হাইকোর্ট সংবাদ

সারদায় বাজেয়াপ্ত ১৩৮ কোটি টাকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

সারদায় বাজেয়াপ্ত ১৩৮ কোটি নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের 

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের এজলাসে চলে সারদায়  আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি।এদিন কলকাতা হাইকোর্ট এক সদস্যের কমিটি গড়ে সারদায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ইংগিত দিয়েছে। তবে কবে কিভাবে এবং কার নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন হবে তার চুড়ান্ত কোন নির্দেশিকা জারি করা হয় নি হাইকোর্টের তরফে।এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল প্রশ্ন তুলেছেন সারদায় শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট কেন হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে পড়ে রয়েছে তা নিয়ে।শুধু তাই নয় সারদায় বাজেয়াপ্ত ১৩৮ কোটি টাকা যেটি রাজ্য সরকার তার নিজের প্রয়োজনে খরচ করেছে। তা কেন ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের ফেরত দেওয়া যাবেনা, তা নিয়েও তুলেছেন প্রশ্নচিহ্ন। পাশাপাশি সিবিআই সারদায় যা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে তাও ফেরানোর দরকার বলে মনে করছে আদালত।আগামী ২৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি  কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল এজলাসে জানিয়েছিলেন – ‘চিটফান্ডে প্রতারিত মামলা গুলি এবার থেকে  ধারাবাহিকভাবে শুনবেন তিনি’।এহেন অবস্থানে কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিটর জেনারেল জনস্বার্থ মামলা সহ অন্যান্য মামলার সীমাহীন চাপের প্রসঙ্গ তুললেও তাতে আমল দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল।কলকাতা হাইকোর্টের এহেন স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থানে খুশি বিভিন্ন বে আইনী আর্থিক লগ্নিকারী সংস্থায় প্রতারিতরা।সংবিধান আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বৈদূর্য ঘোষাল জানান – “চিটফান্ডে প্রতারিতদের টাকা ফেরানো, সম্পত্তি বিক্রি এবং সম্পত্তির হিসেবে নিকেশ করতে এইসব শুনানি খুবই আবশ্যিক ছিল”। জানা গেছে, ২০১৫ সালে তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেলুড়ের ডিভিশন বেঞ্চ এইসব চিটফান্ডে প্রতারিত মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছিল।বিভিন্ন সময়ে তার শুনানি পর্ব একপ্রকার বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডাল এইসব মামলার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধারাবাহিক শুনানির কথা জানালে তার বিরোধিতা করে থাকেন কেন্দ্রের আইনজীবী। তবে তাতে আমল দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। চিটফান্ডে প্রতারিতদের ক্ষতিপূরণ পাবার নুতন করে সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাংলার কোটির উপরে প্রতারিত ব্যক্তিরা তাদের একদা সঞ্চিত অর্থ পুনরায় ফেরত পাওয়াতে আশাবাদী। এরেই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্ডালের এজলাসে প্রাক্তন বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের চুড়ান্ত রিপোর্ট কেন পড়ে রয়েছে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। আবার ১৩৮ কোটি সারদায় বাজেয়াপ্ত অর্থ কেন ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের দেওয়া হবে না? তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন দেখা যায় এদিন আদালতের সওয়াল-জবাব পর্বে।আগামী ২৯ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *