রাজনীতি

ধনকড় অপসারণ কর্মসূচিতে জাতীয়মুখ কি মহুয়া মৈত্র?

রাজ্যপাল অপসারণ কর্মসূচিতে জাতীয়মুখ কি মহুয়া?

ওয়াসিম বারি, সহ সম্পাদক,
তৃনমূল শাসনকালে রাজভবনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জগদীশ ধনকড় রাজ্যপাল হিসাবে সর্বদা আলোচিত হচ্ছেন। ঘনঘন সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে রাজ্যের সমালোচনা করা, কিংবা মুখ্যসচিব – ডিজির কাছে রিপোর্ট তলব করা।সর্বদায় খবরের শিরোনামে এই রাজ্যপাল। এমনকি একুশে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের পরেও একই অবস্থানে রাজ্যপাল। নারদা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারিতে সিবিআই কে অনুমতি দেওয়া কিংবা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের সম্ভাবনা উসকে দিয়ে শাসক দল তৃণমূলের কাছে দু নয়ণের বিষ এই ধনকড়।কখনো সুখেন্দুশেখর রায় কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট হিসাবে রাজ্যপাল কে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো বা আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল কে পাগল বলে উপহাস করেছেন।ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ধারাবাহিকভাবে রাজ্যপালের সমালোচনা করে চলেছেন। কখনো রাজভবনে কর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ, আবার কখনোবা রাজ্যপালের দিল্লি যাত্রায় আঙ্কেলজি কে বাংলা না ফেরার বার্তা।জাতীয়স্তরে মিডিয়ার কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তৃণমূল সাংসদ  মহুয়া মৈত্র। ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষায় সাবলীল এই সাংসদ  কে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জাতীয় স্তরের নেত্রী হিসাবে তুলে ধরতে ‘দায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছে বলে বিশেষ সুত্রে প্রকাশ। বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের কট্টর সমালোচক হিসাবে যেভাবে রাজ্যপাল ভূমিকা নিচ্ছেন তাতে রাজ্যপাল কে ধারাবাহিক পাল্টা জবাব দেওয়া অর্থাৎ ‘ধনকড় অপসারণ’ কর্মসূচি পালনে তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরমহলে। ২০২৪ সালে জুলাই মাসে রাজ্যপাল হিসাবে অবসর নেবেন রাজ্যপাল। তার আগেই লোকসভার নির্বাচন। তাই বাংলার মাটিতে  বিজেপির বাড়বাড়ন্ত রুখতে রাজ্যপাল অপসারণ জরুরি বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই রাস্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে রাজ্যপাল অপসারণ এর জন্য। এখন দেখার মহুয়া মৈত্র ধারাবাহিকভাবে রাজ্যপাল অপসারণ কর্মসূচিতে জাতীয় স্তরে তৃণমূলের পক্ষে কতটা মাটি শক্ত করতে পারেন? 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *