হাইকোর্ট সংবাদ

ঘরছাড়া প্রবীণ দম্পতি কে বাড়িতে পৌঁছে দিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ

ঘরছাড়া প্রবীণ দম্পতি কে বাড়িতে পৌঁছে দিল ‘সক্রিয়’ বাঁকুড়া পুলিশ 
মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,


সোমবার সকালের দিকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ প্রায় দেড় বছর ঘরছাড়া  প্রবীণ দম্পতি কে বাড়িতে পৌঁছে দিল। বাঁকুড়া সদর থানার এহেন সক্রিয়তায় খুশি ওই প্রবীণ দম্পতির মেয়ে।আজ বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙ্গার বাসিন্দা আলি বুরহান এবং তাঁর স্ত্রী মমতাজ বিবি কে বসত বাড়িতে পৌছে দেয় পুলিশ। সাথে ছিলেন এই দম্পত্তির মেয়ে শম্পা বিবি।যার শ্বশুরবাড়ি পুরুলিয়া শহরে।গত দেড় বছর আলি বুরহান এবং তাঁর স্ত্রী মমতাজ বিবি ঘরছাড়া ছিলেন তাঁদের পুত্র ও পুত্রবধূর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে। আজ বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ একদিকে যেমন ঘরছাড়া প্রবীণ দম্পতি কে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।ঠিক তেমনি অভিযুক্ত পুত্র ও পুত্রবধূ কে বাড়িছাড়া করে থাকে। অথচ এই পুলিশই গত দেড় বছর নিস্ক্রিয় ছিল এই প্রবীণ দম্পতির লিখিত অভিযোগ পাওয়া সত্বেও। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে টনক নড়ে পুলিশের। আদালতের নির্দেশের চারদিনের মাথাতেই নিস্ক্রিয় পুলিশ সক্রিয়তা দেখালো।জীবনমুখী গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তীর ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটির বাস্তবতা সর্বদায় বিরাজমান। তবে পুরুলিয়ায় প্রবীণ দম্পতি কে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়নি, তাঁদের নিজেদের  ঘরে ফেরার আইনী অধিকার কে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওই প্রবীণ দম্পতি কে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অত্যাচারী পুত্র ও পুত্রবধূকে ঘরছাড়া করবার নিদান দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের বেঞ্চ।এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের তরফে।গত সপ্তাহে এই মামলার এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আদালত সুত্রে প্রকাশ,  বাঁকুড়ার স্কুলডাঙ্গার বাসিন্দা আলি বুরহান ( ৭৭) এবং তাঁর স্ত্রী মমতাজ বিবি (৭৩) কে গতবছর ২০ মার্চ তাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের গুনধর পুত্র ও পুত্রবধূ।ছেলে আসমান আলি ও তার স্ত্রী খুসরো বানো কখনো বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেওয়া, আবার কখনো বা খাবার নিয়ে খোঁটা দেওয়া।পাশাপাশি পেনশনের টাকা চাওয়া সর্বপরি বাড়িটি লিখিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত ।অবসরপ্রাপ্ত জেলাপরিষদ কর্মী আলি বুরহান বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ কে লিখিতভাবে অভিযোগ এনেছিলেন গতবছর ১ নভেম্বর। ঘরছাড়া প্রবীণ দম্পতি তাদের মেয়ের বাড়িতে অর্থাৎ পুরুলিয়া শহরে স্টেশন রোডে আশ্রয় নেন।তবে পুত্র ও পুত্রবধূর অত্যাচারে সুবিচার চাওয়া বাঁকুড়া  পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অভিযোগপত্র অনুযায়ী বলে অভিযোগ। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সৌগত মিত্রের হাত ধরে নিজেদের অধিকার ফেরানোর জন্য পুলিশি নিস্ক্রিয়তার জন্য রিট পিটিশন দাখিল করে ছিলেন।গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে এই মামলায় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ কে এই প্রবীণ দম্পতি কে নিজ বাড়িতে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেওয়া এবং অত্যাচারী পুত্র ও পুত্রবধূকে ‘ঘরছাড়া’ করবার নির্দেশিকা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী সৌগত মিত্র। কলকাতা হাইকোর্টের এহেন অত্যাচারী পুত্র ও পুত্রবধূকে ঘরছাড়া করবার নির্দেশ প্রবীণ দম্পতিদের কাছে নিজ বাড়িতে থাকবার আইনী অধিকার কে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের আদেশনার চার দিনের মাথায় ঘরছাড়া প্রবীণ দম্পতি কে বাড়িতে পৌঁছে দিল বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। আজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পেরে খুশি আলি বুরহান ও তাঁর স্ত্রী। পুলিশ কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *