পুলিশ

লকডাউনেও অব্যাহত দুই বর্ধমানে বালিপাচার

লকডাউনেও অব্যাহত দুই বর্ধমানে বালিপাচার

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,

কিছুদিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামে অজয় নদের বালিঘাটে এক বৈধ ইজারাদার আব্দুল লালন জেলাশাসক কে চিঠি লিখে বেআইনী বালিলুটের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।তার অভিযোগ – ‘লকডাউনে বালিঘাটে বালি তোলার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন বিভিন্ন বালিঘাটে বালি তুলছে।এতে রাজ্য সরকারের যেমন রাজস্ব আদায়ে ক্ষতি হচ্ছে।ঠিক তেমনি বৈধ ইজারাদার অর্থাৎ বালিঘাট মালিকরাও বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের টেন্ডারের ঘাট থেকে আয় হতে’।যদিও জেলা পুলিশ ও প্রশাসন বালিপাচারের বিরুদ্ধে কখনো সখনোও অভিযান চালাচ্ছে।তবে সেটি চুনোপুঁটি ধরার মত বলে অনেকেরই অভিযোগ। বিভিন্ন সড়কপথে রাস্তাগুলি ওভারলোডিং গাড়ি যাতায়াতে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাদশাহী সড়ক অধুনা ৭ নং রাজ্য সড়কের নর্জা মোড় থেকে বর্ধমান সদর যাওয়ার রাস্তা টি এইরকম এক মরণফাঁদ রয়েছে। ছোটখাটো পথদুর্ঘটনা সর্বদা লেগেই আছে। মারণ ভাইরাস করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকার দু দফায় লকডাউন বহাল রেখে তৃতীয় দফাতেও আগামী ৩০ জুন অবধি লকডাউন চালু রেখেছে।বালি তোলার সরকারি ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।  সমস্ত গণপরিবহন পরিষেবা বন্ধ অর্থাৎ যাত্রীবাহী বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ বিভিন্ন সড়কপথে । গত একমাসে দু দফায় লকডাউন পর্বে বিভিন্ন সড়কপথে বেশকিছু থানা বালির গাড়িগুলিতে নজরদারি চালিয়ে চালক সহ বালির গাড়ি আটক করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর, গলসি, সদর বর্ধমান, ভাতার,মঙ্গলকোট পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা, কোকভেন থানার পুলিশ ৫০ এর বেশি বালির গাড়ি আটক করেছে।রাজ্য প্রশাসন সুত্রে প্রকাশ, চলতি  লকডাউনে বিভিন্ন সড়কপথে যততত্র ওভারলোডিং বালির গাড়ি চলাচল করায় ক্ষুব্ধ খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।তাই রাজ্য প্রশাসনের কড়া হুশিয়ারি পেয়ে তৎপর হয় দুই বর্ধমান জেলার পুলিশ। পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দামোদর, অজয়, ভাগীরথী নদীগুলি থেকে মূলত বালি পাচার হয়ে থাকে।যা দুর্গাপুর একপ্রেসওয়ে ধরে চলে যায় কলকাতা -হাওড়া সহ দুই চব্বিশ পরগনার বড় অংশে।দামোদর এবং অজয় নদের লালরঙ্গের বালির কদর বেড়েছে ইমারতি ব্যবসায়ীদের কাছে।বিভিন্ন লাইনহোটেলে আবার এইসব বালি পাওয়ার বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দেওয়া রয়েছে সাইনবোর্ডে।   মূলত মেমারির  পালসিট থেকে ডানকুনি টোলপ্লাজার উপর দিয়ে চলে শয়ে শয়ে বালি বোঝাই লরি/ডাম্পার।মেমারির ভেতর দিয়ে ( জিটি রোড)  পান্ডুয়া, কল্যাণী মোড় হয়ে চলে এইসব ওভারলোডিং বালির গাড়িগুলি বলে স্থানীয় সুত্রে প্রকাশ । বর্ধমান শহর সংলগ্ন সদরঘাট এলাকার বাঁকুড়া মোড়ে এইসব গাড়ির দৌরাত্ম্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে বলে জানা গেছে। কেতুগ্রামের অজয় নদের চরকি ব্রিজের নিচে চলছে বালি পাচার।তবে বেশিরভাগ গাড়িতে ত্রিপল ঢাকা থাকছে।তাই আলু – পেঁয়াজের গাড়ি না বালির গাড়ি তা বোঝা বড় দায়! সেইসাথে বিকেলের পর থেকে ভোর অবধি বিভিন্ন সড়কপথে লকডাউনের জন্য শুনশান রাস্তায় ছুটে চলছে বেআইনী বালির গাড়ি গুলি।লকডাউনে বিকেল থেকে ভোর পর্যন্ত রাস্তাঘাটে জনশূন্য পরিবেশ থাকায় বালি লুটেরাদের নিশ্চিন্তে ব্যবসা চলছে একপ্রকার। রাতের দিকে জেনারেটর চালিয়ে দামোদর, অজয়, ভাগীরথী নদের উপকূলে চলছে দশকশতক ব্যক্তির ঘেরাটোপে চলছে বালিলুট।মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে সম্প্রতি জেনে পুলিশ ও প্রশাসন কে কড়া অবস্থান নিতে বলেন। এরপরেই তৎপরতা দেখা যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর, গলসি,সদর বর্ধমান, ভাতার, মঙ্গলকোট থানা গুলিতে। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা, কোকভেন থানাও একের পর এক বালিভর্তি ট্রাক,লরি,ডাম্পার আটক করে থাকে । সেইসাথে বালিঘাটে চালান (রশিদ) না থাকায় গাড়ি চালকদের গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করে থাকে। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে – ‘লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে বিভিন্ন সড়কপথে বেশিরভাগ সময়ই পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে।সেইসাথে আটক করা হচ্ছে একের পর এক বালির গাড়ি’। বিভিন্ন সড়কপথে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা গুলির কার্যকারিতা নিয়েও উঠেছে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামে অজয় নদের বৈধ ইজারাদার আব্দুল লালন জেলাশাসক কে চিঠি লিখে বেআইনী বালিপাচার রুখতে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। যা নিয়ে লকডাউনে বালিপাচার কতটা সক্রিয় তার স্পষ্ট ইংগিত মিললো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *