ক্রীড়া সংস্কৃতি

বিলুপ্তির পথে – স্নেহাশিস চক্রবর্তী

বিলুপ্তির পথে

স্নেহাশিস চক্রবর্তী

‘পুলিশ তুমি যতই মারো
তোমার মাইনে ১১২।’

এই শ্লোগান মুখরিত হয়েছে রাজপথে কি কংগ্রেসি আমলে কি বাম আমলে। আসলে, এই ছোট্ট কথাটির মাঝে ‘আমার অধীনস্ত’ শব্দটি সু কৌশলে প্রযুক্ত করা হয়েছে। সংসদীয় গনতন্ত্রে সরকারে আসীন রাজনৈতিক দল যখন সদর্থকভাবে জনগনের সামনে এসে দাঁড়াতে পারে না, তখনই তারা পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে সন্ত্রস্ত করে রাখতে চায়। খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মার খেয়ে মার হজম করে। অপেক্ষায় থাকে, একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য। হ্যাঁ, পরিবর্তন এসেছে সরকারের, কিন্তু রাজা সেই দুরাচারীই রয়ে যান। এই গনতন্ত্রে আর যাই এসে থাকুক, মানুষ বাড়ে নি দেশে, শুধুই সংখ্যা বেড়েছে, এটি বারেবারেই প্রমাণিত।

২০২০ – ‘বিষ বছর’ – সন্দেহ নেই। এই ‘বিষ বছরকে’ অত্যন্ত অপ্রাপ্তমনস্কতার পরিচয় দিয়ে ভারত সরকার ও পশ্চিমবাংলা সরকার উভয়েই নিজেদের উলঙ্গ রূপ আমাদের প্রদর্শন করেছেন।

চরম দক্ষিণপন্থী পুঁজিবাদী দলের সরকার, আমেরিকার দাক্ষিণ্য পাওয়ার আশায় ভারতে ( অন্তত ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত) কোরোনা অতিমারিকে অতি তুচ্ছ জ্ঞান করে প্রাথমিক এক অব্যস্থায় অবশ্যই ফেলে দিয়েছে আমাদেরকে।

দ্বিতীয়ত, ভারত যখন দীর্ঘ ৬৮ দিনের লকডাউনের ছুটি কাটাচ্ছে, তখন পশ্চিমবাংলাতে সরকার বাহাদূর শুধুমাত্র চক দিয়ে রাস্তা দাগ দিয়ে গেলেন, অপদার্থতার চূড়ান্ত বললেও কম বলা হবে।

আর আজ দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সরকারপক্ষের সেই পুরোনো খেলা পুলিশ দিয়ে সরকারী বনধ করানো হচ্ছে, সরকারের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দেখছে বাংলার জনগণ, মরতে মরতে ধুঁকতে ধুঁকতে।

শিরদাঁড়া আজ নুব্জ, তাই জনগনের উত্থানের সম্ভাবনা নেই প্রায়। হয়তো ২০২১ ভোটবাক্স আমাদের অপেক্ষায় রাখছে সমবেত জনগণের অভিমত জানার।

পরস্মৈপদী বাঙালি, সে পুলিশই হোক বা সাধারণ জনগনণই হোন – একটি প্রজাতিকে বা জাতিসত্তাকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে আপনারা বাধ্য করলেন।

ইতিহাস হয়ে থাক বাঙালি জাতি। ধন্যবাদ সরকার বাহাদূর, ধন্যবাদ জনগণ। খুব সুখের হোক আগামী, চলুন আমরা বিলুপ্ত হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *