প্রশাসন

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ উপাচার্যের উদ্যোগে কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গৌতম পালের উদ্যোগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালন করা হল

সংবাদদাতা, কল্যাণী: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গৌতম পালের উদ্যোগে ২২ শ্রাবণ, শুক্রবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালন করা হল। সহ-উপাচার্য ড. গৌতম কুমার পালের উপস্থিতিতে শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষাকর্মীবৃন্দের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালিত হয়। করোনা কালীন মুহূর্তে সমস্ত বিধি মেনে এই আয়োজন ছিল অভিনব। প্রথমে সহ-উপাচার্যের দফতরে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সামনে রবীন্দ্র আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন সহ উপাচার্য গৌতম পাল।

বিশিষ্ট’দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়েবকুপা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নন্দকুমার ঘোষ ও ড. সুজয় কুমার মণ্ডল। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালনের ক্ষেত্রে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছিল। গতবছর এই দিনেই শিক্ষকদের মতামত না নিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার প্রথা চালু করে মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের পরাধীনতার শৃঙ্খলে বাঁধতে চেয়েছিলন উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ। সমস্ত শিক্ষক শক্তি এই অভিসন্ধিকে রুখে দিয়েছিল।
সবচেয়ে হাস্যকর ঘটনাটি হল গতবছর বাইশে শ্রাবণ অর্থাৎ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসের দিন বায়োমেট্রিক দিবস পালনের প্রথা চালু করেছিলেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মহলে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সূত্রমতে, সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলা বিভাগে বায়োমেট্রিক মেশিন গুলো চালু করার সূত্রে বায়োমেট্রিক দিবস পালিত হয়। অর্থাৎ এই বায়োমেট্রিক দিবস পালনের সূত্র ধরেই শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং আধিকারিকদের উপস্থিতি বা হাজিরার রেকর্ড রাখার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার প্রথার সূচনা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষকদের স্বাধীনতা হরণকারী এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষকেরা বড় আন্দোলন সংঘঠিত করেছিলেন। এই আন্দোলনের প্রভাব এতটাই ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বাদে বেশিরভাগ শিক্ষকই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নানান প্রশাসনিক পদ থেকে গণহারে পদত্যাগ করেছিলেন। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরার প্রথা চালু করতে পারেননি প্রশাসন। বায়োমেট্রিক দিবস পালন নিয়ে সংবাদপত্রেও সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। শিক্ষক ও আধিকারিকদের অনেকেই খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন বাইশে শ্রাবণের সঙ্গে বায়োমেট্রিকের সম্পর্ক কোথায়!
জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাণ্ড থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলি ক্রয় করা হয়েছিল। আর বর্তমানে এই যন্ত্রগুলি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়েই। এর জন্য অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এভাবে কেন জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করা হলো? গতবছরে এই আবহেই আজ পালন হল কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।

এদিকে এবছরের কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালনের জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোন ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বা দিবসটি পালনের জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই‌ খামতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গৌতম পাল তাঁর দফতরের উদ্যোগে পূরণ করেন। এর জন্য শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *