায় ৫০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় ২৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এই শিবিরে রক্তদান করেন। করোনা বিধি মেনে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে  কলকাতার  ‘হেল্পিং পয়েন্ট’ এর ব্লাড ব্যাংক শাখা রক্ত সংগ্রহ করে।  উদ্যোক্তারা সংগৃহীত রক্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতে তুলে দেয়। প্রথম বারের জন্য রক্তদান করার সুযোগ পেয়ে প্রতিটি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মুখে খুশির ঝলক বয়ে যায়। প্রতিটি রক্তদাতাকে টিফিন ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। মুম্বাইয়ের একটি সংগঠন প্রায় ৩০ জন তৃতীয় লিঙ্গের  মানুষের হাতে রেশন সামগ্রী তুলে দেয়। রক্ত দাতাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শঙ্করী। বৃষ্টির জন্য তিনি নিজ বাসস্হানের দুটি রুম উদ্যোক্তাদের ছেড়ে দেন। সেখানেই রক্ত সংগ্রহ করা হয়।তৃতীয় মঞ্জিলের সম্পাদিকা রাগিনী রায় বললেন- আমরাও মানুষ। সমাজের প্রতি আমাদেরও দায়িত্ববোধ আছে। তার জন্য আমরা এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছি। আমাদের লক্ষ্য সারা রাজ্যজুড়ে এই ধরনের শিবিরের আয়োজন করা এবং এর মাধ্যমেই আমরা নিজেদের সমাজের অংশ রূপে প্রতিষ্ঠিত করব। তিনি আরও বলেন – অন্যান্য জন্মগত ত্রুটিযুক্ত মানুষেরা সমাজে স্হান পেলে আমরা কেন পাবনা? প্রতিটি কথা বলার সময় তার কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল অব্যক্ত কান্না ঝরা অভিমান।   বি-পজিটিভের চেয়ারম্যান বিপ্লব বড়ুয়া বললেন – এই শুরু।  এবার আমরা সারা রাজ্য জুড়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করব। প্রত্যকের কাছে তার আবেদন – ঘৃণার চোখে নয়, ওদের প্রতিও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিন। ওরা আমাদের বাড়ির সন্তান। প্রসঙ্গত বিপ্লব বাবু শুধু এই রাজ্যের নয় আরও কয়েকটি রাজ্যের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবার কাজ করে চলেছেন। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে আবেদন করেন যদি তারা নিজ নিজ এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চান তাহলে তার সংগঠন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *